পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি: ঢাকা ওয়াসা এমডি
jugantor
পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি: ঢাকা ওয়াসা এমডি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩:৩৬:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি: ঢাকা ওয়াসা এমডি

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেছেন, আপেক্ষিকভাবে দেখলে পানির দাম কমেছে। উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতির হিসাবে প্রকৃত মূল্যে (উৎপাদন খরচে) রাজধানীতে পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি।

শনিবার কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসার চলমান কার্যক্রম নিয়ে তাকসিম এ খান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

যদিও নিয়মিত বিরতিতে ঢাকায় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) পানির দাম বাড়িয়েছে।

চলতি বছর ১ জুলাই থেকে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম ৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদ সভায় নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবাসিকে প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানির দাম ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়। বাণিজ্যিক সংযোগে প্রতি ইউনিট পানির দাম ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪২ টাকা।

এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিলেও আবাসিকে প্রতি ইউনিট পানির দাম বাড়ানো হয়েছিল ২ টাকা ৯০ পয়সা।

তারও আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, ২০১৮ সালের জুলাইতে, ২০১৭ সালের অগাস্টে পানির ‘মূল্য সমন্বয়’ করেছিল ওয়াসা।

ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন, ২০১০ সালের মূল্যস্ফীতি আর এখনকার মূল্যস্ফীতি তুলনা করলে দেখা যাবে ‘প্রকৃত মূল্যে’ পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি। তবে আপতদৃষ্টিতে দেখলে পানির দাম অনেক বেড়েছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান

তাকসিম এ খান বলেন, বাণিজ্যিক ভাষায় বললে পণ্যের দুটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়। একটি উৎপাদন খরচের হিসাবে, আরেকটি বাজার মূল্যের হিসাবে। আমার উৎপাদন খরচ হচ্ছে ২৫ টাকা। আমি বিক্রি করছি ১৫ টাকায়। তাহলে কীভাবে হবে? এখন যদি বলেন, আগে তো ছয় টাকা ছিল, তখন কীভাবে হয়েছে। তখন উৎপাদন খরচ ছিল ১২ টাকা।

নতুন পানি শোধনাগার ও পয়ঃনিষ্কাশন স্থাপনের কারণে ঋণ ও খরচ বাড়ছে উল্লেখ করে ওয়াসার এমডি বলেন, এ টাকা ফেরত দিতে হবে। যদিও সরকার কিছু ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু মূল টাকাটা আমাদের ফেরত দিতে হবে। এখন মূল টাকাকে পানির দামের মধ্যে আনতে হবে না? তাহলে পানির দাম কোথায় বাড়ালাম? এখন সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। আর সরকারই বা কতদিন দেবে?

‘ঢাকা শহরের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ জায়গায় আমাদের পানি পানযোগ্য। পাইপলাইন যদি না ভাঙা থাকে তাহলে তো পানি দূষণের সুযোগ নেই। তবে একটি জায়গায় ঝুঁকি থেকে যায়, সেটি হলো ঢাকা শহরে ভবনের নিচে যেখানে পানি জমা করে রাখা হয়। ভবনের নিচের রিজার্ভ ট্যাঙ্ক যদি পরিষ্কার করা হয়, তাহলে শতভাগ বিশুদ্ধ নিশ্চিত করা সম্ভব। এখন আমি তো জানি না কোন জায়গায় রিজার্ভ ট্যাংক থেকে পানি দূষিত হচ্ছে। সে কারণেই বলি পানি ফুটিয়ে খান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন না করে নদীর পানি পরিশোধন করে ব্যবহার উপযোগী করতে কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। বর্তমানে ৩৪ শতাংশ পানি আসছে নদী থেকে, যা ৭০ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় ঢাকা ওয়াসা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন ঢাকা ওয়াসার উন্নয়ন পরিচালক মো. আবুল কাশেম, সচিব শারমিন হক আমীর, ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার রায় ও প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নিশাত মজুমদার প্রমুখ।

পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি: ঢাকা ওয়াসা এমডি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি: ঢাকা ওয়াসা এমডি
প্রতীকী ছবি

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেছেন, আপেক্ষিকভাবে দেখলে পানির দাম কমেছে। উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতির হিসাবে প্রকৃত মূল্যে (উৎপাদন খরচে) রাজধানীতে পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি।

শনিবার কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসার চলমান কার্যক্রম নিয়ে তাকসিম এ খান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

যদিও নিয়মিত বিরতিতে ঢাকায় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) পানির দাম বাড়িয়েছে।

চলতি বছর ১ জুলাই থেকে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম ৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদ সভায় নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবাসিকে প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানির দাম ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়। বাণিজ্যিক সংযোগে প্রতি ইউনিট পানির দাম ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪২ টাকা।

এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিলেও আবাসিকে প্রতি ইউনিট পানির দাম বাড়ানো হয়েছিল ২ টাকা ৯০ পয়সা।

তারও আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, ২০১৮ সালের জুলাইতে, ২০১৭ সালের অগাস্টে পানির ‘মূল্য সমন্বয়’ করেছিল ওয়াসা।

ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন,  ২০১০ সালের মূল্যস্ফীতি আর এখনকার মূল্যস্ফীতি তুলনা করলে দেখা যাবে ‘প্রকৃত মূল্যে’ পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি। তবে আপতদৃষ্টিতে দেখলে পানির দাম অনেক বেড়েছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান

তাকসিম এ খান বলেন, বাণিজ্যিক ভাষায় বললে পণ্যের দুটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়। একটি উৎপাদন খরচের হিসাবে, আরেকটি বাজার মূল্যের হিসাবে। আমার উৎপাদন খরচ হচ্ছে ২৫ টাকা। আমি বিক্রি করছি ১৫ টাকায়। তাহলে কীভাবে হবে? এখন যদি বলেন, আগে তো ছয় টাকা ছিল, তখন কীভাবে হয়েছে। তখন উৎপাদন খরচ ছিল ১২ টাকা।

নতুন পানি শোধনাগার ও পয়ঃনিষ্কাশন স্থাপনের কারণে ঋণ ও খরচ বাড়ছে উল্লেখ করে ওয়াসার এমডি বলেন, এ টাকা ফেরত দিতে হবে। যদিও সরকার কিছু ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু মূল টাকাটা আমাদের ফেরত দিতে হবে। এখন মূল টাকাকে পানির দামের মধ্যে আনতে হবে না? তাহলে পানির দাম কোথায় বাড়ালাম? এখন সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। আর সরকারই বা কতদিন দেবে?

‘ঢাকা শহরের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ জায়গায় আমাদের পানি পানযোগ্য। পাইপলাইন যদি না ভাঙা থাকে তাহলে তো পানি দূষণের সুযোগ নেই। তবে একটি জায়গায় ঝুঁকি থেকে যায়, সেটি হলো ঢাকা শহরে ভবনের নিচে যেখানে পানি জমা করে রাখা হয়। ভবনের নিচের রিজার্ভ ট্যাঙ্ক যদি পরিষ্কার করা হয়, তাহলে শতভাগ বিশুদ্ধ নিশ্চিত করা সম্ভব। এখন আমি তো জানি না কোন জায়গায় রিজার্ভ ট্যাংক থেকে পানি দূষিত হচ্ছে। সে কারণেই বলি পানি ফুটিয়ে খান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন না করে নদীর পানি পরিশোধন করে ব্যবহার উপযোগী করতে কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। বর্তমানে ৩৪ শতাংশ পানি আসছে নদী থেকে, যা ৭০ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় ঢাকা ওয়াসা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন ঢাকা ওয়াসার উন্নয়ন পরিচালক মো. আবুল কাশেম, সচিব শারমিন হক আমীর, ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার রায় ও প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নিশাত মজুমদার প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন