মাদকবিরোধী অভিযানে পাঁচ জেলায় নিহত ৫

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ মে ২০১৮, ১০:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

বন্দুকযুদ্ধ
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহ, ফেনী, বরিশাল, দিনাজপুর ও যশোরে মাদক বিক্রেতাদের ধরতে পুলিশের অভিযানের সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচ যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা গনশার মোড় এলাকায়, রোববার ভোরে ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠানগড় এলাকা ও একই সময় শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরআইচা গ্রামের বটতলাবাজার, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার তেঘরা নারায়ণপুর এবং যশোরের ছুটিপুর সড়কের রুদ্রপুর গ্রামে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, নিহতরা মাদক বিক্রেতা ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আশিকুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নগরীর মাসকান্দা গনশার মোড় এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মাদক ভাগাভাগি করছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ হন বিপ্লব।

পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক বিপ্লবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হিরোইন, ২০০ ইয়াবা, তিনটি গুলির খোসা ও দুটি চাকু উদ্ধার করেছে বলে জানান ওসি।

এদিকে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার ওসি এম মোর্শেদ বলেন, ছাগলনাইয়ার পশ্চিম পাঠানগড় এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান যাওয়ার খবরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে আলমগীরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমগীরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ অভিযানে দেলোয়ার হোসেন ও মতিয়ার রহমান নামে পুলিশের দুই এএসআই আহত হয়েছেন এবং তাদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নিহত আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া একজন ‘চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি’। তার বিরুদ্ধে ফেনী সদর, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। নিহত আলমগীর পাঠানগড় গ্রামের আবদুস ছালামের ছেলে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বন্দুক, তিন রাউন্ড গুলি, এক হাজার ইয়াবা ও শতাধিক ফেনসিডিল উদ্ধার করে।

অন্যদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ওসি নুরুল ইসলাম-পিপিএম জানান, গত কয়েক দিন আগে দক্ষিণ চরআইচা গ্রামের আ. হক হাওলাদারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি মামলা হয়, যা তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ছাড়া ইতিপূর্বে বেশ কিছু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে শায়েস্তাবাদে।

এলাকায় আরও ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাবাদ এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়। শনিবার রাত ৩টার দিকে শায়েস্তাবাদসংলগ্ন নদী থেকে আলো দেখতে পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দলের সন্দেহ হয়।

তারা কাছাকাছি এগিয়ে গেলে ডাকাত সদস্যরা ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় ডিবি পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। কিছু সময় বাদে ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যার বয়স আনুমানিক ৩৮ বছর হবে।

ওসি বলেন, এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই দেলোয়ার, কনস্টেবল রফিক ও হাফিজ আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি রামদা, একটি চাপাতি, ৮ রাউন্ড গুলির খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না জানান, নিহত ডাকাত সদস্যকে স্থানীয়রা কেউ চিনতে পারেননি। তবে কয়েক দিন আগে আ. হক হাওলাদারের বাসায় যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, সেই সময় এ যুবককে তিনি দেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাবু ওরফে গলা বাবু (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার মুরাদপুরে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবু বিরল উপজেলার তেঘরা নারায়ণপুর গ্রামের মৃত আবদুল ওহাবের ছেলে।

পুলিশের দাবি, নিহত বাবু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বিরল থানায় ৯টি মামলা রয়েছে।

বিরল থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান, রাতে মুরাদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গলাকাটা বাবুর নেতৃত্বে মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে।

পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মাদক কারবারিরা পিছু হটে। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যশোরে বন্দুকযুদ্ধে ৩৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত-পরিচয় যুবক নিহত হয়েছেন।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি, মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কেএম আজমল হুদা বলেন, ছুটিপুর সড়কের রুদ্রপুর গ্রামে দুদল মাদক বিক্রেতা বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে- এমন সংবাদ পেয়ে রোববার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত-পরিচয় মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter