মিতুকে আগেও একবার হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল
jugantor
মিতুকে আগেও একবার হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ মে ২০২১, ১৫:০৫:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে ৫ বছর আগে চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলায় একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে। মামলার বাদীমিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারই এখন প্রধান আসামি হয়ে এখন রিমান্ডে।

জিজ্ঞাসাবাদে তেমন একটা মুখ খুলছেন না বাবুল - মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা এমনটাই জানিয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একজন গণমাধ্যমকে বলেছেন, নানা প্রশ্নের জেরায় বাবুল আকতার শুধু এটুকু বলছেন, ‘সবই তো জানেন, আমি কী বলব।’

এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন এক তথ্য। মিতুকে আগেও একবার হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। খুন হওয়ার মাসখানেক আগে মিতুকে হত্যার ছক আঁকা হয়।

ওই সময় প্রশিক্ষণ নিতে চীনে অবস্থান করছিলেন বাবুল। সে সময় মিতুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া পরিকল্পনা আঁটা হয়। তবে খুনের ওই পরিকল্পনা তখন ‘সফল’ হয়নি।

পিবিআইর একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।

মিতুর স্বামী তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার তখন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ঢাকা থেকে এসে তিনি নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি জঙ্গিদের দায়ী করেছিলেন।

কিন্তু পাঁচ বছর পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে, স্বামী বাবুল আকতারের পরিকল্পনাতেই ভাড়াটে খুনিদের হাতে প্রাণ গেছে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর। এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে নিজের পরকীয়ার ঘটনা জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবুল। কর্মজীবনে নিজের বিশ্বস্ত একাধিক সোর্সের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।

এ জন্য ভাড়াটে খুনিদের পরিশোধ করেছিলেন তিন লাখ টাকা!

নানা ঘটনার পরম্পরা বিশ্লেষণ করে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারই নাটের গুরু ছিলেন বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। যদিও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল আকতার এ বিষয়ে রোববার পর্যন্ত মুখ খোলেননি। ভুল তথ্য দিয়ে তিনি তদন্ত সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, ‘বাবুল আকতার জিজ্ঞাসাবাদকারী টিমকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল আকতারের সন্তানের সঙ্গে কথা বলতে চান তারা। যে এনজিও কর্মীর সঙ্গে বাবুল আকতারের পরকীয়া ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই এনজিও কর্মী ও তার গৃহকর্মীর সঙ্গে কথা বলবেন তারা। হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী মুসাকেও আইনের আওতায় আনতে তাদের টিম নতুন করে কাজ করছে।’

বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশারফ হোসেনের দায়ের করা নতুন মামলায় ৮জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় নিহত মিতুর স্বামী ও চাকরিচ্যুত পুলিশ সুপার বাবুল আকতারকে (৪৫)। অন্য আসামিরা হলেন : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যম ঘাগড়া এলাকার মৃত শাহ আলম সিকদারের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা (৪০), নগরীর বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়া (৪১), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর (গলাচিপা) এলাকার আব্দুল নবীর ছেলে মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম (২৭), ফটিকছড়ি উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া পাইড্রালিকুল এলাকার সামছুল আলমের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু (২৮), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যমঘাগড়া রানীহাট এলাকার মৃত শাহ আলম সিকদারের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকু (৪৫) ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঘাগড়াকুল রানীরহাট এলাকার মৃত কবির আহম্মদের ছেলে শাহজাহান মিয়া (২৮)। এদের মধ্যে গ্রেফতার আছেন বাবুল আকতারসহ পাঁচজন।

পালিয়ে থাকা তিন আসামি যাতে দেশ ত্যাগ করতে না-পারে, সেজন্য দেশের সব বিমানবন্দর ও সীমান্তে চিঠি দিয়েছে পিবিআই।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর আছি। এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে বাকি তিন আসামি যাতে দেশ ত্যাগ করতে না-পারে, সেজন্য গত বৃহস্পতিবার দেশের সব বিমানবন্দরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মিতু হত্যার পরদিনই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন বাবুল।

ঘটনার শুরু থেকে বাবুল আক্তারের করা মামলাটি তদন্ত করে আসছিল চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। খুনের ১০ দিনের মাথায় এ মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের মধ্যে দুজন ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে জবানবন্দি দেন যে, তারা বাবুলের ঘনিষ্ঠ সোর্স কামরুল শিকদার মুছার নির্দেশে মিতুকে খুন করেন।

ওই সময় মিতু হত্যায় জড়িত সন্দেহে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন মুছার দুই সহযোগী নুরুন্নবী ও নুরুল ইসলাম। আর ঘটনার পর থেকেই মুছা নিখোঁজ হয়ে যান। যদিও মুছার স্ত্রী পান্না আকতার সম্প্রতি দাবি করেছেন, তার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে মিতু হত্যার কয়েকদিন পরই। এদিকে পুলিশে খাতায় মুছা পলাতক আসামি।

পান্নার দাবি, মিতু হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর আদালতে আত্মসমর্পন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মুসা। ২২ জুন আদালতে যাবেন বলেও জানান। কিন্তু ওইদিন সকাল সাড়ে ৬টায় পুলিশ এসে মুছাকে তুলে নিয়ে যায়।

পান্না বলেছেন, পাঁচ বছর আগে যে পুলিশ কর্মকর্তা মুছাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান, তাকে এখনও দেখলে চিনবেন তিনি। ওই পুলিশ কর্মকর্তা এখনো বাহিনীতে আছেন।

গণমাধ্যমকে পান্না আরো বলেছেন, পুলিশ তুলে নিয়ে যাবার আগে মুছা ফোনে কাকে যেন বলছিলেন, ‘আমি সমস্যায় পড়ে গেছি। আপনার কথায় বিশ্বাস করে কাজ করেছি। আমার পরিবারের কিছু হলে মুখ খুলতে বাধ্য হব স্যার’।

পান্নার এই বক্তব্যে মিতু হত্যাকাণ্ডে আরো এক রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। মুছাকে সেদিন পুলিশের পোশাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল? ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কাকে ফোনে স্যার সম্বোধন করে মুখ খুলতে বাধ্য হবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি?

এদিকে পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মুছাকে আর পাওয়া যায়নি। তাকে ধরা যায়নি। বরং তার দেশত্যাগ ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিমান ও স্থলবন্দরে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে নির্দেশ এখনও অপরিবর্তনীয়।

এ বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেছেন, ‘মুছার সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। তাকে পাওয়া গেলে অনেক কিছু খোলাসা হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করা হবে।’

শুধু মুছাই নয়, বাবুলের দুই সন্তানের খোঁজেও নেমেছে পুলিশ। রিমান্ডে সন্তানদের খোঁজ দিতে রাজি হচ্ছেন না তিনি।

প্রথমে পুলিশকে মিথ্যা ঠিকানা দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন বাবুল। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, বাবুল আকতারের বাসার ঠিকানা লেভেল-৭, সড়ক নম্বর ১১, বাসা নম্বর ২২, ব্লক সি, বাবর রোড। কিন্তু মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে এই হোল্ডিং নম্বরের বাসার অস্তিত্বই পায়নি পুলিশ।

বাবুল কেন পিবিআইকে মিথ্যা ঠিকানা দিলেন - এ প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, দুই সন্তানকে এসব ঝামেলা থেকে নিরাপদ রাখতে বাবুল এমনটা করে থাকতে পারেন।

মিতু হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী বাবুলের ছেলে। তখন তার বয়স ছিল ৭। অর্থাৎ বর্তমানে ১২। সেই ছেলেকে পেলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা পিবিআইয়ের কর্মকর্তাদের।

এদিকে বাবুল-মিতুর দুই সন্তানকে নিজেদের জিম্মায় নিতে চান তাদের নানা মোশাররফ হোসেন।

নাতি-নাতনিকে নিজেদের জিম্মায় চেয়ে রোববার আদালতে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কিন্তু নাতি-নাতনি কোথায় তা তিনি জানেন না। পুলিশও দিতে পারছেন না খোঁজ।

এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মা মারা যাওয়ার পর তারা আমাদের বাসায় ছিল। পরে বাবুল তাদের নিয়ে যায়। এখন বাবাও পুলিশের হাতে গ্রেফতার। তাদের দেখাশোনার জন্য বিশ্বস্ত কেউ নেই। আমরা নানা-নানি তাদের দেখাশোনা করব।’মিতুকে আগেও একবার হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল

মিতুকে আগেও একবার হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ মে ২০২১, ০৩:০৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে ৫ বছর আগে চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলায় একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে। মামলার বাদী মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারই এখন প্রধান আসামি হয়ে এখন রিমান্ডে।

জিজ্ঞাসাবাদে তেমন একটা মুখ খুলছেন না বাবুল - মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা এমনটাই জানিয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একজন গণমাধ্যমকে বলেছেন, নানা প্রশ্নের জেরায় বাবুল আকতার শুধু এটুকু বলছেন, ‘সবই তো জানেন, আমি কী বলব।’

এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন এক তথ্য। মিতুকে আগেও একবার হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। খুন হওয়ার মাসখানেক আগে মিতুকে হত্যার ছক আঁকা হয়। 

ওই সময় প্রশিক্ষণ নিতে চীনে অবস্থান করছিলেন বাবুল। সে সময় মিতুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া পরিকল্পনা আঁটা হয়। তবে খুনের ওই পরিকল্পনা তখন ‘সফল’ হয়নি। 

পিবিআইর একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। 

মিতুর স্বামী তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার তখন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ঢাকা থেকে এসে তিনি নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি জঙ্গিদের দায়ী করেছিলেন। 

কিন্তু পাঁচ বছর পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে, স্বামী বাবুল আকতারের পরিকল্পনাতেই ভাড়াটে খুনিদের হাতে প্রাণ গেছে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর। এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে নিজের পরকীয়ার ঘটনা জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবুল। কর্মজীবনে নিজের বিশ্বস্ত একাধিক সোর্সের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।

এ জন্য ভাড়াটে খুনিদের পরিশোধ করেছিলেন তিন লাখ টাকা!

নানা ঘটনার পরম্পরা বিশ্লেষণ করে মিতু হত্যায় বাবুল আকতারই নাটের গুরু ছিলেন বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। যদিও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল আকতার এ বিষয়ে রোববার পর্যন্ত মুখ খোলেননি। ভুল তথ্য দিয়ে তিনি তদন্ত সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, ‘বাবুল আকতার জিজ্ঞাসাবাদকারী টিমকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল আকতারের সন্তানের সঙ্গে কথা বলতে চান তারা। যে এনজিও কর্মীর সঙ্গে বাবুল আকতারের পরকীয়া ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই এনজিও কর্মী ও তার গৃহকর্মীর সঙ্গে কথা বলবেন তারা। হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী মুসাকেও আইনের আওতায় আনতে তাদের টিম নতুন করে কাজ করছে।’

বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশারফ হোসেনের দায়ের করা নতুন মামলায় ৮জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় নিহত মিতুর স্বামী ও চাকরিচ্যুত পুলিশ সুপার বাবুল আকতারকে (৪৫)। অন্য আসামিরা হলেন : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যম ঘাগড়া এলাকার মৃত শাহ আলম সিকদারের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা (৪০), নগরীর বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়া (৪১), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর (গলাচিপা) এলাকার আব্দুল নবীর ছেলে মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম (২৭), ফটিকছড়ি উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া পাইড্রালিকুল এলাকার সামছুল আলমের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু (২৮), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যমঘাগড়া রানীহাট এলাকার মৃত শাহ আলম সিকদারের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকু (৪৫) ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঘাগড়াকুল রানীরহাট এলাকার মৃত কবির আহম্মদের ছেলে শাহজাহান মিয়া (২৮)। এদের মধ্যে গ্রেফতার আছেন বাবুল আকতারসহ পাঁচজন।

পালিয়ে থাকা তিন আসামি যাতে দেশ ত্যাগ করতে না-পারে, সেজন্য দেশের সব বিমানবন্দর ও সীমান্তে চিঠি দিয়েছে পিবিআই।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর আছি। এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে বাকি তিন আসামি যাতে দেশ ত্যাগ করতে না-পারে, সেজন্য গত বৃহস্পতিবার দেশের সব বিমানবন্দরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মিতু হত্যার পরদিনই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন বাবুল।

ঘটনার শুরু থেকে বাবুল আক্তারের করা মামলাটি তদন্ত করে আসছিল চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। খুনের ১০ দিনের মাথায় এ মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের মধ্যে দুজন ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে জবানবন্দি দেন যে, তারা বাবুলের ঘনিষ্ঠ সোর্স কামরুল শিকদার মুছার নির্দেশে মিতুকে খুন করেন। 

ওই সময় মিতু হত্যায় জড়িত সন্দেহে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন মুছার দুই সহযোগী নুরুন্নবী ও নুরুল ইসলাম। আর ঘটনার পর থেকেই মুছা নিখোঁজ হয়ে যান। যদিও মুছার স্ত্রী পান্না আকতার সম্প্রতি দাবি করেছেন, তার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে মিতু হত্যার কয়েকদিন পরই। এদিকে পুলিশে খাতায় মুছা পলাতক আসামি।

পান্নার দাবি, মিতু হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর আদালতে আত্মসমর্পন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মুসা। ২২ জুন আদালতে যাবেন বলেও জানান। কিন্তু ওইদিন সকাল সাড়ে ৬টায় পুলিশ এসে মুছাকে তুলে নিয়ে যায়।  

পান্না বলেছেন, পাঁচ বছর আগে যে পুলিশ কর্মকর্তা মুছাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান, তাকে এখনও দেখলে চিনবেন তিনি। ওই পুলিশ কর্মকর্তা এখনো বাহিনীতে আছেন। 

গণমাধ্যমকে পান্না আরো বলেছেন, পুলিশ তুলে নিয়ে যাবার আগে মুছা ফোনে কাকে যেন বলছিলেন, ‘আমি সমস্যায় পড়ে গেছি। আপনার কথায় বিশ্বাস করে কাজ করেছি। আমার পরিবারের কিছু হলে মুখ খুলতে বাধ্য হব স্যার’।

পান্নার এই বক্তব্যে মিতু হত্যাকাণ্ডে আরো এক রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। মুছাকে সেদিন পুলিশের পোশাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল? ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কাকে ফোনে স্যার সম্বোধন করে মুখ খুলতে বাধ্য হবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি?

এদিকে পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মুছাকে আর পাওয়া যায়নি। তাকে ধরা যায়নি। বরং তার দেশত্যাগ ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিমান ও স্থলবন্দরে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে নির্দেশ এখনও অপরিবর্তনীয়।

এ বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেছেন,  ‘মুছার সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। তাকে পাওয়া গেলে অনেক কিছু খোলাসা হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করা হবে।’

শুধু মুছাই নয়, বাবুলের দুই সন্তানের খোঁজেও নেমেছে পুলিশ। রিমান্ডে সন্তানদের খোঁজ দিতে রাজি হচ্ছেন না তিনি।

প্রথমে পুলিশকে মিথ্যা ঠিকানা দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন বাবুল। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, বাবুল আকতারের বাসার ঠিকানা লেভেল-৭, সড়ক নম্বর ১১, বাসা নম্বর ২২, ব্লক সি, বাবর রোড। কিন্তু মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে এই হোল্ডিং নম্বরের বাসার অস্তিত্বই পায়নি পুলিশ। 

বাবুল কেন পিবিআইকে মিথ্যা ঠিকানা দিলেন - এ প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, দুই সন্তানকে এসব ঝামেলা থেকে নিরাপদ রাখতে বাবুল এমনটা করে থাকতে পারেন।

মিতু হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী বাবুলের ছেলে। তখন তার বয়স ছিল ৭। অর্থাৎ বর্তমানে ১২। সেই ছেলেকে পেলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা পিবিআইয়ের কর্মকর্তাদের।

এদিকে বাবুল-মিতুর দুই সন্তানকে নিজেদের জিম্মায় নিতে চান তাদের নানা মোশাররফ হোসেন।

নাতি-নাতনিকে নিজেদের জিম্মায় চেয়ে রোববার আদালতে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কিন্তু নাতি-নাতনি কোথায় তা তিনি জানেন না। পুলিশও দিতে পারছেন না খোঁজ। 

এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মা মারা যাওয়ার পর তারা আমাদের বাসায় ছিল। পরে বাবুল তাদের নিয়ে যায়। এখন বাবাও পুলিশের হাতে গ্রেফতার। তাদের দেখাশোনার জন্য বিশ্বস্ত কেউ নেই। আমরা নানা-নানি তাদের দেখাশোনা করব।’মিতুকে আগেও একবার হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন