ইসি আইন নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ভালো নয়
jugantor
সুজন’র সংবাদ সম্মেলন
ইসি আইন নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ভালো নয়

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ২২:৪৩:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে প্রস্তাবিত আইনটিকে ‘অনুসন্ধান কমিটি’ গঠনের আইন বলে মনে করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সংগঠনটি বলছে, আইনটি নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ভালো নয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে জয়ের জন্য পছন্দের ইসি নিয়োগ করতে চায় সরকার। ‘

সরকার প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন আইন এবং নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রোববার এমন কথা বলা হয়। অনলাইনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, খসড়া আইনটির সঙ্গে অনুসন্ধান কমিটির জন্য ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির জারি করা প্রজ্ঞাপনের পার্থক্য নেই বললেই চলে। কমিটির কার্যাবলির ক্ষেত্রে নাম আহ্বানের বিষয়টি যোগ হয়েছে এবং অন্য দিকে ২০১৭ সালের প্রজ্ঞাপনে নাম সুপারিশের ক্ষেত্রে ন্যূনতম একজন নারী রাখার বিষয়টি থাকলেও খসড়া থেকে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ‘এটি ঠিক নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন নয়, অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আইন। অনুসন্ধান কমিটি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা নির্দেশনাকে আইনি মোড়ক দেওয়াই যেন এর উদ্দেশ্য।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রস্তাবিত খসড়ায় কমিশনারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার যে মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে তা সবই দালিলিক প্রমাণের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কমিশনে থাকাকালীন যে খসড়াটি প্রস্তাব করেছিলাম সেখানে বলা ছিল-সুপারিশ করা নামগুলো প্রথমে সংসদের বিশেষ কমিটিতে যাবে, সেখানে আলোচনা হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। এ কমিটিতে সব দলের সমানুপাতিক অংশগ্রহণ থাকে। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কম থাকে।’

সুজনের নির্বাহী সদস্য ড. শাহদীন মালিক বলেন, ২০০২ সাল থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা আসীন হয়েছেন তারা সরকারের প্রতি কোনো না কোনোভাবে সহানুভ‚তিশীল। আর দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করবেন। স্বীয় বিবেচনায় কাউকে মনোনীত করার ক্ষমতা সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে দেয়নি। বুঝাই যাচ্ছে মনোনয়ন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই আসবে। এটি হবে একটি পক্ষপাতদুষ্ট সার্চ কমিটি। তারা যে নামগুলো প্রস্তাব করবে তা জানার সুযোগ থাকছে না। সরকার নির্ধারিত সার্চ কমিটি দিয়ে সরকার নির্ধারিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠিত হবে।

বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, ‘আইনটি যে গুড মোটিভ নিয়ে করা হচ্ছে এরকম কোনো নজির দেখছি না। রাখঢাক করে এ আইন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে আগের মতোই ইলেকশন করা।’

সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, সুজন খসড়া দিলে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, আইন করার মতো সময় নেই। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপের সময়ও তিনি একই কথা বলেছেন। হঠাৎ করে আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলো, সংসদেও উঠে গেল। সরকারের এখানে অসৎ উদ্দেশ্য আছে, তারা আগের মতো নির্বাচন করতে চায়। এজন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সম্পদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও যুক্ত ছিলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, অধ্যাপক সিকান্দর খান, ফারুক মাহমুদ চৌধুরী ও সফিউদ্দিন আহমেদ।

সুজন’র সংবাদ সম্মেলন

ইসি আইন নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ভালো নয়

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে প্রস্তাবিত আইনটিকে ‘অনুসন্ধান কমিটি’ গঠনের আইন বলে মনে করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। 

সংগঠনটি বলছে, আইনটি নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ভালো নয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে জয়ের জন্য পছন্দের ইসি নিয়োগ করতে চায় সরকার। ‘

সরকার প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন আইন এবং নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রোববার এমন কথা বলা হয়। অনলাইনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, খসড়া আইনটির সঙ্গে অনুসন্ধান কমিটির জন্য ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির জারি করা প্রজ্ঞাপনের পার্থক্য নেই বললেই চলে। কমিটির কার্যাবলির ক্ষেত্রে নাম আহ্বানের বিষয়টি যোগ হয়েছে এবং অন্য দিকে ২০১৭ সালের প্রজ্ঞাপনে নাম সুপারিশের ক্ষেত্রে ন্যূনতম একজন নারী রাখার বিষয়টি থাকলেও খসড়া থেকে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ‘এটি ঠিক নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন নয়, অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আইন। অনুসন্ধান কমিটি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা নির্দেশনাকে আইনি মোড়ক দেওয়াই যেন এর উদ্দেশ্য।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রস্তাবিত খসড়ায় কমিশনারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার যে মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে তা সবই দালিলিক প্রমাণের বিষয়।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা কমিশনে থাকাকালীন যে খসড়াটি প্রস্তাব করেছিলাম সেখানে বলা ছিল-সুপারিশ করা নামগুলো প্রথমে সংসদের বিশেষ কমিটিতে যাবে, সেখানে আলোচনা হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। এ কমিটিতে সব দলের সমানুপাতিক অংশগ্রহণ থাকে। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কম থাকে।’

সুজনের নির্বাহী সদস্য ড. শাহদীন মালিক বলেন, ২০০২ সাল থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা আসীন হয়েছেন তারা সরকারের প্রতি কোনো না কোনোভাবে সহানুভ‚তিশীল। আর দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করবেন। স্বীয় বিবেচনায় কাউকে মনোনীত করার ক্ষমতা সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে দেয়নি। বুঝাই যাচ্ছে মনোনয়ন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই আসবে। এটি হবে একটি পক্ষপাতদুষ্ট সার্চ কমিটি। তারা যে নামগুলো প্রস্তাব করবে তা জানার সুযোগ থাকছে না। সরকার নির্ধারিত সার্চ কমিটি দিয়ে সরকার নির্ধারিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠিত হবে। 

বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, ‘আইনটি যে গুড মোটিভ নিয়ে করা হচ্ছে এরকম কোনো নজির দেখছি না। রাখঢাক করে এ আইন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে আগের মতোই ইলেকশন করা।’ 

সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, সুজন খসড়া দিলে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, আইন করার মতো সময় নেই। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপের সময়ও তিনি একই কথা বলেছেন। হঠাৎ করে আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলো, সংসদেও উঠে গেল। সরকারের এখানে অসৎ উদ্দেশ্য আছে, তারা আগের মতো নির্বাচন করতে চায়। এজন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সম্পদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও যুক্ত ছিলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ,  অধ্যাপক সিকান্দর খান, ফারুক মাহমুদ চৌধুরী ও সফিউদ্দিন আহমেদ।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন