দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি মুলতবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ মে ২০১৮, ১৭:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়া
ফাইল ফটো

কুমিল্লায় হত্যা ও নড়াইলে মানহানির একটি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট।

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির একপর্যায়ে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়া ও ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ১৭ মে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে জামিন আবেদন দুটি দাখিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আগামী রোববার ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় জামিন আবেদন দুটি আসতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী। উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা ও ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে রোববার কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে করা দুটি এবং নড়াইলে মানহানির এক মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর মধ্যে কুমিল্লায় হত্যা ও নড়াইলে মানহানির মামলা দুটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে।

পূর্বনিধারিত অনুযায়ী মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় শুনানি শুরু হয়। এদিন এজলাসে মিডিয়াকর্মী প্রবেশে ছিল কড়াকড়ি। শুরুতেই আদালত জানতে চান, তিনি (খালেদা জিয়া) কুমিল্লার দায়রা আদালতে জামিন ফাইল করেছেন। সেটা নিষ্পত্তি না করে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা যায় কিনা? জবাবে আদালতের একটি নজির তুলে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুসারে জামিনের ক্ষেত্রে সেশন কোর্টের যে ক্ষমতা তা হাইকোর্টেরও আছে। কিন্তু সেখানে জামিন শুনানির জন্য লম্বা তারিখ দেয়া হয়েছে। আমরা শর্ট তারিখের জন্য আবেদন দিয়েছি। ইতিমধ্যে ওই আদালত থেকে জামিন আবেদনটি নট প্রেস (উথাপিত হয়নি) করেছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। এই জন্য আমরা এখানে (হাইকোর্টে) এসেছি।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মামলার এফআইআর’এ সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে সেখানে তাকে (খালেদা জিয়াকে) ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। সেখানে সুনির্দিষ্ট করে কোনো অভিযোগ বলা হয়নি। আইনজীবী বলেন, এ মামলার ৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কেউ জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এছাড়াও খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়স্ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তার জামিন চাওয়া হয়েছে।

এ সময় আদালত সম্পূরক চার্জশিট সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্রথম চার্জশিটে ৭৮ জনকে আসামি করা হয়। আর সম্পূরকে করা হয় ৭৭ জনকে। এখানে একজনকে বাদ দেয়া হয়। ধারাও পরিবর্তন করা হয়। এই মামলায় যারা গ্রেফতার আছেন তাদের সবাই প্রায় জামিনে আছেন। ইতিপূর্বে এই মামলায় অন্যান্য আসামিরা এই বেঞ্চ থেকে জামিনও নিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির বিএন‌পির সি‌নিয়র যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভীর নাম উল্লেখ্যযোগ্য।

এ পর্যায়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালত বলেন, তাহলে আমরা জামিনের বিষয়ে রুল দিয়ে দেই। জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, না আমরা রুল চাই না। আমরা জামিন চাই। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়ালে আদালত বলেন, আপনি বলবেন? মাহবুবে আলম বলেন, আমি আগামীকালকে বলব। তখন আদালত খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি বুধবার ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।

কুমিল্লায় হত্যা মামলা ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় ৭ যাত্রী মারা যান এবং আরও ২৫-২৬ জন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। বিচারকালে দায়রা জজ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এই মামলায় জামিন আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে- মামলার ৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কেউ জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এছাড়াও খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়স্ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় হাইকোর্টে তার জামিন চাওয়া হয়েছে।

নড়াইলে মানহানি মামলা ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ অভিযোগে একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকী ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। নড়াইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলাটি বিচরাধীন রয়েছে। এ মামলায় চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইনজীবীরা আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য গত ৮ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন।

এরপর নির্ধারিত দিনে শুনানি নিয়ে পুনরায় জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য রেখেছেন আদালত। এ অবস্থায় চলমান মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে- দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। কিন্তু এই তিন ধারার মামলায় জামিনযোগ্য। তাছাড়াও খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বয়স্ক একজন নেত্রী। তাই এসব যুক্তিতে এ মামলায় জামিন চেয়েছেন তার আইনজীবীরা।

SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"event";s:[0-9]+:"কারাগারে খালেদা জিয়া".*')) AND id<>51536 ORDER BY id DESC

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.