কুবি ক্যাম্পাসের আতঙ্ক ইলিয়াস
jugantor
কুবি ক্যাম্পাসের আতঙ্ক ইলিয়াস

  কায়েস আহমেদ সেলিম  

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০০:৪৮:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

১৫ বছর ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন ইলিয়াস হোসেন সবুজ। বিএনপি সরকারের আমলে ছাত্রদলের দাপুটে নেতা ইলিয়াস আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেন। অস্ত্র মামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি এখন ওই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি।


কুবি প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়া বিতর্কিত এই ছাত্রনেতার ছাত্রত্ব এখনো শেষ হয়নি। ইলিয়াস যখন খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হন তখন সেখানে এই কোটাই ছিল না। সে হিসেবে তার ছাত্রত্বই অবৈধ হওয়ার কথা। শিক্ষাজীবন শেষ হলেও ১৫ বছর ধরে শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের একটি কক্ষ দখল করে আছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি এক সন্তানের জনক ইলিয়াস। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রলীগের নেতারা নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে হস্তক্ষেপ, টেন্ডারবাজি, শিক্ষকের ওপর হামলা, ছাত্রীদের নিপীড়ন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের মারধর এবং কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যায় মদদদান।


পরিবহণ ও ঠিকাদারি ব্যবসায়ও জড়িত তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও নারীতে আসক্ত ইলিয়াস হোসেন সবুজ শুধু কুবি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ও নাম ভাঙানোর মাধ্যমেই এই অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. ইলিয়াস মিয়া কলেজজীবনে লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সময় তিনি লালমাই পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।


বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৬ সালে কুবি প্রতিষ্ঠার পর ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে (গ ইউনিটে) ভর্তি পরীক্ষা দেন। কিন্তু তিনি ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। পরে খেলোয়াড় কোটায় উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ অনুরোধে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোকপ্রশাসন বিভাগে তার ভর্তির ব্যবস্থা হয়। তখনই তিনি কুবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে কুবি ছাত্রলীগ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইলিয়াস ছাত্রদল ছেড়ে ছাত্রলীগে যোগ দেন। তখন ইলিয়াস শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুমের ক্যাডার হিসেবে কুবি ক্যাম্পাসসহ কোটবাড়ী এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে থাকেন।


২০১০ সালে কুবির এক শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন ইলিয়াস। এরপর তিনি সেই শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করেন। অভিযোগ প্রমাণের পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। পরের বছর ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি তাকে অধিক নম্বর দেওয়ার দাবি না মানায় লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মশিউর রহমানকে লাঞ্ছিত করেন ইলিয়াস। শিক্ষক মশিউরের ভাড়া বাসার দরজা-জানালা ভাঙচুর করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনা প্রমাণিত হলে কুবি প্রশাসন ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেন।


কিন্তু তিনি বহিষ্কৃত হলেও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৩০০১ নম্বর কক্ষ ছাড়েননি। একপর্যায়ে ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুমের পক্ষ ত্যাগ করেন।
২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর ইলিয়াস তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলা এলাকার রিভারভিউ ফিলিং স্টেশনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর, হামলা ও গুলি চালান। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ আটজন আহত হয়। এ ঘটনায় ইলিয়াসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন ওই ফিলিং স্টেশনের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা আলী মনসুর ফারুক।


২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি বিকালে কুবি এলাকায় অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা বাধান ইলিয়াস। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল দুপুরে কুবিসংলগ্ন শালবন বিহার এলাকায় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে তাকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটিমোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করে র্যা ব। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে র্যা বের করা মামলা চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় ওই সালের ৪ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে ছাত্রলীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে। এ মামলায় ইলিয়াস ছয় মাস জেলহাজতে ছিলেন।


২০১৬ সালের ১ আগস্ট শোকের মাসের প্রথম প্রহরে কুবি ক্যাম্পাসে গোলাগুলির ঘটনায় কাজী নজরুল ইসলাম হলের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. খালিদ সাইফুল্লাহ নিহত হন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, এত সব ঘটনার পরও ২০১৭ সালের ২৮ মে কুবি শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটিতে বহিষ্কৃত নেতা মো. ইলিয়াস মিয়াকে সভাপতি করা হয়। এতে তার প্রভাব আরও বেড়ে যায়।


অভিযুক্ত ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। ছাত্রত্ব নিয়ে জিজ্ঞাসার পর তিনি জানান, তিনি কুবিতে সান্ধ্যকালীন একটি কোর্সে অধ্যয়নরত, তাই মাঝে মধ্যে হলে থাকেন। তার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ মিথ্যা অভিযোগ তুলে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলেও জানান।

কুবি ক্যাম্পাসের আতঙ্ক ইলিয়াস

 কায়েস আহমেদ সেলিম 
২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৪৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

১৫ বছর ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন ইলিয়াস হোসেন সবুজ। বিএনপি সরকারের আমলে ছাত্রদলের দাপুটে নেতা ইলিয়াস আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেন। অস্ত্র মামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি এখন ওই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। 


কুবি প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়া বিতর্কিত এই ছাত্রনেতার ছাত্রত্ব এখনো শেষ হয়নি। ইলিয়াস যখন খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হন তখন সেখানে এই কোটাই ছিল না। সে হিসেবে তার ছাত্রত্বই অবৈধ হওয়ার কথা। শিক্ষাজীবন শেষ হলেও ১৫ বছর ধরে শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের একটি কক্ষ দখল করে আছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি এক সন্তানের জনক ইলিয়াস। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রলীগের নেতারা নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে হস্তক্ষেপ, টেন্ডারবাজি, শিক্ষকের ওপর হামলা, ছাত্রীদের নিপীড়ন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের মারধর এবং কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যায় মদদদান। 


পরিবহণ ও ঠিকাদারি ব্যবসায়ও জড়িত তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও নারীতে আসক্ত ইলিয়াস হোসেন সবুজ শুধু কুবি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ও নাম ভাঙানোর মাধ্যমেই এই অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. ইলিয়াস মিয়া কলেজজীবনে লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সময় তিনি লালমাই পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। 


বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৬ সালে কুবি প্রতিষ্ঠার পর ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে (গ ইউনিটে) ভর্তি পরীক্ষা দেন। কিন্তু তিনি ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। পরে খেলোয়াড় কোটায় উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ অনুরোধে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোকপ্রশাসন বিভাগে তার ভর্তির ব্যবস্থা হয়। তখনই তিনি কুবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে কুবি ছাত্রলীগ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইলিয়াস ছাত্রদল ছেড়ে ছাত্রলীগে যোগ দেন। তখন ইলিয়াস শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুমের ক্যাডার হিসেবে কুবি ক্যাম্পাসসহ কোটবাড়ী এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে থাকেন। 


২০১০ সালে কুবির এক শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন ইলিয়াস। এরপর তিনি সেই শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করেন। অভিযোগ প্রমাণের পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। পরের বছর ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি তাকে অধিক নম্বর দেওয়ার দাবি না মানায় লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মশিউর রহমানকে লাঞ্ছিত করেন ইলিয়াস। শিক্ষক মশিউরের ভাড়া বাসার দরজা-জানালা ভাঙচুর করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনা প্রমাণিত হলে কুবি প্রশাসন ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেন। 


কিন্তু তিনি বহিষ্কৃত হলেও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৩০০১ নম্বর কক্ষ ছাড়েননি। একপর্যায়ে ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুমের পক্ষ ত্যাগ করেন। 
২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর ইলিয়াস তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলা এলাকার রিভারভিউ ফিলিং স্টেশনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর, হামলা ও গুলি চালান। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ আটজন আহত হয়। এ ঘটনায় ইলিয়াসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন ওই ফিলিং স্টেশনের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা আলী মনসুর ফারুক। 


২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি বিকালে কুবি এলাকায় অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা বাধান ইলিয়াস। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল দুপুরে কুবিসংলগ্ন শালবন বিহার এলাকায় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে তাকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করে র্যা ব। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে র্যা বের করা মামলা চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় ওই সালের ৪ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে ছাত্রলীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে। এ মামলায় ইলিয়াস ছয় মাস জেলহাজতে ছিলেন। 


২০১৬ সালের ১ আগস্ট শোকের মাসের প্রথম প্রহরে কুবি ক্যাম্পাসে গোলাগুলির ঘটনায় কাজী নজরুল ইসলাম হলের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. খালিদ সাইফুল্লাহ নিহত হন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, এত সব ঘটনার পরও ২০১৭ সালের ২৮ মে কুবি শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটিতে বহিষ্কৃত নেতা মো. ইলিয়াস মিয়াকে সভাপতি করা হয়। এতে তার প্রভাব আরও বেড়ে যায়। 


অভিযুক্ত ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। ছাত্রত্ব নিয়ে জিজ্ঞাসার পর তিনি জানান, তিনি কুবিতে সান্ধ্যকালীন একটি কোর্সে অধ্যয়নরত, তাই মাঝে মধ্যে হলে থাকেন। তার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ মিথ্যা অভিযোগ তুলে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলেও জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন