দাদু ভাইয়ের অপ্রকাশিত শেষ গল্প (ভিডিও)
jugantor
দাদু ভাইয়ের অপ্রকাশিত শেষ গল্প (ভিডিও)

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩৮:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দাদু ভাইয়ের অপ্রকাশিত শেষ গল্প (ভিডিও)

বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, শিশু সংগঠক ও নাট্যকার প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল হক দাদু ভাই আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সবাইকে কাঁদিয়ে রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর মুগদার নিজ বাসায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। প্রবীণ সাহিত্যিক ও ছড়াকারের মৃত্যুতে শোকাহত হাজারও ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী।

রফিকুল হক প্রায় ছয় মাস ধরে শয্যাশায়ী। মহামারি করোনায় দুদফা আক্রান্ত হওয়ার পর আর সুস্থ হতে পারেননি। নানা জটিলতায় ভোগে পরপারে চলে গেলেন। অসুস্থ হওয়ার আগ মুহূর্তে নিজের জীবনের গল্প বলেন দাদু ভাই। সেই অপ্রকাশিত গল্পে রফিকুল হকের জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, দুঃখ-বেদনার কথা উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, আমার দেশের বাড়ি রংপুর। লেখাপড়া করে একদিন ঢাকায় এসেছিলাম, কর্মজীবনে প্রবেশ করতে। এর আগে ঢাকার জগন্নাথ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছিলাম। আমার প্রথম বাড়ি রংপুর, দ্বিতীয় বাড়ি ঢাকা।


কিশোরগঞ্জের প্রতি ছড়াকারের আলাদা টানের গল্প ও এই জেলায় প্রতি বছর আয়োজন করা ছড়া উৎসব নিয়ে স্মৃতিচারণ ফুটে উঠেছে এই গল্পে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ গীতিকা নিয়ে সাহিত্যিক মূল্যায়ন উঠে এসেছে রফিকুল হকের গল্পে।

রফিকুল হক বলেন, কেমন করে জানি আমি এই জেলার মানুষের সঙ্গে, সাহিত্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেলাম। প্রতি বছর এখানে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা ও ছড়া উৎসব হয়। রাজধানীর বাইরে একটি শহরে একটি ছড়া উৎসব, যেটি চিন্তাও করা যায় না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছড়া ও লোকজন উৎসব হয়। এই উৎসবের জন্য ছড়াকাররা মুখিয়ে থাকেন। মার্চের এই ছড়া উৎসবে আমি প্রতি বছর যাই। কলকাতা, ত্রিপুরা, আসামের ছাড়াকারও আসেন।


হাওরের দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি আপনাকে আকৃষ্ট করবে। মনটা আপনার ভালো হয়ে যাবে। মহাকাব্য রচনা হতে পারে। সে কারণেই হয়েছে ময়মনসিংহ গীতিকা। কদিন আগে মা দিবস হয়ে গেল। সেই দিবস উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে আমি হাওরের কবির দুই চরণ উল্লেখ করলাম। মায়ের বর্ণনায় ময়মনসিংহ গীতিকায় হাওরের কবি, গঞ্জের কবি বলেছেন— ‘আধা পিঠ খাইল মায়ের মাঘ মাইস্যা শীতে, আধা পিঠ খাইল মায়ের গুয়ে আর মুতে। ’ চিন্তা করেন একটা মায়ের সন্তানকে লালন করার জন্য কী মায়া, মমতা সেটি কীভাবে ময়মনসিংহ গীতিকায় উল্লেখ আছে। মায়ের ভালোবাসা প্রকাশের ভেতরের আবেগ প্রকাশিত হয়েছে ময়মনসিংহ গীতিকায়। প্রকৃতিগত কারণে ময়মনসিংহ গীতিকা সর্বজন গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

ভিডিও

প্রসঙ্গত রফিকুল হকের জন্ম ১৯৩৭ সালের ৮ জানুয়ারি। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের কামালকাচনায়। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে দেশের বাইরে থাকেন।
সত্তরের দশকে গড়া শিশুকিশোরদের সংগঠন ‘চাঁদের হাটে’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন যুগান্তরের ফিচার এডিটর দাদু ভাই। এর আগে তার পরিকল্পনায় এবং তার তত্ত্বাবধানে দৈনিক পূর্বদেশে ‘চাদের হাট’ নামে ছোটদের একটি পাতা বের হতো। তখন থেকে তিনি ‘দাদু ভাই’ নামে পরিচিতি পান। পরে ১৯৭৪ সালে ‘চাঁদের হাট’ নামে শিশু সংগঠন গড়ে তোলেন।


১৯৭২ সাল দেশে প্রত্যাবর্তনের পর চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু লন্ডন যান। তার দেশে ফিরে আসা উপলক্ষ্যে সেই সময়ের বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘পূর্বদেশ’ একটি বিশেষ সংখ্যা বের করে। ওই পত্রিকার প্রথম পাতায় বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে ‘ঘরে ফিরা আইসো বন্ধু’ শিরোনামে একটি কবিতা ছাপা হয়। রফিকুল হকের লেখা ওই কবিতা খুবই আলোচিত হয়।


বাংলা শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রফিকুল হক দাদু ভাই ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একই বছর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চন্দ্রাবতী একাডেমি পুরস্কার, নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন।
তিনি যুগান্তরের ফিচার এডিটর ছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছিলেন। নব্বই দশকে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক রূপালীর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বর্ষীয়ান এ সাংবাদিক।


এর আগে দৈনিক জনতার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। কাজ করেছেন দৈনিক লাল-সবুজ, আজাদ, বাংলাদেশ অবজারভারে।
সত্তর দশকে শিশুকিশোরদের জনপ্রিয় ‘কিশোর বাংলা’ নামের সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন তিনি।


আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ‘নিধুয়া পাথার কান্দে’ নামে একটি নাটক লিখেছিলেন তিনি, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘বর্গি এলো দেশে’সহ তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা সাতটি।

দাদু ভাইয়ের অপ্রকাশিত শেষ গল্প (ভিডিও)

 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দাদু ভাইয়ের অপ্রকাশিত শেষ গল্প (ভিডিও)
ফাইল ছবি

বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, শিশু সংগঠক ও নাট্যকার প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল হক দাদু ভাই আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

সবাইকে কাঁদিয়ে রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর মুগদার নিজ বাসায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। প্রবীণ সাহিত্যিক ও ছড়াকারের মৃত্যুতে শোকাহত হাজারও ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী। 

রফিকুল হক প্রায় ছয় মাস ধরে শয্যাশায়ী। মহামারি করোনায় দুদফা আক্রান্ত হওয়ার পর আর সুস্থ হতে পারেননি। নানা জটিলতায় ভোগে পরপারে চলে গেলেন। অসুস্থ হওয়ার আগ মুহূর্তে নিজের জীবনের গল্প বলেন দাদু ভাই। সেই অপ্রকাশিত গল্পে রফিকুল হকের জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, দুঃখ-বেদনার কথা উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, আমার দেশের বাড়ি রংপুর। লেখাপড়া করে একদিন ঢাকায় এসেছিলাম, কর্মজীবনে প্রবেশ করতে। এর আগে ঢাকার জগন্নাথ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছিলাম। আমার প্রথম বাড়ি রংপুর, দ্বিতীয় বাড়ি ঢাকা।  


কিশোরগঞ্জের প্রতি ছড়াকারের আলাদা টানের গল্প ও এই জেলায় প্রতি বছর আয়োজন করা ছড়া উৎসব নিয়ে স্মৃতিচারণ ফুটে উঠেছে এই গল্পে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ গীতিকা নিয়ে সাহিত্যিক মূল্যায়ন উঠে এসেছে রফিকুল হকের গল্পে।  

রফিকুল হক বলেন, কেমন করে জানি আমি এই জেলার মানুষের সঙ্গে, সাহিত্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেলাম। প্রতি বছর এখানে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা ও ছড়া উৎসব হয়।  রাজধানীর বাইরে একটি শহরে একটি ছড়া উৎসব, যেটি চিন্তাও করা যায় না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছড়া ও লোকজন উৎসব হয়। এই উৎসবের জন্য ছড়াকাররা মুখিয়ে থাকেন।  মার্চের এই ছড়া উৎসবে আমি প্রতি বছর যাই। কলকাতা, ত্রিপুরা, আসামের ছাড়াকারও আসেন।  


হাওরের দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি আপনাকে আকৃষ্ট করবে। মনটা আপনার ভালো হয়ে যাবে। মহাকাব্য রচনা হতে পারে।  সে কারণেই হয়েছে ময়মনসিংহ গীতিকা।  কদিন আগে মা দিবস হয়ে গেল।  সেই দিবস উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে আমি হাওরের কবির দুই চরণ উল্লেখ করলাম। মায়ের বর্ণনায় ময়মনসিংহ গীতিকায় হাওরের কবি, গঞ্জের কবি বলেছেন— ‘আধা পিঠ খাইল মায়ের মাঘ মাইস্যা শীতে, আধা পিঠ খাইল মায়ের গুয়ে আর মুতে। ’ চিন্তা করেন একটা মায়ের সন্তানকে লালন করার জন্য কী মায়া, মমতা সেটি কীভাবে ময়মনসিংহ গীতিকায় উল্লেখ আছে। মায়ের ভালোবাসা প্রকাশের ভেতরের আবেগ প্রকাশিত হয়েছে ময়মনসিংহ গীতিকায়। প্রকৃতিগত কারণে ময়মনসিংহ গীতিকা সর্বজন গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। 
 

ভিডিও

 

প্রসঙ্গত রফিকুল হকের জন্ম ১৯৩৭ সালের ৮ জানুয়ারি। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের কামালকাচনায়। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে দেশের বাইরে থাকেন।
সত্তরের দশকে গড়া শিশুকিশোরদের সংগঠন ‘চাঁদের হাটে’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন যুগান্তরের ফিচার এডিটর দাদু ভাই। এর আগে তার পরিকল্পনায় এবং তার তত্ত্বাবধানে দৈনিক পূর্বদেশে ‘চাদের হাট’ নামে ছোটদের একটি পাতা বের হতো। তখন থেকে তিনি ‘দাদু ভাই’ নামে পরিচিতি পান। পরে ১৯৭৪ সালে ‘চাঁদের হাট’ নামে শিশু সংগঠন গড়ে তোলেন।


১৯৭২ সাল দেশে প্রত্যাবর্তনের পর চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু লন্ডন যান। তার দেশে ফিরে আসা উপলক্ষ্যে সেই সময়ের বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘পূর্বদেশ’ একটি বিশেষ সংখ্যা বের করে। ওই পত্রিকার প্রথম পাতায় বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে ‘ঘরে ফিরা আইসো বন্ধু’ শিরোনামে একটি কবিতা ছাপা হয়। রফিকুল হকের লেখা ওই কবিতা খুবই আলোচিত হয়।


বাংলা শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রফিকুল হক দাদু ভাই ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একই বছর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চন্দ্রাবতী একাডেমি পুরস্কার, নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন।
তিনি যুগান্তরের ফিচার এডিটর ছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছিলেন। নব্বই দশকে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক রূপালীর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বর্ষীয়ান এ সাংবাদিক। 


এর আগে দৈনিক জনতার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। কাজ করেছেন দৈনিক লাল-সবুজ, আজাদ, বাংলাদেশ অবজারভারে।
সত্তর দশকে শিশুকিশোরদের জনপ্রিয় ‘কিশোর বাংলা’ নামের সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন তিনি।


আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ‘নিধুয়া পাথার কান্দে’ নামে একটি নাটক লিখেছিলেন তিনি, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘বর্গি এলো দেশে’সহ তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা সাতটি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন