গ্রেফতার দেখানো হলো হেলেনা জাহাঙ্গীরকে
jugantor
গ্রেফতার দেখানো হলো হেলেনা জাহাঙ্গীরকে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ জুলাই ২০২১, ১১:১৩:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

গ্রেফতার দেখানো হলো হেলেনা জাহাঙ্গীরকে

আওয়ামী লীগে পদ খোয়ানো ব্যবসায়ী নেতা হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটকের পর গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামে নতুন সংগঠন করে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরে ঢাকার গুলশানের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

পরে মধ্যরাতে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, তাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

কী কারণে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বাসায় মদ, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো বোর্ড, ওয়াকিটকিসহ বেশ কিছু অবৈধ সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

রাত সোয়া ১২টার দিকে পাঁচ তলা ওই বাড়িতে নিজের ফ্ল্যাট থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীর যখন র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন, তার মুখে ছিল মাস্ক। পরনে ছিল বেগুনি রঙের জামা ও হলুদ ওড়না।

তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে দুবার হাত নাড়েন। এসময় তিনি কিছু বলতে চাইলেও সেই সুযোগ পাননি। র‌্যাব সদস্যরা তাকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় একটি ট্রেতে করে কিছু ছুরি এবং লাল একটি লাগেজও র‌্যাব সদস্যদের নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এরপর র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম পলাশ কুমার বসু ওই বাড়ির নিচতলায় সাংবাদিকদের বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছিলেন তারা।

অভিযানে ওই বাসা থেকে বিদেশি মদ, ওয়াকিটকি সেট, বিদেশি মুদ্রা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া জব্দ করার কথা বলেন তিনি।

পলাশ বসু বলেন, জব্দকৃত আলামত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আমরা গ্রেফতার করেছি।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে মামলা হবে।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে- সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক আপনাদের (সাংবাদিক) অতি শিগগিরই ইনফর্ম করব।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে র‌্যাবের হাকিম বলেন, র‌্যাব সদর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এরপর রাতেই হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা টেলিভিশনের অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব। আইপি টেলিভিশটির কোনো কাগজপত্র নেই বলে জানায় আইনশৃংখলা বাহিনী।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার।

জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারপারসন হেলেনা নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটিতে সদস্য পদে ছিলেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন তিনি।

‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সভাপতি হওয়ার খবর চাউর হলে সম্প্রতি তাকে দুই কমিটি থেকেই বাদ দেয় আওয়ামী লীগ।

হেলেনা এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরুর আসনে উপনির্বাচনেও প্রার্থী হতেও চেয়েছিলেন তিনি। তবে কোনোবারই তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।


গ্রেফতার দেখানো হলো হেলেনা জাহাঙ্গীরকে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ জুলাই ২০২১, ১১:১৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গ্রেফতার দেখানো হলো হেলেনা জাহাঙ্গীরকে
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগে পদ খোয়ানো ব্যবসায়ী নেতা হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটকের পর  গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 
 
আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামে নতুন সংগঠন করে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরে ঢাকার গুলশানের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

পরে মধ্যরাতে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, তাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

কী কারণে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বাসায় মদ, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো বোর্ড, ওয়াকিটকিসহ বেশ কিছু অবৈধ সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

রাত সোয়া ১২টার দিকে পাঁচ তলা ওই বাড়িতে নিজের ফ্ল্যাট থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীর যখন র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন, তার মুখে ছিল মাস্ক। পরনে ছিল বেগুনি রঙের জামা ও হলুদ ওড়না।

তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে দুবার হাত নাড়েন। এসময় তিনি কিছু বলতে চাইলেও সেই সুযোগ পাননি। র‌্যাব সদস্যরা তাকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় একটি ট্রেতে করে কিছু ছুরি এবং লাল একটি লাগেজও র‌্যাব সদস্যদের নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এরপর র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম পলাশ কুমার বসু ওই বাড়ির নিচতলায় সাংবাদিকদের বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছিলেন তারা।

অভিযানে ওই বাসা থেকে বিদেশি মদ, ওয়াকিটকি সেট, বিদেশি মুদ্রা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া জব্দ করার কথা বলেন তিনি।

পলাশ বসু বলেন, জব্দকৃত আলামত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আমরা গ্রেফতার করেছি।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে মামলা হবে।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে- সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক আপনাদের (সাংবাদিক) অতি শিগগিরই ইনফর্ম করব।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে র‌্যাবের হাকিম বলেন, র‌্যাব সদর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এরপর রাতেই হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা টেলিভিশনের অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব। আইপি টেলিভিশটির কোনো কাগজপত্র নেই বলে জানায় আইনশৃংখলা বাহিনী।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার।

জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারপারসন হেলেনা নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটিতে সদস্য পদে ছিলেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন তিনি।

‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সভাপতি হওয়ার খবর চাউর হলে সম্প্রতি তাকে দুই কমিটি থেকেই বাদ দেয় আওয়ামী লীগ।

হেলেনা এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরুর আসনে উপনির্বাচনেও প্রার্থী হতেও চেয়েছিলেন তিনি। তবে কোনোবারই তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন