পরীমনির ‘মিথ্যা অপবাদের’ জন্য সরকারের উচ্চ মহলে কথা বলেন নাসির
jugantor
পরীমনির ‘মিথ্যা অপবাদের’ জন্য সরকারের উচ্চ মহলে কথা বলেন নাসির

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ আগস্ট ২০২১, ১১:৫৩:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ৮ জুন রাতেবোট ক্লাবে হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনির করা মামলা তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে পরীমনির করা অভিযোগ মিথ্যা। এরপর জামিনে মুক্তি পেয়েই নায়িকার মিথ্যা অপবাদের জন্য সরকারের উচ্চ মহলে কথা বলেন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ।

গত জুন মাসে আশুলিয়ার বোট ক্লাবকাণ্ডে আলোচনায় আসেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনি। সেসময় তিনি ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেন। সে অভিযোগ তিনি ফেসবুক লাইভে এসেও জানান। এরপর সাভার থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনি মামলা করেন।

পরীমনির করা মামলায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উত্তরা ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের বাসা থেকে গ্রেফতারের সময় মদ ও ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হয়। নাসির ইউ মাহমুদের সঙ্গে গ্রেফতার অন্য চারজন হলেন অমি, লিপি, সুমি ও স্নিগ্ধা। এরা সবাই এখন জামিনে মুক্ত।

এ মামলায় তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে পরীমনির করা অভিযোগ মিথ্যা। প্রভাবশালী আরও এক ব্যক্তির সঙ্গে পরীমনির ঘনিষ্ঠতার তথ্যও জানতে পারে পুলিশ। এমনকি নগ্ন ছবিতে অভিনয়, সমাজের উঁচুতলার মানুষদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের তথ্য-উপাত্তও চলে আসে র‌্যাব গোয়েন্দাদের হাতে।

শুধু পুলিশি তদন্ত নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে মানুষ দেখতে পায় ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবের মদের টেবিলে বেশ কয়েক জনের সঙ্গে শান্ত ভঙ্গিতে বসেই মদ পান করছেন পরীমনি। মোবাইল ফোনে ধারণ করা এই ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর আড়াল থেকে সত্য বেরিয়ে আসতে থাকে।

এ অবস্থায় জামিনে মুক্তি পেয়েই মিথ্যা অপবাদে নিজের সামাজিক মর্যাদাহানির তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে সরকারের উচ্চ মহলে কথা বলেন নাসির ইউ মাহমুদ। পরীমনির বেপরোয়া চলাফেরার তথ্যপ্রমাণ পেয়েই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

একটি সূত্র জানায়, খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেই পরীমনিকে গ্রেফতারের নির্দেশনা আসে।

সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই বুধবার বিকাল ৪টার কিছু পর সাদা পোশাকে র‌্যাবের ৩-৪ জন সদস্য পরীমনির বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। বাইরে অবস্থান নেয় র‌্যাবের পোশাকধারী সদস্যরা। কিন্তু পরীমনি দরজা না খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন।বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর পরীমনিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পরীমনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানকালে তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

পরীমনির ‘মিথ্যা অপবাদের’ জন্য সরকারের উচ্চ মহলে কথা বলেন নাসির

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ আগস্ট ২০২১, ১১:৫৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবে হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনির করা মামলা তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে পরীমনির করা অভিযোগ মিথ্যা। এরপর জামিনে মুক্তি পেয়েই নায়িকার মিথ্যা অপবাদের জন্য সরকারের উচ্চ মহলে কথা বলেন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ।  

গত জুন মাসে আশুলিয়ার বোট ক্লাবকাণ্ডে আলোচনায় আসেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনি। সেসময় তিনি ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার  অভিযোগ করেন। সে অভিযোগ তিনি ফেসবুক লাইভে এসেও জানান। এরপর সাভার থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনি মামলা করেন। 

পরীমনির করা মামলায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উত্তরা ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের বাসা থেকে গ্রেফতারের সময় মদ ও ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হয়। নাসির ইউ মাহমুদের সঙ্গে গ্রেফতার অন্য চারজন হলেন অমি, লিপি, সুমি ও স্নিগ্ধা। এরা সবাই এখন জামিনে মুক্ত।

এ মামলায় তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে পরীমনির করা অভিযোগ মিথ্যা। প্রভাবশালী আরও এক ব্যক্তির সঙ্গে পরীমনির ঘনিষ্ঠতার তথ্যও জানতে পারে পুলিশ। এমনকি নগ্ন ছবিতে অভিনয়, সমাজের উঁচুতলার মানুষদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের তথ্য-উপাত্তও চলে আসে র‌্যাব গোয়েন্দাদের হাতে।

শুধু পুলিশি তদন্ত নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে মানুষ দেখতে পায় ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবের মদের টেবিলে বেশ কয়েক জনের সঙ্গে শান্ত ভঙ্গিতে বসেই মদ পান করছেন পরীমনি। মোবাইল ফোনে ধারণ করা এই ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর আড়াল থেকে সত্য বেরিয়ে আসতে থাকে।

এ অবস্থায় জামিনে মুক্তি পেয়েই মিথ্যা অপবাদে নিজের সামাজিক মর্যাদাহানির তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে সরকারের উচ্চ মহলে কথা বলেন নাসির ইউ মাহমুদ। পরীমনির বেপরোয়া চলাফেরার তথ্যপ্রমাণ পেয়েই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

একটি সূত্র জানায়, খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেই পরীমনিকে গ্রেফতারের নির্দেশনা আসে।

সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই বুধবার বিকাল ৪টার কিছু পর সাদা পোশাকে র‌্যাবের ৩-৪ জন সদস্য পরীমনির বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। বাইরে অবস্থান নেয় র‌্যাবের পোশাকধারী সদস্যরা। কিন্তু পরীমনি দরজা না খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন। বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর পরীমনিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পরীমনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানকালে তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা

আরও খবর