ব্যতিক্রমী কৃত্রিম হাত আবিষ্কার করে চমকে দিলেন ঢাকার যুবক (ভিডিও)
jugantor
ব্যতিক্রমী কৃত্রিম হাত আবিষ্কার করে চমকে দিলেন ঢাকার যুবক (ভিডিও)

  আতাউর রহমান  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:০২:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আমাদের চারপাশে এমন অসহায় বহু মানুষ আছেন, যাদের জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। আবার অনেকে হাত নিয়ে জন্ম নিয়েছিলেন কিন্তু দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। কারও আবার হাত আছে কিন্তু তা দিয়ে কাজ করতে পারেন না— পক্ষাঘাতগ্রস্ত। শারীরিকভাবে অক্ষম এমন মানুষের জন্য ব্যতিক্রমী কৃত্রিম হাত আবিষ্কার করেছেন ঢাকার এক যুবক। জন্ম থেকে যাদের হাত নেই কিংবা দুর্ঘটনায় যারা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটি হারিয়েছেন, তারা কৃত্রিম হাতের সাহায্যে দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারবেন।

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য অনন্য এ আবিষ্কারটি করেছেন সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ। মূলত মানবসেবার উদ্দেশেই কম খরচের যান্ত্রিক এ হাতের আবিষ্কার তার।

সাদ্দামের আবিষ্কার কৃত্রিম হাতের সাহায্যে মোবাইল ফোন ও রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবহার করা যাবে। ১০ কেজি পর্যন্ত ওজনের জিনিস উত্তোলন করা যাবে। অন্যের সাহায্য ছাড়া চামচের মাধ্যমে খাবার খাওয়া যাবে। লেখাও যাবে কৃত্রিম এই হাত দিয়ে।
এ ছাড়া যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হাত দিয়ে করা সম্ভব নয়, যেমন— বিদ্যুতের সুইচ-ফ্যান মেরামতের কাজ কিংবা যে কোনো ইলেকট্রিক পণ্য মেরামতের কাজ করা যাবে কৃত্রিম হাতের সাহায্যে। বডি কন্ট্রোল সুইচের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এই হাত। সুইচ দিয়ে নির্দেশনা দিলেই হাতের আঙুলগুলো কাজ করবে।

কৃত্রিম এই হাত তৈরির কারণ সম্পর্কে সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, যাদের হাত নেই তাদের জন্য কিছু একটা করা দরকার। সেই মানবিক চিন্তা থেকে আমার এ উদ্যোগ। পঙ্গু-প্যারালাইজড রোগী, যারা হাত নড়াচড়া করতে পারেন না, তাদের জন্য এই ডিভাইস কাজে লাগবে। এ ছাড়া বাজারে যেসব কৃত্রিম হাত পাওয়া যায়, সেগুলো খুব একটা কাজ করে না। আবার যেসব হাত কাজ করে, সেগুলো কিনতে খরচ বেশি হয়। তাই আমি কম খরচে এই হাত তৈরি করেছি, যেটি মানবকল্যাণে ব্যবহার হবে।

এই হাতের ব্যবহার সম্পর্কে সাদ্দাম জানান, ছোট্ট একটি ডিভাইসের সাহায্যে সহজেই হাতটি শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে লাগিয়ে দেওয়া হবে। যার কব্জি নেই, সেই মাপে হাত বানিয়ে কব্জিতে ডিভাইসটি বসিয়ে দেওয়া হবে। যার কনুই পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন, তার জন্য সেই মাপমতো হাত তৈরি করে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে দেওয়া যাবে। ওই ডিভাইসটির সাহায্যে নির্দেশনা নেবে হাত। সেই অনুযায়ী কাজ করবে।

মূলত দুই ধরনের হাত তৈরি করেছেন সাদ্দাম। হাইব্রিড হাত ও রোবটিক হাত। দুটির কাজ প্রায় একই। রোবটিক হাতে খরচ বেশি আর হাইব্রিড হাতে খরচ তুলনামূলক কম।

জন্ম থেকে হাত নেই অথবা দুর্ঘটনায় হাত হারিয়ে ফেলেছেন এমন ১০০ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে কৃত্রিম এই হাত দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে সাদ্দামের। অসহায় এই মানুষগুলো হাইব্রিড হাতের সাহায্যে দৈনন্দিন কাজ করতে পারলে তার পরিশ্রম সার্থক হবে বলে জানান সাদ্দাম।

‘প্রথমে একশ’ শিক্ষার্থীকে কৃত্রিম হাত দিতে চাই। নিজ খরচে হাতগুলো তৈরি করছি। এগুলো মানুষের উপকারে এলে আমি তৃপ্তি পাব।’
নিজের আবিষ্কৃত হাইব্রিড ও রোবটিক হাতের মেধাস্বত্ব পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, রোবটিক হাত তৈরি করতে আমার ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আর হাইব্রিড হাত তৈরি করতে ৫ হাজার টাকার মতো খরচ। মেধাস্বত্ব পাওয়ার পর আমি হাতগুলো সরবরাহ করব।

রোবটিক হাতের ভিডিও

কৃত্রিম হাত আবিষ্কারের নেপথ্যে একটি গল্প রয়েছে বলে জানান এ বিরল প্রতিভার অধিকারী সাদ্দাম। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার ঝোঁক রয়েছে। কিছু একটা পেলেই তা নিয়ে গবেষণা শুরু করতে ভালো লাগত।

পরে শিশুকন্যার ইচ্ছাপূরণে এ পর্যন্ত বেশ কিছু ডিভাইস আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান সাদ্দাম। কৃত্রিম হাতও তার একটি। একদিন বাসায় খেলা করার সময় জানালা দিয়ে সানসেটে খেলনা পড়ে যায় মেয়ের। তখন মনে হলো কৃত্রিম একটি হাত থাকলে তো সেটির সাহায্যে শিশু নিজেই খেলনাটি আনতে পারত। সেই থেকে গবেষণা শুরু। গবেষণার এক-দেড় মাসের মধ্যেই রোবটিক হাত আবিষ্কার করতে সক্ষম হন সাদ্দাম। পরে দেখলেন এই হাত মানবকল্যাণেও ব্যবহার করা যাবে।

এই ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শরীরের কিংবা রক্ত চলাচলে কোনো সমস্যা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম বলেন, এ রকম স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবু ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই হাত ব্যবহার করতে বলব আমি।
কথা বলে জানা গেছে, সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের এটিই প্রথম উদ্ভাবন কিংবা আবিষ্কার নয়; এর আগে তিনি হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি উদ্ভাবন করেন। এর মাধ্যমে তার ছাড়াই কথা বলা যাবে দূর-দূরান্তে। তবে এ ক্ষেত্রে লাগবে আলোর সাহায্য। আলো যতদূর পৌঁছাবে, হ্যাকপ্রুপ লেজার টকির সাহায্যে ততদূর তার ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

এই ডিভাইস আবিষ্কারের ফলে ঝড়ঝঞ্ঝা, সাইক্লোনকবলিত এলাকার লোকজনের উপকার হবে। ঝড়-সাইক্লোনের পর ওইসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও টেলিফোন লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে হ্যাকপ্রুপ লেজার টকির সাহায্যে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকা যেখানে নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে এই ডিভাইসের সাহায্যে সহজে যোগাযোগ করা যাবে। যারা গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান, তাদের ক্ষেত্রে যোগাযোগে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের আবিষ্কারের মধ্যে আরও রয়েছে— রোবট ট্রলি, যেটি রিমোট দিয়ে পরিচালিত হবে। করোনাকালে তিনি এটি আবিষ্কার করেছেন। রিমোটের সাহায্যে পরিচালিত এই ট্রলি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে খাবারসহ জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেবে। করোনা আক্রান্ত রোগী ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকলে তার কাছে না গিয়েও এই ট্রলির সাহায্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার পৌঁছে দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া পানি ঠাণ্ডা করার পাত্র আবিষ্কার করেছেন সাদ্দাম। চার্জারের সাহায্যে মোবাইল থেকে চার্জ দিয়ে পানি ঠাণ্ডা করা যাবে।
তরুণ গবেষক সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের জন্ম ময়মনসিংহে। সপরিবারে থাকেন ঢাকার ওয়ারীতে। চাকরি করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। পড়ালেখা করেছেন ভারতের বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি করে দেশে ফিরে কাজ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ওয়ারীর বাসায়-ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন অনুসন্ধিৎসু সাদ্দাম।

ভিডিও

ব্যতিক্রমী কৃত্রিম হাত আবিষ্কার করে চমকে দিলেন ঢাকার যুবক (ভিডিও)

 আতাউর রহমান 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমাদের চারপাশে এমন অসহায় বহু মানুষ আছেন, যাদের জন্ম থেকেই দুই হাত নেই।  আবার অনেকে হাত নিয়ে জন্ম নিয়েছিলেন কিন্তু দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। কারও আবার হাত আছে কিন্তু তা দিয়ে কাজ করতে পারেন না— পক্ষাঘাতগ্রস্ত।  শারীরিকভাবে অক্ষম এমন মানুষের জন্য ব্যতিক্রমী কৃত্রিম হাত আবিষ্কার করেছেন ঢাকার এক যুবক। জন্ম থেকে যাদের হাত নেই কিংবা দুর্ঘটনায় যারা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটি হারিয়েছেন, তারা কৃত্রিম হাতের সাহায্যে দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারবেন।  

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য অনন্য এ আবিষ্কারটি করেছেন সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ।  মূলত মানবসেবার উদ্দেশেই কম খরচের যান্ত্রিক এ হাতের আবিষ্কার তার। 

সাদ্দামের আবিষ্কার কৃত্রিম হাতের সাহায্যে মোবাইল ফোন ও রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবহার করা যাবে। ১০ কেজি পর্যন্ত ওজনের জিনিস উত্তোলন করা যাবে। অন্যের সাহায্য ছাড়া চামচের মাধ্যমে খাবার খাওয়া যাবে।  লেখাও যাবে কৃত্রিম এই হাত দিয়ে।
এ ছাড়া যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হাত দিয়ে করা সম্ভব নয়, যেমন— বিদ্যুতের সুইচ-ফ্যান মেরামতের কাজ কিংবা যে কোনো ইলেকট্রিক পণ্য মেরামতের কাজ করা যাবে কৃত্রিম হাতের সাহায্যে। বডি কন্ট্রোল সুইচের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এই হাত। সুইচ দিয়ে নির্দেশনা দিলেই হাতের আঙুলগুলো কাজ করবে। 

কৃত্রিম এই হাত তৈরির কারণ সম্পর্কে সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, যাদের হাত নেই তাদের জন্য কিছু একটা করা দরকার। সেই মানবিক চিন্তা থেকে আমার এ উদ্যোগ। পঙ্গু-প্যারালাইজড রোগী, যারা হাত নড়াচড়া করতে পারেন না, তাদের জন্য এই ডিভাইস কাজে লাগবে।  এ ছাড়া বাজারে যেসব কৃত্রিম হাত পাওয়া যায়, সেগুলো খুব একটা কাজ করে না। আবার যেসব হাত কাজ করে, সেগুলো কিনতে খরচ বেশি হয়।  তাই আমি কম খরচে এই হাত তৈরি করেছি, যেটি মানবকল্যাণে ব্যবহার হবে। 

এই হাতের ব্যবহার সম্পর্কে সাদ্দাম জানান, ছোট্ট একটি ডিভাইসের সাহায্যে সহজেই হাতটি শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে লাগিয়ে দেওয়া হবে। যার কব্জি নেই, সেই মাপে হাত বানিয়ে কব্জিতে ডিভাইসটি বসিয়ে দেওয়া হবে।  যার কনুই পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন, তার জন্য সেই মাপমতো হাত তৈরি করে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে দেওয়া যাবে। ওই ডিভাইসটির সাহায্যে নির্দেশনা নেবে হাত। সেই অনুযায়ী কাজ করবে।

মূলত দুই ধরনের হাত তৈরি করেছেন সাদ্দাম। হাইব্রিড হাত ও রোবটিক হাত। দুটির কাজ প্রায় একই। রোবটিক হাতে খরচ বেশি আর হাইব্রিড হাতে খরচ তুলনামূলক কম।  

জন্ম থেকে হাত নেই অথবা দুর্ঘটনায় হাত হারিয়ে ফেলেছেন এমন ১০০ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে কৃত্রিম এই হাত দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে সাদ্দামের। অসহায় এই মানুষগুলো হাইব্রিড হাতের সাহায্যে দৈনন্দিন কাজ করতে পারলে তার পরিশ্রম সার্থক হবে বলে জানান সাদ্দাম।

‘প্রথমে একশ’ শিক্ষার্থীকে কৃত্রিম হাত দিতে চাই।  নিজ খরচে হাতগুলো তৈরি করছি।  এগুলো মানুষের উপকারে এলে আমি তৃপ্তি পাব।’
নিজের আবিষ্কৃত হাইব্রিড ও রোবটিক হাতের মেধাস্বত্ব পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, রোবটিক হাত তৈরি করতে আমার ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আর হাইব্রিড হাত তৈরি করতে ৫ হাজার টাকার মতো খরচ।  মেধাস্বত্ব পাওয়ার পর আমি হাতগুলো সরবরাহ করব। 

রোবটিক হাতের ভিডিও

 

কৃত্রিম হাত আবিষ্কারের নেপথ্যে একটি গল্প রয়েছে বলে জানান এ বিরল প্রতিভার অধিকারী সাদ্দাম। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার ঝোঁক রয়েছে।  কিছু একটা পেলেই তা নিয়ে গবেষণা শুরু করতে ভালো লাগত। 

পরে শিশুকন্যার ইচ্ছাপূরণে এ পর্যন্ত বেশ কিছু ডিভাইস আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান সাদ্দাম। কৃত্রিম হাতও তার একটি। একদিন বাসায় খেলা করার সময় জানালা দিয়ে সানসেটে খেলনা পড়ে যায় মেয়ের। তখন মনে হলো কৃত্রিম একটি হাত থাকলে তো সেটির সাহায্যে শিশু নিজেই খেলনাটি আনতে পারত। সেই থেকে গবেষণা শুরু। গবেষণার এক-দেড় মাসের মধ্যেই রোবটিক হাত আবিষ্কার করতে সক্ষম হন সাদ্দাম।  পরে দেখলেন এই হাত মানবকল্যাণেও ব্যবহার করা যাবে।  

এই ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শরীরের কিংবা রক্ত চলাচলে কোনো সমস্যা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম বলেন, এ রকম স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।  তবু ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই হাত ব্যবহার করতে বলব আমি।  
কথা বলে জানা গেছে, সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের এটিই প্রথম উদ্ভাবন কিংবা আবিষ্কার নয়; এর আগে তিনি হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি উদ্ভাবন করেন। এর মাধ্যমে তার ছাড়াই কথা বলা যাবে দূর-দূরান্তে। তবে এ ক্ষেত্রে লাগবে আলোর সাহায্য। আলো যতদূর পৌঁছাবে, হ্যাকপ্রুপ লেজার টকির সাহায্যে ততদূর তার ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

এই ডিভাইস আবিষ্কারের ফলে ঝড়ঝঞ্ঝা, সাইক্লোনকবলিত এলাকার লোকজনের উপকার হবে।  ঝড়-সাইক্লোনের পর ওইসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও টেলিফোন লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে হ্যাকপ্রুপ লেজার টকির সাহায্যে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকা যেখানে নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে এই ডিভাইসের সাহায্যে সহজে যোগাযোগ করা যাবে। যারা গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান, তাদের ক্ষেত্রে যোগাযোগে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের আবিষ্কারের মধ্যে আরও রয়েছে— রোবট ট্রলি, যেটি রিমোট দিয়ে পরিচালিত হবে। করোনাকালে তিনি এটি আবিষ্কার করেছেন। রিমোটের সাহায্যে পরিচালিত এই ট্রলি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে খাবারসহ জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেবে। করোনা আক্রান্ত রোগী ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকলে তার কাছে না গিয়েও এই ট্রলির সাহায্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার পৌঁছে দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া পানি ঠাণ্ডা করার পাত্র আবিষ্কার করেছেন সাদ্দাম।  চার্জারের সাহায্যে মোবাইল থেকে চার্জ দিয়ে পানি ঠাণ্ডা করা যাবে।
তরুণ গবেষক সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের জন্ম ময়মনসিংহে। সপরিবারে থাকেন ঢাকার ওয়ারীতে। চাকরি করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। পড়ালেখা করেছেন ভারতের বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি করে দেশে ফিরে কাজ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ওয়ারীর বাসায়-ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন অনুসন্ধিৎসু সাদ্দাম।

ভিডিও

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন