গ্রামীণফোনকে হুমায়ূন পরিবারের আইনি নোটিস
jugantor
গ্রামীণফোনকে হুমায়ূন পরিবারের আইনি নোটিস

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ জুলাই ২০২১, ২১:১৩:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

হুমায়ুন আহমেদ

বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদের দর্শকপ্রিয় চারটি ধারাবাহিক নাটকের চারটি চরিত্র ব্যবহার করায় মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গ্রামীনফোনকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মেয়ে নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ, বিপাশা আহমেদ, ছেলে নূহাশ হুমায়ুন ও ভাই জাফর ইকবালের পক্ষে নোটিসটি পাঠিয়েছেন তাদের আইনজীবী হামিদুল মিজবাহ।

সোমবার ইমেইলে নোটিস পাঠানোর পর মঙ্গলবার তা আবার রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ আইনজীবী।

নোটিসের প্রাপ্তিস্বীকার করে এরই মধ্যে আলোচ্য বিষয়বস্তুগুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গত বছর জুলাইয়ে ফেসবুক পেজ ও ইউটউব চ্যানেল থেকে ‘কেমন আছেন তারা?’ শীর্ষক কয়েক পর্বের একটি ধারাবাহিক বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে গ্রামীণফোন।

অনুষ্ঠানটিতে লেখক, নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’র ‘বাকের ভাই’, অয়োম’র ‘এলাচি বেগম’, বহুব্রীহি’র ‘সোবহান সাহেব’ ও ‘উড়ে যায় বক পক্ষী’ ধারাবাহিক নাটকের ‘তৈয়ব আলী’ চরিত্রটিকে ব্যবহার করা হয়।

‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বাকের ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর’, অয়োময়-এ ‘এলাচি বেগম’র চরিত্রে অভিনয়ে ছিলেন সারা যাকের, বহুব্রীহি’র ‘সোবহান সাহেব’র চরিত্রে ছিলেন আবুল হায়াত ও ‘উড়ে যায় বক পক্ষী’ ধারাবাহিকে ‘তৈয়ব আলী’ চরিত্রে অভিনয় করেন ফারুক আহমেদ।

হুমায়ুন আহমেদের পরিবারের সদস্য বা উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে সম্মতি না নিয়ে গ্রামীনফোন এসব চরিত্র ব্যবহার করেছে বলে নোটিসে অভিযোগ করা হয়।

“চারটি চরিত্র ব্যবহার করা পর্বগুলো ৩০ লক্ষ বারের বেশি ভিউ হয়েছে। প্রচলিত আইনে এই ধরনের ব্যবহারে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও গ্রামীণফোন তা করেনি। এতে মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘন হয়েছে।”

আইনজীবী হামিদুল মিজবাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গ্রামীণফোনের ফেইসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে অনুষ্ঠানের পর্বগুলো তিন দিনের মধ্যে অপসারণের পাশাপাশি মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৯৮ হাজার আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে নোটিসে।

গ্রামীণফোনের ফেসবুক পেইজ গিয়ে ‘কেমন আছেন তারা?’ অনুষ্ঠানটির কোনো পর্ব পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টি অনেকগুলো চরিত্রের মধ্যে বাকের ভাই, এলাচি বেগম, সোবহান সাহেব এবং তৈয়ব আলী চরিত্র চারটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দর্শকপ্রিয়। এই চরিত্রগুলো এখনো দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এ সমস্ত চরিত্রের অনুমতিহীন, বাণিজ্যিক ব্যবহার হুমায়ুন আহমেদের মেধাস্বত্ব অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন মো. হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “গ্রামীণফোন অতি সম্প্রতি শ্রদ্ধেয় ও বরেণ্য লেখক হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্যদের প্রদানকৃত একটি আইনি নোটিস গ্রহণ করেছে। নোটিসের বিষয়বস্তুটি একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের রেডিও শোর সাথে সম্পর্কিত এবং মূলত রেডিও স্বাধীনের প্রযোজনায় সংক্ষিপ্তকৃত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট। গ্রামীণফোন তার আইনি অধিকার সংরক্ষণ করে নোটিসটি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়াত লেখকের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল থেকে এই কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলেছে। গ্রামীণফোন কিংবদন্তী লেখকের অবদান এবং তার পরিবারের সদস্যদের মতামত ও অনুভূতিকে আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা এবং সম্মান করে।”

গ্রামীণফোনকে হুমায়ূন পরিবারের আইনি নোটিস

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ জুলাই ২০২১, ০৯:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হুমায়ুন আহমেদ
হুমায়ুন আহমেদ। ফাইল ছবি

বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদের দর্শকপ্রিয় চারটি ধারাবাহিক নাটকের চারটি চরিত্র ব্যবহার করায় মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গ্রামীনফোনকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মেয়ে নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ, বিপাশা আহমেদ, ছেলে নূহাশ হুমায়ুন ও ভাই জাফর ইকবালের পক্ষে নোটিসটি পাঠিয়েছেন তাদের আইনজীবী হামিদুল মিজবাহ।

সোমবার ইমেইলে নোটিস পাঠানোর পর মঙ্গলবার তা আবার রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ আইনজীবী। 

নোটিসের প্রাপ্তিস্বীকার করে এরই মধ্যে আলোচ্য বিষয়বস্তুগুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গত বছর জুলাইয়ে ফেসবুক পেজ ও ইউটউব চ্যানেল থেকে ‘কেমন আছেন তারা?’ শীর্ষক কয়েক পর্বের একটি ধারাবাহিক বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে গ্রামীণফোন।

অনুষ্ঠানটিতে লেখক, নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’র ‘বাকের ভাই’, অয়োম’র ‘এলাচি বেগম’, বহুব্রীহি’র ‘সোবহান সাহেব’ ও ‘উড়ে যায় বক পক্ষী’ ধারাবাহিক নাটকের ‘তৈয়ব আলী’ চরিত্রটিকে ব্যবহার করা হয়।

‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বাকের ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর’, অয়োময়-এ ‘এলাচি বেগম’র চরিত্রে অভিনয়ে ছিলেন সারা যাকের, বহুব্রীহি’র ‘সোবহান সাহেব’র চরিত্রে ছিলেন আবুল হায়াত ও ‘উড়ে যায় বক পক্ষী’ ধারাবাহিকে ‘তৈয়ব আলী’ চরিত্রে অভিনয় করেন ফারুক আহমেদ।

হুমায়ুন আহমেদের পরিবারের সদস্য বা উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে সম্মতি না নিয়ে গ্রামীনফোন এসব চরিত্র ব্যবহার করেছে বলে নোটিসে অভিযোগ করা হয়।

“চারটি চরিত্র ব্যবহার করা পর্বগুলো ৩০ লক্ষ বারের বেশি ভিউ হয়েছে। প্রচলিত আইনে এই ধরনের ব্যবহারে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও গ্রামীণফোন তা করেনি। এতে মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘন হয়েছে।”

আইনজীবী হামিদুল মিজবাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গ্রামীণফোনের ফেইসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে অনুষ্ঠানের পর্বগুলো তিন দিনের মধ্যে অপসারণের পাশাপাশি মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৯৮ হাজার আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে নোটিসে।

গ্রামীণফোনের ফেসবুক পেইজ গিয়ে ‘কেমন আছেন তারা?’ অনুষ্ঠানটির কোনো পর্ব পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টি অনেকগুলো চরিত্রের মধ্যে বাকের ভাই, এলাচি বেগম, সোবহান সাহেব এবং তৈয়ব আলী চরিত্র চারটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দর্শকপ্রিয়। এই চরিত্রগুলো এখনো দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এ সমস্ত চরিত্রের অনুমতিহীন, বাণিজ্যিক ব্যবহার হুমায়ুন আহমেদের মেধাস্বত্ব অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন মো. হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “গ্রামীণফোন অতি সম্প্রতি শ্রদ্ধেয় ও বরেণ্য লেখক হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্যদের প্রদানকৃত একটি আইনি নোটিস গ্রহণ করেছে। নোটিসের বিষয়বস্তুটি একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের রেডিও শোর সাথে সম্পর্কিত এবং মূলত রেডিও স্বাধীনের প্রযোজনায় সংক্ষিপ্তকৃত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট। গ্রামীণফোন তার আইনি অধিকার সংরক্ষণ করে নোটিসটি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়াত লেখকের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল থেকে এই কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলেছে। গ্রামীণফোন কিংবদন্তী লেখকের অবদান এবং তার পরিবারের সদস্যদের মতামত ও অনুভূতিকে আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা এবং সম্মান করে।”

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন