নিরাপত্তা বাহিনী মাদক ব্যবসায়ীদের গুলি করে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ মে ২০১৮, ১৯:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী কোনো অবস্থাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের গুলি করে না। যখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে কেবল তখনই আত্মরক্ষার্থে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীকেও গুলি করতে হয়।

বুধবার দুপুরে খুলনায় র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে আয়োজিত ৫৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিপক্ষের গুলিতে পুলিশ-র‌্যাব সদস্যরাও আহত হন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

তিনি বলেন, ‘সব গোয়েন্দা বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিয়েছে; কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, কারা মাদকের ব্যবসা করে। আমরা তাদের বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই আমাকে বারবার প্রশ্ন করছেন, রাতে টিভিতেও এসব কথা বলা হয়ে থাকে; ক্রসফায়ার হয়েছে, বিনা কারণে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কোনো অবস্থাতেই তাদের ওপর গুলি করে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি না হয়। আমাদের কাছে যে লিস্ট রয়েছে সে লিস্ট অনুযায়ী আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের খুঁজছে।’

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, যখন চ্যালেঞ্জ করা হয় তখনই নিরাপত্তা বাহিনী নিজেদের রক্ষা করতে গুলি করতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন,‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশকে জঙ্গি, মাদক ও জল-বনদস্যুমুক্ত করতে হবে। আর সেজন্য র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি ইউনিট কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। শিগগিরই সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়ন করতে হলে যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। সম্প্রতি তিন হাজারের অধিক মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা সারেন্ডার করে, মোবাইল কোর্ট নামে যে কোর্ট রয়েছে সে কোর্টে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বিচার হচ্ছে। যারা নির্দোষ হচ্ছে তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। যারা দোষী হচ্ছে তাদের সাত দিন থেকে ছয়মাস, এক বছর পর্যন্ত সাজা হচ্ছে। এ পর্যন্ত তিন হাজারের কাছাকাছি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের সরবরাহকারী ধরা হয়েছে। তারা কারাগারে অন্তরীণ হয়েছে।’

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের ধরিয়ে দিন। এরা সমাজকে মেধাশূন্য করতে তৎপর। মেধাহীন যুবসমাজ দেশের উন্নয়নে কোনো কাজে আসবে না। তাই আপনার সন্তানের প্রতি দৃষ্টি রাখুন। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ওপর নজর রাখুন। এতে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।’

অনুষ্ঠানে খুলনা ও বরিশালের জলদুস্যদের ছয়টি বাহিনীর প্রধান ও ৫৭ জন জলদস্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা ৫৮টি অস্ত্র ও এক হাজার ২৮৪টি গুলি জমা দেন। ওই ছয় বাহিনী হচ্ছে দাদা ভাই বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আমির আলী বাহিনী, সূর্য বাহিনী, ছোট সামছু বাহিনী ও মুন্না বাহিনী। অনুষ্ঠানে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এই অনুষ্ঠানে এর আগে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের আটটি বাহিনীর প্রধানদের এক লাখ টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মো. মারুফ হাসান, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক আতিকা ইসলাম, খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান এবং খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×