ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশুরা 
jugantor
কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের বিবৃতি
ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশুরা 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫৯:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ধর্মীয় উন্মাদনা এবং বিভেদ সৃষ্টির কারণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের মননে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং শিশুরা হচ্ছে ভীতসন্ত্রস্ত, উৎকণ্ঠিত।

বুধবার কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুনু আলী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নগ্ন হামলার প্রতিবাদে খেলাঘরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় বিভাজন টেনে সম্প্রীতির বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে চিহ্নিত করার কূট-কৌশলে মেতেছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।

খেলাঘরের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের অন্যতম সৌন্দর্য হলো সম্প্রীতির মেলবন্ধন। যে বন্ধন তেরশত নদীর মতোই অবিচ্ছেদ্য, বহমান পলল মিশ্রিত জলের মতোই এক মোহনায় মিলিত হয়ে রূপ নিয়েছে বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে। বৈশাখ কিংবা পৌষ-বসন্ত তারই সাক্ষ্য বহন করে। একই দিন সংঘাতহীনভাবে ব্যাপক সমারোহে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ এবং সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গাপূজা উদযাপনের বিরল এবং অনন্য দৃষ্টান্ত বাঙালি সংস্কৃতির উজ্জ্বল প্রমাণ।

এ দেশের শিশুদের ঘুম ভাঙে মসজিদের আজান আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনিতে। এটাই আমাদের কৃষ্টি, এভাবেই এ দেশের শিশুরা বেড়ে ওঠে একই আলো-বাতাসে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং কিছু স্বার্থান্বেসী রাজনৈতিক মহল তাদের হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর বারবার আঘাত হানছে। ধর্মীয় রেখা টেনে এক সংঘাতময় বাংলাদেশ তৈরির অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। সদ্য ঘটে যাওয়া কুমিল্লার ঘটনা তারই উদাহরণ। এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবে।

আর ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
৪১। (১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে।
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে।

খেলাঘরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যে মৌলবাদী গোষ্ঠী ও স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা বিনষ্ট করার প্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে ‘খেলাঘর’।

বিবৃতিতে বলা হয়, খেলাঘর বিশ্বাস করে- আজকের শিশুরাই আগামী বাংলাদেশ নির্মাণের মূল শক্তি। আজকের শিশুদের হাত ধরেই নির্মিত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়,শহীদের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। বিজ্ঞানমনস্ক জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে তুলে ধরবে বাংলদেশের লাল সবুজ পতাকা। সেই লক্ষ্যে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টিকারী, রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তে যুক্ত এসব ধর্মহীন জঙ্গিবাদী গোষ্ঠিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে খেলাঘর। তবেই গড়ে উঠবে শিশুর বাসযোগ্য ভয়ভীতিহিন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের বিবৃতি

ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশুরা 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ধর্মীয় উন্মাদনা এবং বিভেদ সৃষ্টির কারণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের মননে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং শিশুরা হচ্ছে ভীতসন্ত্রস্ত, উৎকণ্ঠিত। 

বুধবার কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুনু আলী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। 

সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নগ্ন হামলার প্রতিবাদে খেলাঘরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় বিভাজন টেনে সম্প্রীতির বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে চিহ্নিত করার কূট-কৌশলে মেতেছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।

খেলাঘরের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়,  বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের অন্যতম সৌন্দর্য হলো সম্প্রীতির মেলবন্ধন। যে বন্ধন তেরশত নদীর মতোই অবিচ্ছেদ্য, বহমান পলল মিশ্রিত জলের মতোই এক মোহনায় মিলিত হয়ে রূপ নিয়েছে বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে। বৈশাখ কিংবা পৌষ-বসন্ত তারই সাক্ষ্য বহন করে। একই দিন সংঘাতহীনভাবে ব্যাপক সমারোহে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ এবং সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গাপূজা উদযাপনের বিরল এবং অনন্য দৃষ্টান্ত বাঙালি সংস্কৃতির উজ্জ্বল প্রমাণ। 

এ দেশের শিশুদের ঘুম ভাঙে মসজিদের আজান আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনিতে। এটাই আমাদের কৃষ্টি, এভাবেই এ দেশের শিশুরা বেড়ে ওঠে একই আলো-বাতাসে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং কিছু স্বার্থান্বেসী রাজনৈতিক মহল তাদের হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর বারবার আঘাত হানছে। ধর্মীয় রেখা টেনে এক সংঘাতময় বাংলাদেশ তৈরির অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। সদ্য ঘটে যাওয়া কুমিল্লার ঘটনা তারই উদাহরণ। এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবে।

আর ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
৪১। (১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে।
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে।

খেলাঘরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যে মৌলবাদী গোষ্ঠী ও স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা বিনষ্ট করার প্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে ‘খেলাঘর’।

বিবৃতিতে বলা হয়, খেলাঘর বিশ্বাস করে- আজকের শিশুরাই আগামী বাংলাদেশ নির্মাণের মূল শক্তি। আজকের শিশুদের হাত ধরেই নির্মিত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়,শহীদের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। বিজ্ঞানমনস্ক জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে তুলে ধরবে বাংলদেশের লাল সবুজ পতাকা। সেই লক্ষ্যে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টিকারী, রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তে যুক্ত এসব ধর্মহীন জঙ্গিবাদী গোষ্ঠিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে খেলাঘর। তবেই গড়ে উঠবে শিশুর বাসযোগ্য ভয়ভীতিহিন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন