নির্বাচন স্থগিত নিয়ে যা বললেন সিনিয়র আইনজীবীরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ মে ২০১৮, ২০:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুর
ফাইল ফটো

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সাভার উপজেলার ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৩ সালে ১৬ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করেছিল ইসি।

সেই গেজেট চ্যালেঞ্জ করে রোববার এক নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ একটি রিট আবেদন করেন।

তার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়েই হাইকোর্ট বেঞ্চ ভোট তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত নিয়ে সোমবার বাংলাদেশের সিনিয়র আইনজীবীরা বিভিন্ন মতপ্রকাশ করেন।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত করেছে। গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ১০% ভোটও পাবে না বুঝতে পেরেই এটি করেছে।

এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সংবিধানের অন্যতম এ আইনপ্রণেতা। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনও মুলতবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্টে এক প্রতিবাদ সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে গণজোয়ার দেখে সরকার পিছুটান দিয়েছে। নির্বাচনের ৬-৭ দিন বাকি থাকতে ঢাকা উত্তর সিটির মতো গাজীপুর সিটি নির্বাচন বন্ধ করেছে। তাই নির্বাচন যাতে হয়, আজকে সেই আবেদন আমরা করব।

নির্বাচন স্থগিতে সরকারের হস্তক্ষেপ বিষয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অভিযোগ নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কিছু আমি দেখি না। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়। এখানে রিট করার মতো পয়েন্ট ছিল। তাই আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সীমানা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব রয়েছে। এখানে নির্বাচন কমিশনের ঘাটতি ছিল বলে আমার মনে হচ্ছে। তাদের বিষয়টি আগেই নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। এ জন্য দ্রুত সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তি করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এখন তাদের দায়িত্ব। একদিনে রিট, তারপর শুনানি এবং আদেশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন অনেক নজির রয়েছে। এটা আদালতের সম্পূর্ণ এখতিয়ার।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আইনি যোগ্যতা ও লোকবলের অভাবে তারা বিপাকে পড়ছে। এ ধরনের আইনগত সবকিছু ঠিকটাক না করে নির্বাচনে গেলে এ রকম বিপাক হতে পারে।

তিনি বলেন, এ জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। কারণ আইনি কারণে অনেক আসনে এ ধরনের জটিলতা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রোববারের রিটে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তিনি প্রবল আপত্তি তুলেন। আদালত স্থগিতাদেশ দেন। এর আগে এ বিষয়ে যে দুটি রিট হয়েছিল সেখানে নির্বাচন কমিশন কনটেস্ট করে নাই।

এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, এ ধরনের নির্বাচনে সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধ থাকে।এটি আদালতে গড়ায় তারপর আদালত অনেক সময় স্থগিতাদেশ দেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে আগামী ১৫ মে নির্বাচন হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে এ নির্বাচনের প্রচার জমেও উঠেছিল। এর মধ্যে এ নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিলেন হাইকোর্ট।

ঘটনাপ্রবাহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter