যেভাবে ইকবালকে ধরলেন তিন ছাত্র (ভিডিও)
jugantor
যেভাবে ইকবালকে ধরলেন তিন ছাত্র (ভিডিও)

  অনলাইন ডেস্ক  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৭:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

ইকবাল (বৃত্তচিহ্নিত)

নোয়াখালীর চৌমুহনী এস এ কলেজের ৩ ছাত্র সম্প্রতি অনার্স পরীক্ষা শেষে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিলেন ৩ বন্ধু। কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে ঘুরতে গিয়ে তারা উদ্ভ্রান্তের মতো একজনকে ঘুরতে দেখেন। প্রথম দিন সাধারণ ট্যুরিস্ট বা ভবঘুরে ভেবে পাত্তা দেননি তারা।

পরেরদিনও একই জায়গায় ওই ব্যক্তিকে ঘুরতে দেখেন তারা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তারা ফোন দেন পুলিশকে। পরে পুলিশের তৎপরতায় যিনি ধরা পড়লেন তিনি কুমিল্লার নানুয়ার দিঘী পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রেখে আসা ইকবাল! যাকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল গত সাতদিন ধরে।

ওই ৩ ছাত্রের ফোন পেয়ে নোয়াখালীর এএসপি পুরো বিষয়টি কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে জানিয়ে বলেন, কয়েকজন ছেলে আমাকে জানালো যে তারা ইকবালকে দেখেছে, তবে ছেলেগুলো নিশ্চিত না যে এটাই ইকবাল কিনা। তবে ছেলেরা বলেছে যে, গণমাধ্যমে আসা ছবির সঙ্গে এই ব্যক্তির চেহারার মিল আছে।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার তাকে. জানান সমুদ্র সৈকত থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়েছে ইকবালের মতো একজনকে দেখা যাচ্ছে। ইমিডিয়েট স্টেপ হিসেবে যারা ফোন করেছিল তাদেরকে আমরা পুলিশ না পৌঁছানো পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখতে বলি। পরে কক্সবাজার জেলার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইকবালকে আটক করে।

পুলিশ বলছে, পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনার একদিন পরই এর সঙ্গে কে জড়িত তা জানতে পেরেছিল পুলিশ। এরপর শুরু হয় খোঁজ। কিন্তু কিছুতেই পাওয়া যাচ্ছিল না ইকবালকে। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেন যে, আমাদের সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না, এজন্যই তাকে ধরতে সময় লাগছে।

ইকবালকে ধরার অভিযানে যেসব পুলিশ সদস্য ছিলেন তারা জানান, কক্সবাজার থেকে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত ছোট ছোট দলে পুলিশ ৩৫ থেকে ৪০ টি অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু ইকবালকে ধরা যায়নি।

এ ঘটনার তদন্তে কুমিল্লা জেলা পুলিশ থেকে শুরু করে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যুক্ত ছিল।

এ দলের অন্যতম সদস্য এটিইউ এর পুলিশ সুপার মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ১৩ অক্টোবর ঘটনা ঘটার পর এটিইউ এর ১৫ জনের একটি দল কুমিল্লায় যায়। ১৪ অক্টোবর মধ্যরাতে তারা ইকবালকে শনাক্ত করেন। তবে জানা গেছে যে, ঘটনার পরও ইকবাল বেশ কয়েকদিন কুমিল্লায়ই ছিলেন। ইকবাল কক্সবাজারে কবে কীভাবে গেলেন তা পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়।

এদিকে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত ইকবাল হোসেন। শুক্রবার বিকালে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত দলের জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নগরীর নানুয়ার দীঘিরপাড়ে দর্পণ সংঘের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখার পর হনুমানের মূর্তি থেকে গদা সরিয়ে নেওয়ার কথাও স্বীকার করে ইকবাল। তবে কার নির্দেশে সে এ কাজটি করেছে অথবা ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত- এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ যুগান্তরকে জানান, ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না করা পর্যন্ত কোনো বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারব না। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে সব বিষয়ে আপনাদের জানানো হবে।

যেভাবে ইকবালকে ধরলেন তিন ছাত্র (ভিডিও)

 অনলাইন ডেস্ক 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ইকবাল (বৃত্তচিহ্নিত)
ইকবাল (বৃত্তচিহ্নিত)

নোয়াখালীর চৌমুহনী এস এ কলেজের ৩ ছাত্র সম্প্রতি অনার্স পরীক্ষা শেষে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিলেন ৩ বন্ধু। কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে ঘুরতে গিয়ে তারা উদ্ভ্রান্তের মতো একজনকে ঘুরতে দেখেন। প্রথম দিন সাধারণ ট্যুরিস্ট বা ভবঘুরে ভেবে পাত্তা দেননি তারা।

পরেরদিনও একই জায়গায় ওই ব্যক্তিকে ঘুরতে দেখেন তারা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তারা ফোন দেন পুলিশকে। পরে পুলিশের তৎপরতায় যিনি ধরা পড়লেন তিনি কুমিল্লার নানুয়ার দিঘী পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রেখে আসা ইকবাল! যাকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল গত সাতদিন ধরে।

ওই ৩ ছাত্রের ফোন পেয়ে নোয়াখালীর এএসপি পুরো বিষয়টি কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে জানিয়ে বলেন, কয়েকজন ছেলে আমাকে জানালো যে তারা ইকবালকে দেখেছে, তবে ছেলেগুলো নিশ্চিত না যে এটাই ইকবাল কিনা। তবে ছেলেরা বলেছে যে, গণমাধ্যমে আসা ছবির সঙ্গে এই ব্যক্তির চেহারার মিল আছে।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার তাকে. জানান সমুদ্র সৈকত থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়েছে ইকবালের মতো একজনকে দেখা যাচ্ছে। ইমিডিয়েট স্টেপ হিসেবে যারা ফোন করেছিল তাদেরকে আমরা পুলিশ না পৌঁছানো পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখতে বলি। পরে কক্সবাজার জেলার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইকবালকে আটক করে।

পুলিশ বলছে, পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনার একদিন পরই এর সঙ্গে কে জড়িত তা জানতে পেরেছিল পুলিশ। এরপর শুরু হয় খোঁজ। কিন্তু কিছুতেই পাওয়া যাচ্ছিল না ইকবালকে। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেন যে, আমাদের সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না, এজন্যই তাকে ধরতে সময় লাগছে।

ইকবালকে ধরার অভিযানে যেসব পুলিশ সদস্য ছিলেন তারা জানান, কক্সবাজার থেকে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত ছোট ছোট দলে পুলিশ ৩৫ থেকে ৪০ টি অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু ইকবালকে ধরা যায়নি।
 
এ ঘটনার তদন্তে কুমিল্লা জেলা পুলিশ থেকে শুরু করে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যুক্ত ছিল।

এ দলের অন্যতম সদস্য এটিইউ এর পুলিশ সুপার মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ১৩ অক্টোবর ঘটনা ঘটার পর এটিইউ এর ১৫ জনের একটি দল কুমিল্লায় যায়। ১৪ অক্টোবর মধ্যরাতে তারা ইকবালকে শনাক্ত করেন। তবে জানা গেছে যে, ঘটনার পরও ইকবাল বেশ কয়েকদিন কুমিল্লায়ই ছিলেন। ইকবাল কক্সবাজারে কবে কীভাবে গেলেন তা পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়।

এদিকে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত ইকবাল হোসেন। শুক্রবার বিকালে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত দলের জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নগরীর নানুয়ার দীঘিরপাড়ে দর্পণ সংঘের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখার পর হনুমানের মূর্তি থেকে গদা সরিয়ে নেওয়ার কথাও স্বীকার করে ইকবাল। তবে কার নির্দেশে সে এ কাজটি করেছে অথবা ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত- এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ যুগান্তরকে জানান, ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না করা পর্যন্ত কোনো বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারব না। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে সব বিষয়ে আপনাদের জানানো হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন