পরীমনির অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন গুলশানের ক্লাবের প্রেসিডেন্ট
jugantor
পরীমনির অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন গুলশানের ক্লাবের প্রেসিডেন্ট

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ জুন ২০২১, ১২:৪১:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনার দুদিন আগে পরীমনি ঢাকার ওই ক্লাবে তাণ্ডব চালান বলে অভিযোগ ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল।

হঠাৎ পরীমনি বিরুদ্ধে উঠা এই অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অনেকে পরীমনির বেপরোয়া জীবন যাপন নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। তার রাত বিরাতে বার-রেস্তোরাঁয় আড্ডার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

অবশ্য পরীমনি বলছেন ভিন্ন কথা। বাংলা সিনেমার এই নায়িকা মনে করেন, মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এই সময়ে তার বিরুদ্ধে ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্লাবে ভাঙচুর হয়েছে কবে, এতদিনে কেন এই অভিযোগ-প্রশ্ন তোলেন নায়িকা।

পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টার নায়ক ব্যবসায়ী নাসির গ্রেফতার হওয়ায় এখন তার পক্ষ নিয়ে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন পরীমনি। কারণ নাসির এই ক্লাবেরও মেম্বার। এমন অভিযোগের উত্তরে অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আলমগীর বলেন, এ রকম হওয়ার তো কোনো কারণ নাই। আমরা উনার (পরীমনি) ব্যাপারে কথা বলতেও রাজি না। আপনারা জানতে চেয়েছেন- কী ঘটেছিল? সেই জায়গা থেকে ব্যাখ্যা করেছি। আমাদের আর কিছু করার দরকারও নাই।

আলমগীর জানান, পরীমনির বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নাই। ‘এমন কিছু তো করেন নাই উনি। কয়েকটা প্লেট ভেঙেছেন, সেটা যেই মেম্বারের অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন সেই মেম্বারই দিতে পারতেন। ক্লাবের মেম্বারের সঙ্গে যারা ক্লাবে আসেন তারা শুধু মেম্বারেরই নন, ক্লাবেরও অতিথি। ’

তবে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে পরীমনি সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন রেখেছেন- সেদিন ক্লাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে তা আটদিন পর কেন প্রকাশ করা হল?

এ বিষয়ে আলমগীরের ভাষ্য, আমরা তো কোনো ভিডিও করিনি। কিছুই করিনি। উনি ট্রিপল নাইনে কল করে পুলিশ এনেছিলেন, পুলিশ সম্ভবত অনর্থক আনার জন্য নিজেরাই জিডি করেছে। বিষয়টি আমরা জানিই না। কালকেও সাংবাদিকরা এসেছিলেন, আমরা তো এটাও করিনি। সাংবাদিকরা জানতে চাইছে বলে জানিয়ে দিলাম।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পরীমনির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর বলেন, সে রকম কোনো ইচ্ছা কিংবা পরিকল্পনা তাদের নেই।

‘ছোট একটা বিষয়। যা হবার তা হয়ে গেছে ওইদিন। আমরা কার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব? কেন নেব? আল্লাহ মানুষের ইজ্জত দিয়েছেন, আল্লাহই সেটা রক্ষা করবেন। উনি টুকটাক ভুল করেছিলেন। সেটা নিয়ে আমাদের কোনো দাবিও নেই, কথাও নেই।’

অল কমিউনিটি ক্লাবে পরীমনি যাওয়ার পরের রাতেই উত্তরার পাশে বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। তার চার দিন পর তিনি প্রথমে ফেইসবুকে অভিযোগ করেন, ওই ক্লাবে তিনি ‘ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার’ শিকার হয়েছিলেন।

পরীমনির মামলায় তুমুল আলোচনার মধ্যে ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ গ্রেফতার হওয়ার দুদিন পর বুধবার অল কমিউনিটি ক্লাবের সভাপতি, ব্যবসায়ী কে এম আলমগীর ইকবাল অভিযোগ করেন, গত ৭ জুন মধ্যরাতে পরী মনি ও তার সঙ্গীরা ক্লাবে এসে হাঙ্গামা বাঁধিয়েছিলেন।

ঘটনার বর্ণনায় ক্লাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর বলেন, তারপর যেই সদস্যের মাধ্যমে উনারা এসেছিলেন উনিও তাদের চলে যাওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করেন। কিন্তু উনারা যাচ্ছিলেন না বিধায় ওই সদস্যও চলে যান। এরপর উনারা (পরীমনি ও সঙ্গীরা) অকস্মাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে যান, চেঁচামেচি শুরু করেন এবং গ্লাস, স্ট্রে ছুড়ে মারতে থাকেন। তখন আর কেউ ছিলেনও না ক্লাবে। দুজন ওয়েটার ছিলেন আর এ তিন-চারজন মানুষ ছিলেন। একপর্যায়ে তারা ট্রিপল নাইনে কল করেন। পুলিশ আসার পর তারা দেখতে পান, উনি ওগুলো ছুড়ে মারছেন। তখন পুলিশ তাদের জিজ্ঞেস করে আপনারা কেন এসেছেন, কেন আমাদের কল করেছেন? তখন তারা বলেন, আমাদের হেনস্তা করা হয়েছে। তখন পুলিশ ভাইয়েরা বলেন, কিছুতো দেখছি না। তারপর পুলিশ সদস্যরা ওয়াকিটকির মাধ্যমে উপরে (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা) জানতে চান আমরা কি করব। তখন উপর থেকে নির্দেশ আসে উনারা এমন করলে তাদের বের করে দিয়ে আপনারা চলে যান। ওয়াকিটকির সেই আওয়াজ সবাই শুনতে পাচ্ছিলেন। এরপর তারা কিছুটা ঠাণ্ডা হন ও পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। এরপর আর কিছু ঘটেনি। তিনি বলেন, আমরা উনাদের কাউকে চিনতামও না জানতামও না। পরে আমরা শুনেছি উনাদের একজনের নাম পরীমনি।

ক্লাব প্রেসিডেন্ট কেএম আলমগীর ইকবাল বলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ যেই সদস্যের মাধ্যমে এসেছিল তাকে শোকজ করেছে। তার বিরুদ্ধে ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এটা চলমান অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, যেই সদস্য ক্লাবের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান তাকে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী তাকে শাস্তি প্রদান করি। তাকে শোকজ, শোকজ গৃহীত না হলে, ৩ মাস, ৬ মাস এবং সদস্যপদ স্থগিতও করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরীমনি এটিকে ‘ফালতু অভিযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।

পরীমনির অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন গুলশানের ক্লাবের প্রেসিডেন্ট

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ জুন ২০২১, ১২:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।  ওই ঘটনার দুদিন আগে পরীমনি ঢাকার ওই ক্লাবে তাণ্ডব চালান বলে অভিযোগ ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল।

হঠাৎ পরীমনি বিরুদ্ধে উঠা এই অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।  অনেকে পরীমনির বেপরোয়া জীবন যাপন নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন।  তার রাত বিরাতে বার-রেস্তোরাঁয় আড্ডার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। 

অবশ্য পরীমনি বলছেন ভিন্ন কথা।  বাংলা সিনেমার এই নায়িকা মনে করেন, মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এই সময়ে তার বিরুদ্ধে ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।  ক্লাবে ভাঙচুর হয়েছে কবে, এতদিনে কেন এই অভিযোগ-প্রশ্ন তোলেন নায়িকা।  

পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টার নায়ক ব্যবসায়ী নাসির গ্রেফতার হওয়ায় এখন তার পক্ষ নিয়ে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন পরীমনি।  কারণ নাসির এই ক্লাবেরও মেম্বার।  এমন অভিযোগের উত্তরে অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আলমগীর বলেন, এ রকম হওয়ার তো কোনো কারণ নাই।  আমরা উনার (পরীমনি) ব্যাপারে কথা বলতেও রাজি না।  আপনারা জানতে চেয়েছেন- কী ঘটেছিল? সেই জায়গা থেকে ব্যাখ্যা করেছি। আমাদের আর কিছু করার দরকারও নাই।

আলমগীর জানান, পরীমনির বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নাই।  ‘এমন কিছু তো করেন নাই উনি।  কয়েকটা প্লেট ভেঙেছেন, সেটা যেই মেম্বারের অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন সেই মেম্বারই দিতে পারতেন।  ক্লাবের মেম্বারের সঙ্গে যারা ক্লাবে আসেন তারা শুধু মেম্বারেরই নন, ক্লাবেরও অতিথি। ’

তবে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে পরীমনি সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন রেখেছেন- সেদিন ক্লাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে তা আটদিন পর কেন প্রকাশ করা হল?

এ বিষয়ে আলমগীরের ভাষ্য, আমরা তো কোনো ভিডিও করিনি।  কিছুই করিনি।  উনি ট্রিপল নাইনে কল করে পুলিশ এনেছিলেন, পুলিশ সম্ভবত অনর্থক আনার জন্য নিজেরাই জিডি করেছে। বিষয়টি আমরা জানিই না। কালকেও সাংবাদিকরা এসেছিলেন, আমরা তো এটাও করিনি। সাংবাদিকরা জানতে চাইছে বলে জানিয়ে দিলাম।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পরীমনির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর বলেন, সে রকম কোনো ইচ্ছা কিংবা পরিকল্পনা তাদের নেই।

‘ছোট একটা বিষয়। যা হবার তা হয়ে গেছে ওইদিন। আমরা কার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব? কেন নেব? আল্লাহ মানুষের ইজ্জত দিয়েছেন, আল্লাহই সেটা রক্ষা করবেন। উনি টুকটাক ভুল করেছিলেন। সেটা নিয়ে আমাদের কোনো দাবিও নেই, কথাও নেই।’

অল কমিউনিটি ক্লাবে পরীমনি যাওয়ার পরের রাতেই উত্তরার পাশে বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। তার চার দিন পর তিনি প্রথমে ফেইসবুকে অভিযোগ করেন, ওই ক্লাবে তিনি ‘ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার’ শিকার হয়েছিলেন।

পরীমনির মামলায় তুমুল আলোচনার মধ্যে ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ গ্রেফতার হওয়ার দুদিন পর বুধবার অল কমিউনিটি ক্লাবের সভাপতি, ব্যবসায়ী কে এম আলমগীর ইকবাল অভিযোগ করেন, গত ৭ জুন মধ্যরাতে পরী মনি ও তার সঙ্গীরা ক্লাবে এসে হাঙ্গামা বাঁধিয়েছিলেন।

ঘটনার বর্ণনায় ক্লাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর বলেন, তারপর যেই সদস্যের মাধ্যমে উনারা এসেছিলেন উনিও তাদের চলে যাওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করেন। কিন্তু উনারা যাচ্ছিলেন না বিধায় ওই সদস্যও চলে যান। এরপর উনারা (পরীমনি ও সঙ্গীরা) অকস্মাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে যান, চেঁচামেচি শুরু করেন এবং গ্লাস, স্ট্রে ছুড়ে মারতে থাকেন। তখন আর কেউ ছিলেনও না ক্লাবে। দুজন ওয়েটার ছিলেন আর এ তিন-চারজন মানুষ ছিলেন। একপর্যায়ে তারা ট্রিপল নাইনে কল করেন। পুলিশ আসার পর তারা দেখতে পান, উনি ওগুলো ছুড়ে মারছেন। তখন পুলিশ তাদের জিজ্ঞেস করে আপনারা কেন এসেছেন, কেন আমাদের কল করেছেন? তখন তারা বলেন, আমাদের হেনস্তা করা হয়েছে। তখন পুলিশ ভাইয়েরা বলেন, কিছুতো দেখছি না। তারপর পুলিশ সদস্যরা ওয়াকিটকির মাধ্যমে উপরে (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা) জানতে চান আমরা কি করব। তখন উপর থেকে নির্দেশ আসে উনারা এমন করলে তাদের বের করে দিয়ে আপনারা চলে যান। ওয়াকিটকির সেই আওয়াজ সবাই শুনতে পাচ্ছিলেন। এরপর তারা কিছুটা ঠাণ্ডা হন ও পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। এরপর আর কিছু ঘটেনি। তিনি বলেন, আমরা উনাদের কাউকে চিনতামও না জানতামও না। পরে আমরা শুনেছি উনাদের একজনের নাম পরীমনি।

ক্লাব প্রেসিডেন্ট কেএম আলমগীর ইকবাল বলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ যেই সদস্যের মাধ্যমে এসেছিল তাকে শোকজ করেছে। তার বিরুদ্ধে ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এটা চলমান অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, যেই সদস্য ক্লাবের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান তাকে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী তাকে শাস্তি প্রদান করি। তাকে শোকজ, শোকজ গৃহীত না হলে, ৩ মাস, ৬ মাস এবং সদস্যপদ স্থগিতও করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরীমনি এটিকে ‘ফালতু অভিযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা

আরও খবর