অ্যাটর্নি জেনারেল

অন্যান্য মামলায় জামিন না হলে মুক্তি পাবেন না খালেদা জিয়া

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ১১:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ফটো

অন্যান্য মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বুধবার সকালে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের অ্যাটর্নি জেনারেল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে। সেগুলো থেকে তাকে জামিন নেয়ার পরই তিনি মুক্তি পাবেন।

হাইকোর্টে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার খালেদা জিয়া আর বিলম্বিত করতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। 

তিনি বলেন, হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এখন আপিল শুনানির জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া নিম্ন আদালতে এই মামলার বিচার ৯ বছর ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে এখানে আর বিচারকে তিনি বিলম্বিত করতে পারবেন না বলে আশা করা যায়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কয়টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে, কয়টি মামলায় জামিন নিতে হবে— এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ তথ্য দিতে পারবেন।

তবে সচরাচর কোনো আসামির যদি একাধিক মামলা থাকে, তা হলে সেসব মামলায় জামিন না পাওয়া গেলে মুক্তি পাওয়া যায় না বলে জানান মাহবুবে আলম।

খালেদার জামিন আবেদনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আবেদন খারিজ করে আজ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ।

খালেদার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বাকি মামলাগুলোতে জামিনের জন্য শিগগিরই হাইকোর্টে আবেদন করা হবে।

খালেদার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন জানান, খালেদা জিয়াকে আরও ছয়টি মামলায় জামিন নিতে হবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় তিনটি, ঢাকায় দুটি এবং নড়াইলে একটি মামলা রয়েছে। হত্যা, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে কুমিল্লায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। আর ঢাকার দুটি এবং নড়াইলের মামলা হচ্ছে মানহানির।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এর পর থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

রায়ের পর আপিল করে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া, যার ওপর শুনানি নিয়ে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট তাকে চার মাসের জামিন দেন।

এ জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ ওই জামিন স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন। অন্যদিকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা, যা সেদিন চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে।

আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে। ১৯ মার্চ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত রেখে শুনানির জন্য ৮ মে নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।