নতুন ইসি গঠনে এ সপ্তাহেই সার্চ কমিটি
jugantor
নতুন ইসি গঠনে এ সপ্তাহেই সার্চ কমিটি

  শেখ মামুনুর রশীদ  

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:০৮:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আজ বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনে সংলাপে বসবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রায় মাসব্যাপী আলোচনার প্রক্রিয়াটিরও সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন। শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এ সময় দলীয় প্রধানের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন-আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে-নতুন ইসি গঠনে সার্চ কমিটি এ সপ্তাহেই গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। কারা থাকবেন এই কমিটিতে, কত সদস্য বিশিষ্ট হবে এ কমিটি তা এখনও ঠিক হয়নি। চার সদস্যের, নাকি ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি হবে-এটি রাষ্ট্রপতিই চূড়ান্ত করবেন। অতীতের মতো এবারও নতুন ইসি গঠনের জন্য বিভিন্ন সেক্টরের যোগ্য ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করাই হবে সার্চ কমিটির মূল কাজ। একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বিপরীতে দুজনের নাম এবং চারজন নির্বাচন কমিশনারের (ইসি) বিপরীতে আটজনের নাম সুপারিশ করে থাকে সার্চ কমিটি। রাষ্ট্রপতি তা থেকে নতুন ইসি নিয়োগ দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণত সুপ্রিমকোর্টের সম্মেলন কক্ষে সার্চ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১০ কার্যদিবসের মতো সময় পান তারা।

সংবিধানে বলা আছে, কমিশনসংক্রান্ত একটি আইনের অধীন রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দেবেন। তবে গত ৫০ বছরেও এ আইনটি প্রণীত হয়নি। ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে চার সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি একই পদ্ধতি অনুসরণ করে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন। প্রথমবার সার্চ কমিটিতে একজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি।

আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে প্রথমবার গঠিত সার্চ কমিটিতে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) পদধারী ওই কমিটিতে ছিলেন। দ্বিতীয় বার গঠিত সার্চ কমিটিতে উপরোক্ত চারজনের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তারা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীন আখতার। দুবার গঠিত সার্চ কমিটির দুবারই প্রধান ছিলেন তৎকালীন আপিল বিভাগের বিচারপতি ও সদ্যবিদায়ি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

জানা গেছে, শাসক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক এবং দলটির মতামত নেওয়ার পর সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই নতুন ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেন তিনি। ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে ধারাবাহিকভাবে এ সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে চলমান সংলাপ শেষ হবে। এ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ২৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংলাপের সময়সূচি ছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রি দল (বাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জেএসডি) সাতটি রাজনৈতিক দল এবারের সংলাপ বর্জন করেছে। এবারের সংলাপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই ইসি গঠনে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। যদিও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানিয়েছেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন ইসি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, কোভিডের কারণে এখন নতুন আইন করে ইসি গঠনের সুযোগ নেই। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন ইসি গঠনের কথা জানিয়েছিলেন।

নতুন ইসি গঠনে এ সপ্তাহেই সার্চ কমিটি

 শেখ মামুনুর রশীদ 
১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:০৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আজ বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনে সংলাপে বসবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রায় মাসব্যাপী আলোচনার প্রক্রিয়াটিরও সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন। শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এ সময় দলীয় প্রধানের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন-আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে-নতুন ইসি গঠনে সার্চ কমিটি এ সপ্তাহেই গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। কারা থাকবেন এই কমিটিতে, কত সদস্য বিশিষ্ট হবে এ কমিটি তা এখনও ঠিক হয়নি। চার সদস্যের, নাকি ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি হবে-এটি রাষ্ট্রপতিই চূড়ান্ত করবেন। অতীতের মতো এবারও নতুন ইসি গঠনের জন্য বিভিন্ন সেক্টরের যোগ্য ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করাই হবে সার্চ কমিটির মূল কাজ। একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বিপরীতে দুজনের নাম এবং চারজন নির্বাচন কমিশনারের (ইসি) বিপরীতে আটজনের নাম সুপারিশ করে থাকে সার্চ কমিটি। রাষ্ট্রপতি তা থেকে নতুন ইসি নিয়োগ দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণত সুপ্রিমকোর্টের সম্মেলন কক্ষে সার্চ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১০ কার্যদিবসের মতো সময় পান তারা।

সংবিধানে বলা আছে, কমিশনসংক্রান্ত একটি আইনের অধীন রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দেবেন। তবে গত ৫০ বছরেও এ আইনটি প্রণীত হয়নি। ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে চার সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি একই পদ্ধতি অনুসরণ করে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন। প্রথমবার সার্চ কমিটিতে একজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি।

আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে প্রথমবার গঠিত সার্চ কমিটিতে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) পদধারী ওই কমিটিতে ছিলেন। দ্বিতীয় বার গঠিত সার্চ কমিটিতে উপরোক্ত চারজনের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তারা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীন আখতার। দুবার গঠিত সার্চ কমিটির দুবারই প্রধান ছিলেন তৎকালীন আপিল বিভাগের বিচারপতি ও সদ্যবিদায়ি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

জানা গেছে, শাসক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক এবং দলটির মতামত নেওয়ার পর সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই নতুন ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেন তিনি। ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে ধারাবাহিকভাবে এ সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে চলমান সংলাপ শেষ হবে। এ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ২৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংলাপের সময়সূচি ছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রি দল (বাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জেএসডি) সাতটি রাজনৈতিক দল এবারের সংলাপ বর্জন করেছে। এবারের সংলাপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই ইসি গঠনে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। যদিও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানিয়েছেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন ইসি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, কোভিডের কারণে এখন নতুন আইন করে ইসি গঠনের সুযোগ নেই। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন ইসি গঠনের কথা জানিয়েছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন