পীরগঞ্জে হামলা অগ্নিসংযোগ কার নেতৃত্বে কেন, জানাল র‌্যাব
jugantor
পীরগঞ্জে হামলা অগ্নিসংযোগ কার নেতৃত্বে কেন, জানাল র‌্যাব

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৩১:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পীরগঞ্জে হামলা অগ্নিসংযোগ কার নেতৃত্বে কেন, জানাল র‌্যাব

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ধর্মীয় অবমাননার জেরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।রংপুরের পীরগঞ্জ, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে হামলা হয়।এসব ঘটনায় বহু মামলা ও আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসব ঘটনার মধ্যে বেশি গুজব আর অপপ্রচার চালানো হয় রংপুরের পীরগঞ্জে জেলেপল্লিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়।র‌্যাব জানায়, পীরগঞ্জে জেলেপল্লিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পেছনে নেতৃত্ব দেন সৈকত মণ্ডল (২৪) নামের এক শিক্ষার্থী।সৈকত ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য ও মিথ্যা পোস্টের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে স্থানীয় লোকজনকে উত্তেজিত করেন।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার দিন একটি মসজিদ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করেন সৈকতের সহযোগী রবিউল ইসলাম (৩৬)। এরপরই হামলা চালানো হয়।

গতকাল (২২ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গী থেকে সৈকত মণ্ডল ও রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। সৈকতের বাবার নাম মো. রাশেদুল হক। তার বাড়ি পীরগঞ্জে। আর রবিউলের বাবার নাম মো. মোসলেম উদ্দীন। তার বাড়িও পীরগঞ্জে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পীরগঞ্জের বড়করিমপুরে পরিতোষ সরকার ও উজ্জ্বল নামের দুই তরুণের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল। এর জের ধরে পরিতোষের ধর্ম নিয়ে উজ্জ্বল কটূক্তি করেন। পরে পরিতোষ ফেসবুক মেসেঞ্জারে উজ্জ্বলের ধর্ম নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করেন। পরিতোষের ওই মন্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করেন উজ্জ্বল।উজ্জ্বলের ওই পোস্ট সৈকত আবার তার নিজের ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে দেন।

র‌্যাব কমান্ডার বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর থেকেই সৈকত নানা উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছিলেন। পরিতোষ ও উজ্জ্বলের দ্বন্দ্বের ঘটনাকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছিলেন সৈকত। তার একটি ফেসবুক পেজ আছে। সেখানে তার প্রায় ৩ হাজার অনুসারী রয়েছে।

তিনি বলেন, সৈকত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে একটি ‘দুর্বল সময়ের’ জন্য অপেক্ষা করছিলেন।তিনি পরিতোষের বার্তাকে কেন্দ্র করে উসকানি ছড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।

হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সৈকতের পেছনে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা কিছু বলেননি।এ ছাড়া সৈকতের রাজনৈতিক কোনো পরিচয়ের বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি র‌্যাব।

পীরগঞ্জে হামলা অগ্নিসংযোগ কার নেতৃত্বে কেন, জানাল র‌্যাব

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পীরগঞ্জে হামলা অগ্নিসংযোগ কার নেতৃত্বে কেন, জানাল র‌্যাব
র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার সৈকত মণ্ডল ও রবিউল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ধর্মীয় অবমাননার জেরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।রংপুরের পীরগঞ্জ, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে হামলা হয়।এসব ঘটনায় বহু মামলা ও আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসব ঘটনার মধ্যে বেশি গুজব আর অপপ্রচার চালানো হয় রংপুরের পীরগঞ্জে জেলেপল্লিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়।র‌্যাব জানায়, পীরগঞ্জে জেলেপল্লিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পেছনে নেতৃত্ব দেন সৈকত মণ্ডল (২৪) নামের এক শিক্ষার্থী।সৈকত ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য ও মিথ্যা পোস্টের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে স্থানীয় লোকজনকে উত্তেজিত করেন।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার দিন একটি মসজিদ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করেন সৈকতের সহযোগী রবিউল ইসলাম (৩৬)। এরপরই হামলা চালানো হয়।

গতকাল (২২ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গী থেকে সৈকত মণ্ডল ও রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। সৈকতের বাবার নাম মো. রাশেদুল হক। তার বাড়ি পীরগঞ্জে। আর রবিউলের বাবার নাম মো. মোসলেম উদ্দীন। তার বাড়িও পীরগঞ্জে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পীরগঞ্জের বড়করিমপুরে পরিতোষ সরকার ও উজ্জ্বল নামের দুই তরুণের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল। এর জের ধরে পরিতোষের ধর্ম নিয়ে উজ্জ্বল কটূক্তি করেন। পরে পরিতোষ ফেসবুক মেসেঞ্জারে উজ্জ্বলের ধর্ম নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করেন। পরিতোষের ওই মন্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করেন উজ্জ্বল।উজ্জ্বলের ওই পোস্ট সৈকত আবার তার নিজের ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে দেন।

র‌্যাব কমান্ডার বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর থেকেই সৈকত নানা উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছিলেন। পরিতোষ ও উজ্জ্বলের দ্বন্দ্বের ঘটনাকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছিলেন সৈকত। তার একটি ফেসবুক পেজ আছে। সেখানে তার প্রায় ৩ হাজার অনুসারী রয়েছে।

তিনি বলেন, সৈকত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে একটি ‘দুর্বল সময়ের’ জন্য অপেক্ষা করছিলেন।তিনি পরিতোষের বার্তাকে কেন্দ্র করে উসকানি ছড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।

হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সৈকতের পেছনে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা কিছু বলেননি।এ ছাড়া সৈকতের রাজনৈতিক কোনো পরিচয়ের বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি র‌্যাব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর