প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত চলবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ২১:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

৫ দফায় আলটিমেটামের পরেও কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবির প্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চলবে। তবে এই সময়ে রাজপথে কোনো কর্মসূচি থাকবে না।

মঙ্গলবার লাগাতার ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন এমন ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে ধর্মঘট চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। অনেকে আবার ব্যক্তিগতভাবেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন।

সোমবার সাড়ে ৬ ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ শেষে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।

দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিল, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা পেয়ে’ তারা রোববারের মতো আন্দোলন সমাপ্ত করেছে।

তবে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী লাগাতার ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল তারা। এ অবস্থায় দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।

এদিকে মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, ‘দেশব্যাপী অহিংসভাবে আমাদের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পূর্বঘোষিত সব কর্মসূচি চালবে। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না।’

যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান বলেন, ‘শিক্ষকদের মধ্যে যারা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনকে সাপোর্ট করছেন, তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন। কিন্তু কিছু শিক্ষক ছাত্রসমাজের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা নিচ্ছেন।'
 
আহ্বায়ক হাসান আল মামুন আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা অহিংস আন্দোলন করে আসছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছি। কিন্তু সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনায় তাদের পক্ষ থেকে যেসব কথা বলা হয়েছে, তারও বাস্তবায়ন হয়নি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে মামলা প্রত্যাহারসহ যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তারও বাস্তবায়ন দেখিনি। অথচ তাদের অনুরোধ রক্ষা করে আমরা আন্দোলন স্থগিত রেখেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের হতাশ করেছেন। ফলে ফের আন্দোলনে নামতে হয়েছে।’

‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’-এর সুনির্দিষ্ট ৫টি দাবি হলো- কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা; কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে খালি থাকা পদগুলোতে মেধাবীদের নিয়োগ দেয়া; কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা না নেয়া; সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একবারের বেশি ব্যবহার না করা।