বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সাশ্রয় করবে বৈদেশিক মুদ্রা: পলক

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ মে ২০১৮, ০১:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট চালু হলে এ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রথম এই কৃত্রিম উপগ্রহের বাড়তি সক্ষমতা ভাড়া দিয়ে বিদেশি মুদ্রা আয়ও হবে বলে মনে করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঐতিহাসিক মুহূর্তের আগে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

বর্তমানে বাংলাদেশের সব টিভি চ্যানেল তাদের সম্প্রচারের জন্য বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর টিভি চ্যানেলগুলোর বিদেশনির্ভরতা যেমন কমে আসবে, তেমনি সাশ্রয় হবে মহামূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। আমরা দেশের সব টিভি চ্যানেলের চাহিদা মিটিয়ে আমাদের স্যাটেলাইট অন্যান্য দেশের টিভি চ্যানেলের জন্য ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করতে পারব। আমাদের স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। আমাদের বর্তমানে যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণ করে পরিকল্পনা রয়েছে, অন্তত ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশিদের জন্য ভাড়া দেব।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যেখানে ফাইবার অপটিক দিয়ে ইন্টারনেট সেবা দেয়া কঠিন, সেসব জায়গায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

পলক বলেন, ‘এর বাইরেও যোগাযোগ স্যাটেলাইট তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে সক্ষম হবে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়। দুর্যোগের সময় ভূমিকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকলেও স্যাটেলাইট তখন কার্যকর থাকে। শুধু তা-ই নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে-পরেও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

এই উদ্যোগের জন্য প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভ‚মিকার কথাও স্মরণ করেন।

ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে স্থানীয় সময় ১০ মে বিকাল ৪টা ১২ মিনিট থেকে ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিট) কক্ষপথে রওনা হবে বঙ্গবন্ধু-১।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে মহাকাশের জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার কক্ষপথে নিয়ে যাবে ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক ৫ সংস্করণ।

যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে : বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ জন্য বছরে ব্যয় হয় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে এ ব্যয় অনেক কমে আসবে। এ ছাড়া স্যাটেলাইটের তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা যাবে। টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ বহু সেবা পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

যে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে। তাছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস, টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্স প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান ও অন্যান্য দেশের কাছে সেবা ভাড়া দিতে পারবে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা যাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শেষে ৩০ মার্চ এটি উৎক্ষেপণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। দেশের প্রথম এ স্যাটেলাইট তৈরিতে খরচ ধরা হয় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার ও বাকি ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেয়া হয়েছে। এ ঋণ দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়। মহাকাশে এ কক্ষপথের অবস্থান ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এ কক্ষপথ কেনা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter