নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের ফের দুদকে তলব
jugantor
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের ফের দুদকে তলব

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৫১:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

তলব

অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের ফের তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা হলেন-এমএ কাসেম, মোহাম্মদ শাহজাহান, বেনজীর আহমেদ, আজিজ আল কায়সার টিটো ও আজিম উদ্দিন আহমেদ। এর আগে তাদের দুদকে ডাকা হয়েছিল।

কিন্তু নানা অজুহাতে তারা সাড়া দেননি। কেউ আইনজীবীর মাধ্যমে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়েছেন। কেউ বার্ধক্যজনিত কারণে বিশ্রামে আছেন বলে আইনজীবী মারফত জানিয়েছেন। আবার কেউ এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের কারোরই স্বাভাবিক কার্যক্রম থেমে নেই।

কেউ সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ওপেনিংয়ে গিয়েছেন। কেউ সাউথইস্ট ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অংশ নিয়েছেন নর্থ সাউথের ট্রাস্টি বোর্ডের সভায়ও। বিষয়টি দুদকের নজরে এসেছে। তাই ফের তাদের দুদকে তলব করা হয়েছে। দুদক উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাদের তলব করা হয়।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এমএ কাসেম ও মোহাম্মদ শাহজাহানকে ২০ জানুয়ারি, বেনজীর আহমেদকে ২৪ জানুয়ারি এবং আজিজ আল কায়সার টিটো ও আজিম উদ্দিন আহমেদকে ২৬ জানুয়ারি দুদকে ডাকা হয়েছে।

দুদকের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এফডিআর করার নামে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট, স্ত্রী, স্বজনদের চাকরি দেওয়ার নামে অনৈতিকভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি ক্রয় ও অবৈধভাবে বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবহার এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের আড়ালে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ নোটিশ জারি করা হলো। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে উল্লিখিত অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের লক্ষ্যে তাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে অনুসন্ধান টিমের কাছে বক্তব্য প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত ট্রাস্টিদের বিভিন্ন অনিয়মসংক্রান্ত মোট ২৩টি বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইউজিসি। ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালক ওমর ফারুখ স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রত্যেককে আলাদাভাবে সিটিং এলাউন্স দুর্নীতি, জমি ক্রয় দুর্নীতি, অতিরিক্ত ছাত্রভর্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি, অনুমোদনহীন বিভাগ পরিচালনাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে করা মোট ২৩টি অভিযোগের জবাব পাঁচ দিনের মধ্যে দিতে বলা হলেও অভিযুক্তরা এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই জমা দেননি বলে ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন, এমএ কাসেম, মোহাম্মদ শাহজাহান, বেনজীর আহমেদ, আজিজ আল কায়সার টিটোসহ বোর্ড অব ট্রাস্টির সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎই প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম করে আসছেন। তাদের কারণে নর্থ সাউথে অনিয়মই পরিণত হয়েছে নিয়মে। ছাত্রদের টিউশন ফি থেকে অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, এক লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স গ্রহণ, নিয়ম ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডের ৪০৮ কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী ভর্তিসহ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও জঙ্গি মদদ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জমেছে অভিযোগের পাহাড়। পারস্পরিক যোগসাজশে আশালয় হাউজিংয়ের কাছ থেকে জমি ক্রয়ের নাম করে লোপাট করেছেন ৪২৫ কোটি টাকা।

সম্প্রতি ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাফিস ইমতিয়াজকে ভর্তি করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তারা সেখান থেকে সরে আসেন। আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদ, পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো দুদকের নজরে আনার পর সেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের ফের দুদকে তলব

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
তলব
এমএ কাসেম, আজিম উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, বেনজীর আহমেদ ও আজিজ আল কায়সার টিটো

অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের ফের তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা হলেন-এমএ কাসেম, মোহাম্মদ শাহজাহান, বেনজীর আহমেদ, আজিজ আল কায়সার টিটো ও আজিম উদ্দিন আহমেদ। এর আগে তাদের দুদকে ডাকা হয়েছিল।

কিন্তু নানা অজুহাতে তারা সাড়া দেননি। কেউ আইনজীবীর মাধ্যমে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়েছেন। কেউ বার্ধক্যজনিত কারণে বিশ্রামে আছেন বলে আইনজীবী মারফত জানিয়েছেন। আবার কেউ এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের কারোরই স্বাভাবিক কার্যক্রম থেমে নেই।

কেউ সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ওপেনিংয়ে গিয়েছেন। কেউ সাউথইস্ট ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অংশ নিয়েছেন নর্থ সাউথের ট্রাস্টি বোর্ডের সভায়ও। বিষয়টি দুদকের নজরে এসেছে। তাই ফের তাদের দুদকে তলব করা হয়েছে। দুদক উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাদের তলব করা হয়।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এমএ কাসেম ও মোহাম্মদ শাহজাহানকে ২০ জানুয়ারি, বেনজীর আহমেদকে ২৪ জানুয়ারি এবং আজিজ আল কায়সার টিটো ও আজিম উদ্দিন আহমেদকে ২৬ জানুয়ারি দুদকে ডাকা হয়েছে।

দুদকের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এফডিআর করার নামে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট, স্ত্রী, স্বজনদের চাকরি দেওয়ার নামে অনৈতিকভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি ক্রয় ও অবৈধভাবে বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবহার এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের আড়ালে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ নোটিশ জারি করা হলো। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে উল্লিখিত অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের লক্ষ্যে তাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে অনুসন্ধান টিমের কাছে বক্তব্য প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত ট্রাস্টিদের বিভিন্ন অনিয়মসংক্রান্ত মোট ২৩টি বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইউজিসি। ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালক ওমর ফারুখ স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রত্যেককে আলাদাভাবে সিটিং এলাউন্স দুর্নীতি, জমি ক্রয় দুর্নীতি, অতিরিক্ত ছাত্রভর্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি, অনুমোদনহীন বিভাগ পরিচালনাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে করা মোট ২৩টি অভিযোগের জবাব পাঁচ দিনের মধ্যে দিতে বলা হলেও অভিযুক্তরা এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই জমা দেননি বলে ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন, এমএ কাসেম, মোহাম্মদ শাহজাহান, বেনজীর আহমেদ, আজিজ আল কায়সার টিটোসহ বোর্ড অব ট্রাস্টির সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎই প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম করে আসছেন। তাদের কারণে নর্থ সাউথে অনিয়মই পরিণত হয়েছে নিয়মে। ছাত্রদের টিউশন ফি থেকে অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, এক লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স গ্রহণ, নিয়ম ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডের ৪০৮ কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী ভর্তিসহ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও জঙ্গি মদদ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জমেছে অভিযোগের পাহাড়। পারস্পরিক যোগসাজশে আশালয় হাউজিংয়ের কাছ থেকে জমি ক্রয়ের নাম করে লোপাট করেছেন ৪২৫ কোটি টাকা।

সম্প্রতি ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাফিস ইমতিয়াজকে ভর্তি করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তারা সেখান থেকে সরে আসেন। আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদ, পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো দুদকের নজরে আনার পর সেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন