সড়ক উন্নয়নে অনিয়ম ও ধীরগতি, ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি
jugantor
সড়ক উন্নয়নে অনিয়ম ও ধীরগতি, ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি

  শেখ মামুনুর রশীদ  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪৭:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সংসদ

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং ধীরগতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তারা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যখন দেশকে এগিয়ে নিতে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তখন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক ধীরগতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

জানা গেছে, বৈঠকে মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জোনে চলমান প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এর বাইরে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করে কমিটির সদস্যরা। তবে বৈঠকের পুরো সময় জুড়ে আলোচনার বিষয় ছিল সড়ক পথের উন্নয়ন। কমিটির একাধিক সদস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন রাখেন, সড়কের উন্নয়নের মহাযজ্ঞ কবে শেষ হবে। যদিও মন্ত্রণালয় এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

কমিটির বৈঠকে সড়কের ঢাকা জোনের অসমাপ্ত ৯টি প্রকল্পের সময় বাড়ানোর কারণ ও ব্যাখ্যাসহ প্রতিবেদন কমিটির কাছে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত এবং পাচ্চর-ভাঙ্গা প্রকল্পে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা সড়কের চারটি জোন নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। ওই কাজ কবে শেষ হবে, তা জানতে চেয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণলয় তা জানাতে পারেনি।

সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ- এই চারটি জোনে কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার একটি পূর্ণঙ্গ প্রতিবেদন আগামী এক মাসের মধ্যে সংসদীয় কমিটিকে দিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের হার, ব্যয়, মেয়াদ এবং খরচ বাড়লে, তা কি পরিমাণ বেড়েছে- তারও প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। একই তথ্য দিতে বলা হয়েছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়মের পাশাপাশি আর্থিক এবং ভৌত অগ্রগতি সমান সমান হওয়া এবং দফায় দফায় সময় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এসব অনিয়ম নিয়ে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয় কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বলেন, মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে, সেখানে দেখা গেছে প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি সমান সমান। কিন্তু কোনোভাবেই এটা হওয়ার কথা নয়। এক শতাংশ হলেও তো পার্থক্য থাকবে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় কোনো যুক্তি দিতে পারেনি। আমাদের অনেক প্রশ্নের তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সড়কের কয়েকটি প্রকল্পে ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। জবাবে কমিটির সদস্যরা ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানোকেও এক ধরনের অনিয়ম বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে কমিটির একজন সদস্য বলেন, বুঝলাম ব্যয় বাড়ছে না। কিন্তু প্রকল্প সময় মতো শেষ না হওয়ায় জনগণ তো সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া ওই প্রকল্প শেষ না হওয়ার কারণে মানুষকে দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।

কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এ বি তাজুল ইসলাম, আহসান আদেলুর রহমান, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং খাদিজাতুল আনোয়ার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক উন্নয়নে অনিয়ম ও ধীরগতি, ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি

 শেখ মামুনুর রশীদ 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় সংসদ
ফাইল ছবি

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং ধীরগতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তারা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যখন দেশকে এগিয়ে নিতে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তখন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক ধীরগতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। 

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। 

জানা গেছে, বৈঠকে মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জোনে চলমান প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এর বাইরে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করে কমিটির সদস্যরা। তবে বৈঠকের পুরো সময় জুড়ে আলোচনার বিষয় ছিল সড়ক পথের উন্নয়ন। কমিটির একাধিক সদস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন রাখেন, সড়কের উন্নয়নের মহাযজ্ঞ কবে শেষ হবে। যদিও মন্ত্রণালয় এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। 

কমিটির বৈঠকে সড়কের ঢাকা জোনের অসমাপ্ত ৯টি প্রকল্পের সময় বাড়ানোর কারণ ও ব্যাখ্যাসহ প্রতিবেদন কমিটির কাছে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত এবং পাচ্চর-ভাঙ্গা প্রকল্পে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা সড়কের চারটি জোন নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। ওই কাজ কবে শেষ হবে, তা জানতে চেয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণলয় তা জানাতে পারেনি।

সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ- এই চারটি জোনে কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার একটি পূর্ণঙ্গ প্রতিবেদন আগামী এক মাসের মধ্যে সংসদীয় কমিটিকে দিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের হার, ব্যয়, মেয়াদ এবং খরচ বাড়লে, তা কি পরিমাণ বেড়েছে- তারও প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। একই তথ্য দিতে বলা হয়েছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়মের পাশাপাশি আর্থিক এবং ভৌত অগ্রগতি সমান সমান হওয়া এবং দফায় দফায় সময় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এসব অনিয়ম নিয়ে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয় কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বলেন, মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে, সেখানে দেখা গেছে প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি সমান সমান। কিন্তু কোনোভাবেই এটা হওয়ার কথা নয়। এক শতাংশ হলেও তো পার্থক্য থাকবে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় কোনো যুক্তি দিতে পারেনি। আমাদের অনেক প্রশ্নের তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। 

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সড়কের কয়েকটি প্রকল্পে ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। জবাবে কমিটির সদস্যরা ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানোকেও এক ধরনের অনিয়ম বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে কমিটির একজন সদস্য বলেন, বুঝলাম ব্যয় বাড়ছে না। কিন্তু প্রকল্প সময় মতো শেষ না হওয়ায় জনগণ তো সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া ওই প্রকল্প শেষ না হওয়ার কারণে মানুষকে দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।

কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এ বি তাজুল ইসলাম, আহসান আদেলুর রহমান, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং খাদিজাতুল আনোয়ার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন