মাসুদকে ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক হাইকোর্টের
jugantor
মাসুদকে ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক হাইকোর্টের

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ জুলাই ২০২১, ১১:৪৪:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল একটি বক্তব্য - ভালো হয়ে যাও মাসুদ। তুমি কি আর ভালো হবে না?

এবার মাসুদ রানা নামের এক আইনজীবী সতর্ক করে দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ভালো হয়ে যান মিস্টার মাসুদ রানা। এসব করে আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না।

আদালত যখন বলেছেন বিষয়টি মোটেই রসিকতার বিষয় নয়।

লকডাউনে কোর্ট বন্ধ থাকায় উপার্জন থমকে গেছে আইনজীবীদের। এমন পেশাশ্রেণির মানুষ হয়ে কারো কাছে হাতও পাততে পারছেন না তারা। তাই অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

মাসুদ রানা নামের এক আইনজীবী নিজের বর্তমান করুণ পরিস্থিতির কথা জানাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের দ্বারস্থ হন।

তিনি জানান, কোর্ট বন্ধ থাকায় পেট চালাতে এখন নিজের মোটরসাইকেলে বাইক রাইডিংয়ের কাজ করছেন।

ফেসবুকে একটি ছবি আপলোড করেন তিনি। যেখানে তাকে প্যাসেঞ্জার নিয়ে কালো কোট পরে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশনে আবেগঘন বিস্তারিত বার্তাও দেন তিনি। যার শিরোনাম - ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপনার কোর্ট অফিসার এখন বাইক রাইডার।’

তার সেই ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ইতিবাচক-নেতিবাচক মন্তব্য জমা পড়ে অনেক। অনেকেই তাকে সহমর্মিতা জানান। আইনজীবীদের এই দূরাবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

বিষয়টি নিয়ে যখন গত কয়েকদিন ফেসবুকে তোলপাড় তখন এ নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

গত সোমবার আইনজীবী মাসুদ রানার দুটি মামলায় দুই আসামির জামিনের আবেদন ছিল হাইকোর্টে। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়।

সকালে মামলা দুটি শুনানি করতে গেলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান ফেসবুকে ভাইরাল মাসুদ রানার ছবিটির প্রসঙ্গ তোলেন। সত্যি কি মাসুদ রানা রাইড শেয়ারিংয়ে বাইক চালানো কাজ করেন? প্রশ্ন করেন।

তখন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি তাকে দেখেন বলেন, মিস্টার মাসুদ আপনি দেখছি উবার চালিয়ে বিখ্যাত হয়ে গেছেন। এগুলো করবেন না। ভালো হয়ে যান মিস্টার মাসুদ রানা। এসব করে আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না।

পরে আদালত আইনজীবী মাসুদ রানার দুই মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।

আইনজীবী মাসুদ রানার ভাইরাল সেই ছবি
গত ১৬ জুলাই বাইক রাইডিংয়ের সেই ছবিটি শেয়ার করেন অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা।

সেখানে তিনি লেখেন - ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপনার কোর্ট অফিসার এখন বাইক রাইডার। আইনপেশা লকডাউনে সম্পূর্ণ বন্ধ। লকডাউন ব্যতীত সময়ে সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল কোর্ট ছিল। কিন্তু এখন লকডাউন স্থগিত হলেও কোর্ট বন্ধ। সব পেশার মানুষ কাজ করতে পারছেন, শুধু আইনজীবীরাই কর্মহীন। দীর্ঘ এক বছর চারমাস উপার্জনহীন থাকলেও বাড়িভাড়া, চেম্বার ভাড়া, বার কাউন্সিল, বার অ্যাসোসিয়েশনসহ জীবন-যাপন ব্যয় থেমে নেই। কোর্ট অফিসারদের (আইনজীবী) চরম দুর্দিন চলছে। আইনজীবীদের চিফ অথোরিটি মাননীয় প্রধান বিচারপতি, কিন্তু তাকে কিছু বলা যাবে না। আদালত অবমাননার অভিযোগে সনদ চলে যায়। অনেকেই আপদকালীন ভিন্ন পেশা গ্রহণ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোর্ট খোলার আশায় আছেন। কিন্তু আমি অতি সাধারণ, তাই এত কিছু না ভেবে কর্ম এবং উপার্জনের লক্ষ্যে আপদকালীন এ বাইক রাইডিং পেশা শুরু করলাম। সবার নিকট দোয়া চাই। সবাই ভাল থাকবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।’

মাসুদকে ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক হাইকোর্টের

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ জুলাই ২০২১, ১১:৪৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল একটি বক্তব্য - ভালো হয়ে যাও মাসুদ। তুমি কি আর ভালো হবে না?

এবার মাসুদ রানা নামের এক আইনজীবী সতর্ক করে দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ভালো হয়ে যান মিস্টার মাসুদ রানা। এসব করে আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না।

আদালত যখন বলেছেন বিষয়টি মোটেই রসিকতার বিষয় নয়।

লকডাউনে কোর্ট বন্ধ থাকায় উপার্জন থমকে গেছে আইনজীবীদের। এমন পেশাশ্রেণির মানুষ হয়ে কারো কাছে হাতও পাততে পারছেন না তারা। তাই অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

মাসুদ রানা নামের এক আইনজীবী নিজের বর্তমান করুণ পরিস্থিতির কথা জানাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের দ্বারস্থ হন।

তিনি জানান, কোর্ট বন্ধ থাকায় পেট চালাতে এখন নিজের মোটরসাইকেলে বাইক রাইডিংয়ের কাজ করছেন।

ফেসবুকে একটি ছবি আপলোড করেন তিনি। যেখানে তাকে প্যাসেঞ্জার নিয়ে কালো কোট পরে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশনে আবেগঘন বিস্তারিত বার্তাও দেন তিনি। যার শিরোনাম - ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপনার কোর্ট অফিসার এখন বাইক রাইডার।’

তার সেই ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ইতিবাচক-নেতিবাচক মন্তব্য জমা পড়ে অনেক। অনেকেই তাকে সহমর্মিতা জানান। আইনজীবীদের এই দূরাবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

বিষয়টি নিয়ে যখন গত কয়েকদিন ফেসবুকে তোলপাড় তখন এ  নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

গত সোমবার আইনজীবী মাসুদ রানার দুটি মামলায় দুই আসামির জামিনের আবেদন ছিল হাইকোর্টে। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়।

সকালে মামলা দুটি শুনানি করতে গেলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান ফেসবুকে ভাইরাল মাসুদ রানার  ছবিটির প্রসঙ্গ তোলেন। সত্যি কি মাসুদ রানা রাইড শেয়ারিংয়ে বাইক চালানো কাজ করেন? প্রশ্ন করেন।

তখন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি তাকে দেখেন বলেন, মিস্টার মাসুদ আপনি দেখছি উবার চালিয়ে বিখ্যাত হয়ে গেছেন। এগুলো করবেন না। ভালো হয়ে যান মিস্টার মাসুদ রানা।  এসব করে আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না।

পরে আদালত আইনজীবী মাসুদ রানার দুই মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।

আইনজীবী মাসুদ রানার ভাইরাল সেই ছবি
গত ১৬ জুলাই বাইক রাইডিংয়ের সেই ছবিটি শেয়ার করেন অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা।

সেখানে তিনি লেখেন - ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপনার কোর্ট অফিসার এখন বাইক রাইডার। আইনপেশা লকডাউনে সম্পূর্ণ বন্ধ। লকডাউন ব্যতীত সময়ে সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল কোর্ট ছিল। কিন্তু এখন লকডাউন স্থগিত হলেও কোর্ট বন্ধ। সব পেশার মানুষ কাজ করতে পারছেন, শুধু আইনজীবীরাই কর্মহীন। দীর্ঘ এক বছর চারমাস উপার্জনহীন থাকলেও বাড়িভাড়া, চেম্বার ভাড়া, বার কাউন্সিল, বার অ্যাসোসিয়েশনসহ জীবন-যাপন ব্যয় থেমে নেই। কোর্ট অফিসারদের (আইনজীবী) চরম দুর্দিন চলছে। আইনজীবীদের চিফ অথোরিটি মাননীয় প্রধান বিচারপতি, কিন্তু তাকে কিছু বলা যাবে না। আদালত অবমাননার অভিযোগে সনদ চলে যায়। অনেকেই আপদকালীন ভিন্ন পেশা গ্রহণ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোর্ট খোলার আশায় আছেন। কিন্তু আমি অতি সাধারণ, তাই এত কিছু না ভেবে কর্ম এবং উপার্জনের লক্ষ্যে আপদকালীন এ বাইক রাইডিং পেশা শুরু করলাম। সবার নিকট দোয়া চাই। সবাই ভাল থাকবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন