পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত 
jugantor
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহণ নেতাদের বৈঠক
পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩১:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

মহাসড়কে চাঁদাবাজি

সড়কপথে বিভিন্ন সংগঠন, পুলিশ ও ব্যক্তির নামে পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তা জানাতে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। তবে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় বহাল থাকছে।

মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতি ট্রিপে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা আদায় করা যাবে।প্রতিটি জেলায় নির্দিষ্ট স্থানে এ চাঁদা আদায় করবেন দুই সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে একাধিক পরিবহণ নেতা এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এদিকে ১০ দফা দাবি মেনে নেওয়ায় আগামীকাল সোমবার থেকে সচল হচ্ছে সব ধরনের পণ পরিবহন।

রোববার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহণ নেতাদের বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিবহণ কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান লরি প্রাইমুভার মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

তারা আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় (হত্যা) মামলা না করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মামলা হবে ৩০৪(খ) ধারায়। তদনে্ত হত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণিত হলে তা ৩০২ ধারায় রূপান্তর হবে।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ১০ দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রুদ্ধদ্বার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি নিয়ে দীর্ঘসময় আলোচনা হয়। বৈঠকের পর আগের ঘোষণা করা আজ ও কাল পণ্য পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সভা শেষে শাজাহান খান যুগান্তরকে বলেন, পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজির বিষয়ে কঠোর আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদা নেওয়া যাবে না। এক জেলার এক স্থানে মালিক সংগঠনের নামে ৩০ টাকা ও শ্রমিক সংগঠনের নামে ৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ সংগ্রহ করতে পারবে। এর বেশি কেউ টাকা নিতে পারবে না। বিভিন্ন জেলা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নামে ইজারা দিয়ে পরিবহণ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। সেগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে টার্মিনাল ব্যবহার করলে সেজন্য চার্জ দিতে হবে। পুলিশের কোনো সদস্য চাঁদাবাজি করলে হটলাইনে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, কাওরান বাজার ও আশপাশ এলাকাসহ ঢাকায় সবচেয়ে বেশি পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজি হয়। চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকের নামে অনেক ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি করা হয়। পুলিশ কাগজপত্র চেক করার নামেও হয়রানি করে। আমরা এসব বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, পথে পথে চাঁদাবাজি থাকবে না। রাঙ্গা আরও বলেন, গাড়ি থেকে পণ্য চুরির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকারের সদ্ধিানে্ত যে তিন মাস গাড়ি চলাচল করেনি সেই তিন মাসের কর মওকুফ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মহাসড়কে অবৈধ চাঁদা আদায়, পুলিশের মাসিক মাসোহারা বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে সোমবার ও মঙ্গলবার সারা দেশে পরিবহণ ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ট্যাংকলরি প্রাইমমুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। ওই কর্মসূচি শুরুর আগের দিন রোববার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে পরিবহণ নেতারা জানান, দুই বছর ধরে পণ্যবাহী পরিবহণ সংগঠনের সার্ভিস চার্জ আদায় সরকার বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে ইজারাদার নিয়োগ দিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পেৌরসভাগুলো চাঁদাবাজি করছে। চট্টগ্রাম বন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কিছু পুলিশ সদস্য গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও মাসিক মাসোহারার জন্য মালিক ও শ্রমিকদের চাপ দিচ্ছে। চাঁদা না দিলে নানাভাবে হয়রানি করছে। গাড়ির কাগজপত্র চেকের নামে দুই থেকে তিন হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছে।

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ নিয়ে আপত্তি করেন একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা বলেন, অনেক গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স ঠিক নেই। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। সভায় হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হটলাইন নম্বর পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দেওয়া হয়। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে ওই নম্বরে জানাতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মালিক ও শ্রমিক সংগঠন শুধু টার্মিনালে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা চাঁদা আদায় করবে। যেসব জেলায় টার্মিনাল নেই সেসব জেলায় নির্দিষ্ট স্থানে এ চাঁদা আদায় করা হবে। চাঁদা আদায়ের পর গাড়িতে একটি রসিদ দেওয়া হবে। ওই রসিদ থাকলে সংশি্লষ্ট গাড়িকে গন্তব্যে যাওয়া পর্যন্ত আর কোথাও চাঁদা দিতে হবে না।

সভায় যত্রতত্র গাড়ি থামানো এবং বিভিন্ন থানা পুলিশ ও ডিবির সদস্যদের গাড়ির কাগজপত্র চেক করা বন্ধ করার দাবি জানান পরিবহণ নেতারা।

তারা বলেন, মহাসড়কে শুধু হাইওয়ে পুলিশ নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ির কাগজপত্র চেক করবে। একইভাবে সিটি এলাকায় মহানগর পুলিশ নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ির কাগজপত্র চেক করবে। তবে তাদের এ দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় তিনি বলেছেন, কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যে কোনো স্থানেই তল্লাশি করা যাবে। পথে গাড়ি থেকে পণ্য চুরির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আটক হয়েছে, আরও আটক হবে।

সভায় উত্তরা থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ট্রাকচালক লিটন এবং উত্তরাঞ্চলে আবু তালেক প্রামাণিককে হত্যার ঘটনায় দায়ীদের কঠোর সাজা দেওয়ার দাবি জানান পরিবহণ নেতারা। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় পরিবহণ নেতারা গাড়িচালকের লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করার দাবি জানান। তারা বলেন, বর্তমানে যে যেই ধরনের গাড়ি চালাচ্ছে, তাকে সেই ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। কেউ ভারী গাড়ি চালালে তাকে ভারী গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। বিষয়টি বিআরটিএ পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে পরিবহণ নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, ওসমান আলী, মো. রুস্তুম আলী খান, মো. তাজুল ইসলাম, সাদেকুর রহমান হিরুসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহণ নেতাদের বৈঠক

পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মহাসড়কে চাঁদাবাজি
ফাইল ছবি

সড়কপথে বিভিন্ন সংগঠন, পুলিশ ও ব্যক্তির নামে পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তা জানাতে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। তবে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় বহাল থাকছে। 

মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতি ট্রিপে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা আদায় করা যাবে। প্রতিটি জেলায় নির্দিষ্ট স্থানে এ চাঁদা আদায় করবেন দুই সংগঠনের প্রতিনিধিরা। 

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

সভা শেষে একাধিক পরিবহণ নেতা এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এদিকে ১০ দফা দাবি মেনে নেওয়ায় আগামীকাল সোমবার থেকে সচল হচ্ছে সব ধরনের পণ পরিবহন।  

রোববার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহণ নেতাদের বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিবহণ কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান লরি প্রাইমুভার মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

তারা আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় (হত্যা) মামলা না করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মামলা হবে ৩০৪(খ) ধারায়। তদনে্ত হত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণিত হলে তা ৩০২ ধারায় রূপান্তর হবে।  

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ১০ দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রুদ্ধদ্বার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি নিয়ে দীর্ঘসময় আলোচনা হয়। বৈঠকের পর আগের ঘোষণা করা আজ ও কাল পণ্য পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সভা শেষে শাজাহান খান যুগান্তরকে বলেন, পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজির বিষয়ে কঠোর আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদা নেওয়া যাবে না। এক জেলার এক স্থানে মালিক সংগঠনের নামে ৩০ টাকা ও শ্রমিক সংগঠনের নামে ৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ সংগ্রহ করতে পারবে। এর বেশি কেউ টাকা নিতে পারবে না। বিভিন্ন জেলা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নামে ইজারা দিয়ে পরিবহণ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। সেগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে টার্মিনাল ব্যবহার করলে সেজন্য চার্জ দিতে হবে। পুলিশের কোনো সদস্য চাঁদাবাজি করলে হটলাইনে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, কাওরান বাজার ও আশপাশ এলাকাসহ ঢাকায় সবচেয়ে বেশি পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজি হয়। চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকের নামে অনেক ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি করা হয়। পুলিশ কাগজপত্র চেক করার নামেও হয়রানি করে। আমরা এসব বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, পথে পথে চাঁদাবাজি থাকবে না। রাঙ্গা আরও বলেন, গাড়ি থেকে পণ্য চুরির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকারের সদ্ধিানে্ত যে তিন মাস গাড়ি চলাচল করেনি সেই তিন মাসের কর মওকুফ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মহাসড়কে অবৈধ চাঁদা আদায়, পুলিশের মাসিক মাসোহারা বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে সোমবার ও মঙ্গলবার সারা দেশে পরিবহণ ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ট্যাংকলরি প্রাইমমুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। ওই কর্মসূচি শুরুর আগের দিন রোববার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে পরিবহণ নেতারা জানান, দুই বছর ধরে পণ্যবাহী পরিবহণ সংগঠনের সার্ভিস চার্জ আদায় সরকার বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে ইজারাদার নিয়োগ দিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পেৌরসভাগুলো চাঁদাবাজি করছে। চট্টগ্রাম বন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কিছু পুলিশ সদস্য গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও মাসিক মাসোহারার জন্য মালিক ও শ্রমিকদের চাপ দিচ্ছে। চাঁদা না দিলে নানাভাবে হয়রানি করছে। গাড়ির কাগজপত্র চেকের নামে দুই থেকে তিন হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছে। 

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ নিয়ে আপত্তি করেন একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা বলেন, অনেক গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স ঠিক নেই। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। সভায় হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হটলাইন নম্বর পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দেওয়া হয়। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে ওই নম্বরে জানাতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মালিক ও শ্রমিক সংগঠন শুধু টার্মিনালে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা চাঁদা আদায় করবে। যেসব জেলায় টার্মিনাল নেই সেসব জেলায় নির্দিষ্ট স্থানে এ চাঁদা আদায় করা হবে। চাঁদা আদায়ের পর গাড়িতে একটি রসিদ দেওয়া হবে। ওই রসিদ থাকলে সংশি্লষ্ট গাড়িকে গন্তব্যে যাওয়া পর্যন্ত আর কোথাও চাঁদা দিতে হবে না। 

সভায় যত্রতত্র গাড়ি থামানো এবং বিভিন্ন থানা পুলিশ ও ডিবির সদস্যদের গাড়ির কাগজপত্র চেক করা বন্ধ করার দাবি জানান পরিবহণ নেতারা। 

তারা বলেন, মহাসড়কে শুধু হাইওয়ে পুলিশ নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ির কাগজপত্র চেক করবে। একইভাবে সিটি এলাকায় মহানগর পুলিশ নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ির কাগজপত্র চেক করবে। তবে তাদের এ দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় তিনি বলেছেন, কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যে কোনো স্থানেই তল্লাশি করা যাবে। পথে গাড়ি থেকে পণ্য চুরির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আটক হয়েছে, আরও আটক হবে। 

সভায় উত্তরা থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ট্রাকচালক লিটন এবং উত্তরাঞ্চলে আবু তালেক প্রামাণিককে হত্যার ঘটনায় দায়ীদের কঠোর সাজা দেওয়ার দাবি জানান পরিবহণ নেতারা। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় পরিবহণ নেতারা গাড়িচালকের লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করার দাবি জানান। তারা বলেন, বর্তমানে যে যেই ধরনের গাড়ি চালাচ্ছে, তাকে সেই ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। কেউ ভারী গাড়ি চালালে তাকে ভারী গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। বিষয়টি বিআরটিএ পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়। 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে পরিবহণ নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, ওসমান আলী, মো. রুস্তুম আলী খান, মো. তাজুল ইসলাম, সাদেকুর রহমান হিরুসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন