ধরাশায়ী ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রে
jugantor
ধরাশায়ী ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রে
ফলাফল বিশ্লেষণ: ১৯২টি কেন্দ্রের ১৮৩টিতে আইভী ও ৯টিতে তৈমুরের বেশি ভোট * বিএনপির কাউন্সিলরদের ওয়ার্ডেও পরাজিত হাতি

  কাজী জেবেল   

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৩৮:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ধরাশয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। এ নির্বাচনের ১৯২টি ভোটকেন্দ্র্রের ফলাফলে ১৮৩টিতেই নৌকা প্রতীকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বেশি ভোট পেয়েছেন। বাকি ৯টিতে বেশি ভোট পেয়েছেন তৈমুর আলম খন্দকার। এমনকি এ নির্বাচনে বিএনপির যে নয়জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানেও হেরেছেন বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হাতি প্রতীকের এই প্রার্থী। এক কেন্দ্রে তৈমুর আলম খন্দকার মাত্র ৯৩টি ভোট পেয়েছেন। ওই কেন্দ্রেই ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পেয়েছেন ৬৯০ ভোট। এভাবে বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রেই ভোট পাওয়ার দিক থেকে তৈমুর বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ নির্বাচনে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫১ ভোটের মধ্যে পড়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৩৮২ ভোট। এতে আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট। দুজনের ব্যবধান ৬৬ হাজার ৫৩৫ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ নির্বাচনে ৪৭১টি ভোট বাতিল হয়েছে। এই ৪৭১ জন ভোটার পছন্দের প্রার্থী না থাকায় তারা মেয়র পদে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সবচেয়ে কম ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে চাষাঢ়ার এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দুই নম্বর ভোটকেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে ৪ হাজার ১১৭ টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ২৫৬টি। ৬টি ভোট বাতিল হয়েছে। ডা. আইভী এ কেন্দ্রে ৬৪৪টি এবং অ্যাডভোকেট তৈমুর ৪৪২ ভোট পেয়েছেন এ কেন্দ্রে। অপরদিকে সর্বোচ্চ ৭৯ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে কেরামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ১৮০টির মধ্যে ১ হাজার ৭৪২টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮২টি নৌকায় ও ৩৫৬টি হাতি প্রতীকে পড়েছে। এ সিটি নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে ১১টি ভোটকেন্দ্রে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রাফিউর রাব্বি যুগান্তরকে বলেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে অনেক নিরপেক্ষ ভোট রয়েছে। তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের বড় নিয়ামক। ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ নিয়ে শক্তভাবে লড়েছেন। এ কারণেই মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছে। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ধীরগতিতে ভোট নেওয়ায় অনেকেই বিরক্ত হয়ে কেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। ২০১১ সালে কাগজের ব্যালটে হওয়া নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০১৬ সালে তিনটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়, তখন ৬২ ভাগ ভোট পড়ে। এবার আমাদের ধারণা ছিল ৭০-৭৫ ভাগ ভোট পড়বে। কিন্তু ইভিএমে ধীরগতির কারণে ভোট কম পড়েছে। নইলে দুই প্রার্থীর ব্যবধান আরও বাড়ত।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় ভোটগ্রহণ। তবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণে গতি কম ছিল। এ কারণে অনেক কেন্দ্রে বিকাল ৪টার নির্ধারিত সময়ের পরও ভোটগ্রহণ করা হয়। সোমবার আইভী অভিযোগ করেছেন, ভোটের গতি কম না হলে তিনি আরও বেশি ব্যবধানে জয়ী হতেন। বন্দর থানার অনেক নারী ভোটার এ কারণে ভোট দিতে পারেননি। অন্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ ২৩ হাজার ৯৮৭, খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন ১০ হাজার ৭২৪, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন ১ হাজার ৩০৯, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস ১ হাজার ৯২৭ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম ১ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়েছেন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টিতে তৈমুর আলম খন্দকার সেলিনা হায়াৎ আইভীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে মিজমিজির মা আমেনা মেমোরিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল, পাইনাদির ফুলকলি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, শিমরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ (ভোটকেন্দ্র-১) নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ (ভোটকেন্দ্র-২), চাষাঢ়ার আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসা, নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ভোটকেন্দ্র-১), নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ভোটকেন্দ্র-২) এবং ৩৯নং আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিই নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। এ ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ভাই মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ওই ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রের ৬টিতে হাতি ও বাকি ছয়টিতে নৌকা প্রতীক বেশি ভোট পেয়েছে।

যেসব কেন্দ্রে তৈমুর আলম বেশি ভোট পেয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে মিজমিজির মা আমেনা মেমোরিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল কেন্দ্রে ২ হাজার ৫১৪ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ২৭৩টি (৫০ দশমিক ৬৪ শতাংশ)। বাতিল হয়েছে একটি ভোট। বৈধ ভোটের মধ্যে ৫২৩টি তৈমুর এবং ৫১৫টি পেয়েছেন আইভী। এ কেন্দ্রে বাকি মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে এবিএম সিরাজুল মামুন ২৪, মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ ১৯৩, মো. কামরুল ইসলাম ৪, মো. জসীম উদ্দিন ৯ এবং মো. রাশেদ ফেরদৌস ৪ ভোট পেয়েছেন।

পাইনাদির ফুলকলি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৯৯ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ৫২০টি। দুটি ভোট বাতিল হয়েছে। হার ৫৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ কেন্দ্রে তৈমুর ৭২ ভোট বেশি পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৬৪৪টি। পক্ষান্তরে আইভী পেয়েছেন ৫৭২ ভোট। বাকি ভোট পাঁচ মেয়র প্রার্থী পেয়েছেন।

শিমরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ৮৩৫ ভোট পেয়েছেন তৈমুর আলম। অপরদিকে আইভী পেয়েছেন ৬৫২ ভোট। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৯৮ ভোটের মধ্যে ১ হাজার ৮০৬টি পড়েছে। তিনটি বাতিল হয়েছে। অন্য প্রার্থীরা বাকি ভোট পেয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের এক ও দুই নম্বর ভোটকেন্দ্রে তৈমুর যথাক্রমে ৯৭৬ ও ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। এ দুটি কেন্দ্রে আইভী ৮১৪ ও ৫০৬ ভোট পেয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানে অবস্থিত এ দুটি কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার যথাক্রমে ৫৩ দশমিক ৪২ ও ৩৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

তৈমুর আলম নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সেই কেন্দ্রে তিনি বেশি ভোট পেয়েছেন। এ কেন্দ্রে ৩ হাজার ২৮৭টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ৭১৭টি। এর মধ্যে তৈমুর পেয়েছেন ৯৮২ ভোট। অপরদিকে আইভী পেয়েছেন ৫২৭টি। চাষাঢ়ার আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জ (তিন নম্বর) কেন্দ্রেও আইভীর প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন তৈমুর। এ কেন্দ্রে আইভী পেয়েছেন ৩৬২টি আর তৈমুর পেয়েছেন ৬৮০ ভোট। ৩ হাজার ২৫৫টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ১৭১টি।

নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুটি ভোটকেন্দ্র ছিল। দুটিতে নৌকার চেয়ে হাতি প্রতীকে বেশি ভোট পড়েছে। এ দুটি কেন্দ্রে তৈমুর যথাক্রমে ৬৪৪ ও ৪৯১ ভোট পেয়েছেন। আর আইভী পেয়েছেন ৫৯০ ও ৪১২ ভোট। দুটি কেন্দ্রের একটিতে ৫৬ শতাংশ ও অপরটিতে ৪১ দশমিক ৩৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বিএনপির কাউন্সিলর জেতা ওয়ার্ডগুলোয়ও তৈমুরের হার : ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে বিএনপির নেতারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ১৩ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির মাকসুদুল আলম খন্দকার নির্বাচিত হয়েছেন। মাকসুদুল আলম পরাজিত স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলমের ছোট ভাই। এ ওয়ার্ডের ১২টি ভোটকেন্দ্রে তৈমুর পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৭৯ ভোট। অপরদিকে আইভী পেয়েছেন ৭ হাজার ৭৩৬টি। এ ওয়ার্ডে ৩৩ হাজার ৩২৫ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১৮ হাজার ১ ভোট।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জিএম গিয়াস উদ্দিনের ছেলে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল আবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ এ ওয়ার্ডে হেরেছেন বিএনপির সাবেক নেতা মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। এ ওয়ার্ডের পাঁচটি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৪৯২ ভোট। পক্ষান্তরে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পেয়েছেন ৪ হাজার ১০৪ ভোট। এ ওয়ার্ডের ১৩ হাজার ৮২৬ ভোটের মধ্যে ৮ হাজার ১১০ ভোট পড়েছে। ২ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মো. ইকবাল হোসেন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এখানেও হেরেছেন তৈমুর। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৯৩৬ ভোট। অপরদিকে ডা. আইভী পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৪৮ ভোট। এ ওয়ার্ডের ২০ হাজার ৯৫০ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১০ হাজার ২২১টি। ১১ নম্বর ওয়ার্ডেও জয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা অহিদুল ইসলাম। ওই ওয়ার্ডে হাতি প্রতীকে পড়েছে ৩ হাজার ৫৪৮ ভোট এবং নৌকায় পড়েছে ৫ হাজার ৭৭২ ভোট। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির শওকত হাসেম জয়ী হয়েছেন। ওই ওয়ার্ডে তৈমুর পেয়েছেন ৪ হাজার ১১৩ ভোট। অপরদিকে ডা. আইভী পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৯৯টি।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাউসার বিজয়ী হয়েছেন। আবুল কাউসার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ-সদস্য আবুল কালামের ছেলে। এ ওয়ার্ডেও অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার হেরেছেন। একইভাবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ শাহেনশাহ, ২২ নম্বরে সুলতান আহমেদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির এনায়েত হোসেন ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির মো. সামসুজ্জোহা নির্বাচিত হন। তারা সবাই বিএনপির নেতা। এসব ওয়ার্ডেও হেরেছেন তৈমুর আলম খন্দকার।

এক কেন্দ্রে ৯৩ ভোট তৈমুরের : জানা যায়, বঙ্গবন্ধু রোডের কিন্ডারগার্টেন কেয়ার স্কুল ভোটকেন্দ্রে তৈমুর আলম খন্দকার মাত্র ৯৩ ভোট পেয়েছেন। এ কেন্দ্রে ডা. আইভী পেয়েছেন ৬৯০ ভোট। ১ হাজার ৬৮৪ ভোটারের এ কেন্দ্রে পড়েছে ৮৩৪টি। অন্য প্রার্থীর মধ্যে এবিএম সিরাজুল মামুন ৩৪ ও মাওলানা মাছুম বিল্লাহ ১১ ভোট। বাকি তিন মেয়র প্রার্থী দুটি করে ভোট পেয়েছেন।

ধরাশায়ী ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রে

ফলাফল বিশ্লেষণ: ১৯২টি কেন্দ্রের ১৮৩টিতে আইভী ও ৯টিতে তৈমুরের বেশি ভোট * বিএনপির কাউন্সিলরদের ওয়ার্ডেও পরাজিত হাতি
 কাজী জেবেল  
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৩৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ধরাশয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। এ নির্বাচনের ১৯২টি ভোটকেন্দ্র্রের ফলাফলে ১৮৩টিতেই নৌকা প্রতীকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বেশি ভোট পেয়েছেন। বাকি ৯টিতে বেশি ভোট পেয়েছেন তৈমুর আলম খন্দকার। এমনকি এ নির্বাচনে বিএনপির যে নয়জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানেও হেরেছেন বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হাতি প্রতীকের এই প্রার্থী। এক কেন্দ্রে তৈমুর আলম খন্দকার মাত্র ৯৩টি ভোট পেয়েছেন। ওই কেন্দ্রেই ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পেয়েছেন ৬৯০ ভোট। এভাবে বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রেই ভোট পাওয়ার দিক থেকে তৈমুর বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ নির্বাচনে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫১ ভোটের মধ্যে পড়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৩৮২ ভোট। এতে আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট। দুজনের ব্যবধান ৬৬ হাজার ৫৩৫ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ নির্বাচনে ৪৭১টি ভোট বাতিল হয়েছে। এই ৪৭১ জন ভোটার পছন্দের প্রার্থী না থাকায় তারা মেয়র পদে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সবচেয়ে কম ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে চাষাঢ়ার এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দুই নম্বর ভোটকেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে ৪ হাজার ১১৭ টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ২৫৬টি। ৬টি ভোট বাতিল হয়েছে। ডা. আইভী এ কেন্দ্রে ৬৪৪টি এবং অ্যাডভোকেট তৈমুর ৪৪২ ভোট পেয়েছেন এ কেন্দ্রে। অপরদিকে সর্বোচ্চ ৭৯ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে কেরামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ১৮০টির মধ্যে ১ হাজার ৭৪২টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮২টি নৌকায় ও ৩৫৬টি হাতি প্রতীকে পড়েছে। এ সিটি নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে ১১টি ভোটকেন্দ্রে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রাফিউর রাব্বি যুগান্তরকে বলেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে অনেক নিরপেক্ষ ভোট রয়েছে। তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের বড় নিয়ামক। ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ নিয়ে শক্তভাবে লড়েছেন। এ কারণেই মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছে। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ধীরগতিতে ভোট নেওয়ায় অনেকেই বিরক্ত হয়ে কেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। ২০১১ সালে কাগজের ব্যালটে হওয়া নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০১৬ সালে তিনটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়, তখন ৬২ ভাগ ভোট পড়ে। এবার আমাদের ধারণা ছিল ৭০-৭৫ ভাগ ভোট পড়বে। কিন্তু ইভিএমে ধীরগতির কারণে ভোট কম পড়েছে। নইলে দুই প্রার্থীর ব্যবধান আরও বাড়ত।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় ভোটগ্রহণ। তবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণে গতি কম ছিল। এ কারণে অনেক কেন্দ্রে বিকাল ৪টার নির্ধারিত সময়ের পরও ভোটগ্রহণ করা হয়। সোমবার আইভী অভিযোগ করেছেন, ভোটের গতি কম না হলে তিনি আরও বেশি ব্যবধানে জয়ী হতেন। বন্দর থানার অনেক নারী ভোটার এ কারণে ভোট দিতে পারেননি। অন্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ ২৩ হাজার ৯৮৭, খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন ১০ হাজার ৭২৪, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন ১ হাজার ৩০৯, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস ১ হাজার ৯২৭ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম ১ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়েছেন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টিতে তৈমুর আলম খন্দকার সেলিনা হায়াৎ আইভীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে মিজমিজির মা আমেনা মেমোরিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল, পাইনাদির ফুলকলি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, শিমরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ (ভোটকেন্দ্র-১) নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ (ভোটকেন্দ্র-২), চাষাঢ়ার আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসা, নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ভোটকেন্দ্র-১), নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ভোটকেন্দ্র-২) এবং ৩৯নং আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিই নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। এ ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ভাই মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ওই ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রের ৬টিতে হাতি ও বাকি ছয়টিতে নৌকা প্রতীক বেশি ভোট পেয়েছে।

যেসব কেন্দ্রে তৈমুর আলম বেশি ভোট পেয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে মিজমিজির মা আমেনা মেমোরিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল কেন্দ্রে ২ হাজার ৫১৪ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ২৭৩টি (৫০ দশমিক ৬৪ শতাংশ)। বাতিল হয়েছে একটি ভোট। বৈধ ভোটের মধ্যে ৫২৩টি তৈমুর এবং ৫১৫টি পেয়েছেন আইভী। এ কেন্দ্রে বাকি মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে এবিএম সিরাজুল মামুন ২৪, মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ ১৯৩, মো. কামরুল ইসলাম ৪, মো. জসীম উদ্দিন ৯ এবং মো. রাশেদ ফেরদৌস ৪ ভোট পেয়েছেন।

পাইনাদির ফুলকলি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৯৯ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ৫২০টি। দুটি ভোট বাতিল হয়েছে। হার ৫৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ কেন্দ্রে তৈমুর ৭২ ভোট বেশি পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৬৪৪টি। পক্ষান্তরে আইভী পেয়েছেন ৫৭২ ভোট। বাকি ভোট পাঁচ মেয়র প্রার্থী পেয়েছেন।

শিমরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ৮৩৫ ভোট পেয়েছেন তৈমুর আলম। অপরদিকে আইভী পেয়েছেন ৬৫২ ভোট। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৯৮ ভোটের মধ্যে ১ হাজার ৮০৬টি পড়েছে। তিনটি বাতিল হয়েছে। অন্য প্রার্থীরা বাকি ভোট পেয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের এক ও দুই নম্বর ভোটকেন্দ্রে তৈমুর যথাক্রমে ৯৭৬ ও ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। এ দুটি কেন্দ্রে আইভী ৮১৪ ও ৫০৬ ভোট পেয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানে অবস্থিত এ দুটি কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার যথাক্রমে ৫৩ দশমিক ৪২ ও ৩৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

তৈমুর আলম নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সেই কেন্দ্রে তিনি বেশি ভোট পেয়েছেন। এ কেন্দ্রে ৩ হাজার ২৮৭টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ৭১৭টি। এর মধ্যে তৈমুর পেয়েছেন ৯৮২ ভোট। অপরদিকে আইভী পেয়েছেন ৫২৭টি। চাষাঢ়ার আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জ (তিন নম্বর) কেন্দ্রেও আইভীর প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন তৈমুর। এ কেন্দ্রে আইভী পেয়েছেন ৩৬২টি আর তৈমুর পেয়েছেন ৬৮০ ভোট। ৩ হাজার ২৫৫টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ১৭১টি।

নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুটি ভোটকেন্দ্র ছিল। দুটিতে নৌকার চেয়ে হাতি প্রতীকে বেশি ভোট পড়েছে। এ দুটি কেন্দ্রে তৈমুর যথাক্রমে ৬৪৪ ও ৪৯১ ভোট পেয়েছেন। আর আইভী পেয়েছেন ৫৯০ ও ৪১২ ভোট। দুটি কেন্দ্রের একটিতে ৫৬ শতাংশ ও অপরটিতে ৪১ দশমিক ৩৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বিএনপির কাউন্সিলর জেতা ওয়ার্ডগুলোয়ও তৈমুরের হার : ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে বিএনপির নেতারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ১৩ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির মাকসুদুল আলম খন্দকার নির্বাচিত হয়েছেন। মাকসুদুল আলম পরাজিত স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলমের ছোট ভাই। এ ওয়ার্ডের ১২টি ভোটকেন্দ্রে তৈমুর পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৭৯ ভোট। অপরদিকে আইভী পেয়েছেন ৭ হাজার ৭৩৬টি। এ ওয়ার্ডে ৩৩ হাজার ৩২৫ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১৮ হাজার ১ ভোট।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জিএম গিয়াস উদ্দিনের ছেলে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল আবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ এ ওয়ার্ডে হেরেছেন বিএনপির সাবেক নেতা মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। এ ওয়ার্ডের পাঁচটি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৪৯২ ভোট। পক্ষান্তরে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পেয়েছেন ৪ হাজার ১০৪ ভোট। এ ওয়ার্ডের ১৩ হাজার ৮২৬ ভোটের মধ্যে ৮ হাজার ১১০ ভোট পড়েছে। ২ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মো. ইকবাল হোসেন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এখানেও হেরেছেন তৈমুর। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৯৩৬ ভোট। অপরদিকে ডা. আইভী পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৪৮ ভোট। এ ওয়ার্ডের ২০ হাজার ৯৫০ ভোটের মধ্যে পড়েছে ১০ হাজার ২২১টি। ১১ নম্বর ওয়ার্ডেও জয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা অহিদুল ইসলাম। ওই ওয়ার্ডে হাতি প্রতীকে পড়েছে ৩ হাজার ৫৪৮ ভোট এবং নৌকায় পড়েছে ৫ হাজার ৭৭২ ভোট। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির শওকত হাসেম জয়ী হয়েছেন। ওই ওয়ার্ডে তৈমুর পেয়েছেন ৪ হাজার ১১৩ ভোট। অপরদিকে ডা. আইভী পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৯৯টি।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাউসার বিজয়ী হয়েছেন। আবুল কাউসার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ-সদস্য আবুল কালামের ছেলে। এ ওয়ার্ডেও অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার হেরেছেন। একইভাবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ শাহেনশাহ, ২২ নম্বরে সুলতান আহমেদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির এনায়েত হোসেন ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির মো. সামসুজ্জোহা নির্বাচিত হন। তারা সবাই বিএনপির নেতা। এসব ওয়ার্ডেও হেরেছেন তৈমুর আলম খন্দকার।

এক কেন্দ্রে ৯৩ ভোট তৈমুরের : জানা যায়, বঙ্গবন্ধু রোডের কিন্ডারগার্টেন কেয়ার স্কুল ভোটকেন্দ্রে তৈমুর আলম খন্দকার মাত্র ৯৩ ভোট পেয়েছেন। এ কেন্দ্রে ডা. আইভী পেয়েছেন ৬৯০ ভোট। ১ হাজার ৬৮৪ ভোটারের এ কেন্দ্রে পড়েছে ৮৩৪টি। অন্য প্রার্থীর মধ্যে এবিএম সিরাজুল মামুন ৩৪ ও মাওলানা মাছুম বিল্লাহ ১১ ভোট। বাকি তিন মেয়র প্রার্থী দুটি করে ভোট পেয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন