১১ দিনে একটি গরুর ওজন ২২ কেজি বেড়ে গেল?
jugantor
অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা
১১ দিনে একটি গরুর ওজন ২২ কেজি বেড়ে গেল?

  মিজান মালিক  

২২ জুলাই ২০২১, ২৩:২৪:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

গরু

করোনা ও লকডাউনসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে এ বছর কোরবানির হাটে গিয়ে গরু বা ছাগল কেনার চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটার দিকে ঝোঁক ছিল বেশি। বিশেষ করে নাগরিক জীবনে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর আশপাশে শতাধিক এগ্রো ফার্ম গড়ে উঠে। তবে দেশি গরু বলে ক্রেতাকে ফার্মের গরু গছিয়ে দেওয়া, গরুর ওজন কারসাজি করাসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এবার।

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ইমন ইব্রাহিম থাকেন রাজধানীর শাহীনবাগ এলাকায়। তিনি এবং তার বন্ধুরা মিলে এবার কোরবানির জন্য একসঙ্গে ৭টি গরু কেরানীগঞ্জের একটি এগ্রো ফার্ম থেকে কেনেন। ৯ জুলাই তারা কেরানীগঞ্জ গিয়ে মডার্ন নামে ওই ফার্ম থেকে গরুগুলোর অর্ডার দেন।

ইমন ইব্রাহিম বলেন, আমি যে গরুটি কিনেছি ৯ জুলাই তার লাইভ ওজন ছিল ১৮৬ কেজি। ৪০০ টাকা কেজি হিসেবে আমার গরুর দাম আসে ৭৪,৫০০ টাকা। কিন্তু গরুটি ১৮ জুলাই যখন ফার্ম থেকে আনা হয়, তখন তা মেপে দেখানো হয় লাইভ ওজন ২০৮ কেজি। সে কারণে দামও বেড়ে দাঁড়াল ৮৪ হাজার টাকা। কাটার পর মাংস হলো ১১০ কেজি। একইভাবে আমাদের কেনা অপর দুটো গরুর ওজন বাড়লো ১৩ কেজি করে ২৬ কেজি। একটির বাড়ল ২ কেজি। সঙ্গে দাম। আর একটি গরুর ওজন বাড়লও না কমলও না।

ইমন ইব্রাহিম বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, এটা কিভাবে সম্ভব? ১১ দিনের ব্যবধানে আমার গরুর ওজন বেড়ে গেল ২২ কেজি! আবার কোনোটার ১৩ কেজি, কোনোটার ওজন অপরিবর্তিত। মনে ভীষণ খটকা লাগল।

অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে তিনি সরাসরি ফার্মে গিয়ে গরুর অর্ডার দেন। সেই বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, দেখে তো এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, আমরা ঠকব না। বিশাল জায়গাজুড়ে করা হয়েছে এটি। কিছু জায়গায় ভুট্টার চাষ। আমাদের সামনে গরুকে ঘাস খাওয়ানো হলো।
কিন্তু আমার কোরবানির গরুটির ওজন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।
আমি ফার্মের মালিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, ওজন বাড়া বা কমাই স্বাভাবিক। যদি কোনো ধরনের কারসাজি করা হতো, তাহলে সবগুলো গরুর ওজন সমান করে দেখাতাম।

গ্রাহক ইমন ইব্রাহিম ওই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বলেই মনে হচ্ছে। তার মনে ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন, আমি কি ঠকে গেলাম! কেমন করে ১১ দিনে একটি গরুর ওজন ২২ কেজি বাড়ে?

দেশি গরুর খামার রয়েছে এমন একজন ব্যবসায়ী শরাফতের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একটি বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দুই কারণে কয়েকদিনের ব্যবধানে গরুর ওজন বাড়তে পারে। প্রথমত, গরুটিকে খাইয়ে ভরা পেটে লাইভ স্কেলে মাপলে ওজন ১০/১৫ কেজি বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ৭/৮ কেজি পানিই খাওয়ানো হয়। কিন্তু ২২ কেজি হওয়ার কথা নয়।

এছাড়া আর কিভাবে ওজন বাড়ানো সম্ভব- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গরুর গ্রুথ ভালো হলো মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট খাইয়েও ওজন বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে একটি গরুর ওজন দিনে ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম করে বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ওই ক্রেতার গরুর ক্ষেত্রে কোনটা ঘটেছে তা তো আমি বলতে পারব না। তবে প্রথম দফায় গরুটির ওজন খালি পেটে ছিল নাকি ভরা পেটে ছিল সেটা খামারি বলতে পারবেন। কারণ গরুর খাওয়ার নির্দিষ্ট কিছু সময় আছে।

অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা

১১ দিনে একটি গরুর ওজন ২২ কেজি বেড়ে গেল?

 মিজান মালিক 
২২ জুলাই ২০২১, ১১:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গরু
গরু। ফাইল ছবি

করোনা ও লকডাউনসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে এ বছর কোরবানির হাটে গিয়ে গরু বা ছাগল কেনার চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটার দিকে ঝোঁক ছিল বেশি। বিশেষ করে নাগরিক জীবনে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর আশপাশে শতাধিক এগ্রো ফার্ম গড়ে উঠে। তবে দেশি গরু বলে ক্রেতাকে ফার্মের গরু গছিয়ে দেওয়া, গরুর ওজন কারসাজি করাসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এবার। 

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ইমন ইব্রাহিম থাকেন রাজধানীর শাহীনবাগ এলাকায়। তিনি এবং তার বন্ধুরা মিলে এবার কোরবানির জন্য একসঙ্গে ৭টি গরু কেরানীগঞ্জের একটি এগ্রো ফার্ম থেকে কেনেন। ৯ জুলাই তারা কেরানীগঞ্জ গিয়ে মডার্ন নামে ওই ফার্ম থেকে গরুগুলোর অর্ডার দেন। 

ইমন ইব্রাহিম বলেন, আমি যে গরুটি কিনেছি ৯ জুলাই তার লাইভ ওজন ছিল ১৮৬ কেজি। ৪০০ টাকা কেজি হিসেবে আমার গরুর দাম আসে ৭৪,৫০০ টাকা। কিন্তু গরুটি ১৮ জুলাই যখন ফার্ম থেকে আনা হয়, তখন তা মেপে দেখানো হয় লাইভ ওজন ২০৮ কেজি। সে কারণে দামও বেড়ে দাঁড়াল ৮৪ হাজার টাকা। কাটার পর মাংস হলো ১১০ কেজি। একইভাবে আমাদের কেনা অপর দুটো গরুর ওজন বাড়লো ১৩ কেজি করে ২৬ কেজি। একটির বাড়ল ২ কেজি।  সঙ্গে দাম। আর একটি গরুর ওজন বাড়লও না কমলও না। 

ইমন ইব্রাহিম বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, এটা কিভাবে সম্ভব? ১১ দিনের ব্যবধানে আমার গরুর ওজন বেড়ে গেল ২২ কেজি! আবার কোনোটার ১৩ কেজি, কোনোটার ওজন অপরিবর্তিত। মনে ভীষণ খটকা লাগল।

অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে তিনি সরাসরি ফার্মে গিয়ে গরুর অর্ডার দেন। সেই বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, দেখে তো এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, আমরা ঠকব না। বিশাল জায়গাজুড়ে করা হয়েছে এটি। কিছু জায়গায় ভুট্টার চাষ। আমাদের সামনে গরুকে ঘাস খাওয়ানো হলো।
কিন্তু আমার কোরবানির গরুটির ওজন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। 
আমি ফার্মের মালিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, ওজন বাড়া বা কমাই স্বাভাবিক। যদি কোনো ধরনের কারসাজি করা হতো, তাহলে সবগুলো গরুর ওজন সমান করে দেখাতাম।

গ্রাহক ইমন ইব্রাহিম ওই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বলেই মনে হচ্ছে। তার মনে ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন, আমি কি ঠকে গেলাম! কেমন করে ১১ দিনে একটি গরুর ওজন ২২ কেজি বাড়ে? 

দেশি গরুর খামার রয়েছে এমন একজন ব্যবসায়ী শরাফতের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একটি বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দুই কারণে কয়েকদিনের ব্যবধানে গরুর ওজন বাড়তে পারে। প্রথমত, গরুটিকে খাইয়ে ভরা পেটে লাইভ স্কেলে মাপলে ওজন ১০/১৫ কেজি বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ৭/৮ কেজি পানিই খাওয়ানো হয়। কিন্তু ২২ কেজি হওয়ার কথা নয়।

এছাড়া আর কিভাবে ওজন বাড়ানো সম্ভব- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গরুর গ্রুথ ভালো হলো মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট খাইয়েও ওজন বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে একটি গরুর ওজন দিনে ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম করে বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ওই ক্রেতার গরুর ক্ষেত্রে কোনটা ঘটেছে তা তো আমি বলতে পারব না। তবে প্রথম দফায় গরুটির ওজন খালি পেটে ছিল নাকি ভরা পেটে ছিল সেটা খামারি বলতে পারবেন। কারণ গরুর খাওয়ার নির্দিষ্ট কিছু সময় আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন