সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় বন্দুকযুদ্ধে ১১ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ মে ২০১৮, ২২:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় বন্দুকযুদ্ধে ১১ মাদক ব্যবসায়ী নিহত
ফাইল ছবি

সারা দেশে পুলিশের অব্যাহত মাদকবিরোধী অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় বন্দুকযুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ‘ইয়াবার গডফাদার’ এমপি বদির বেয়াইসহ ১১ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করছে, এসব অভিযানে তাদের বেশ কয়েক সদস্য আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ‘ইয়াবার গডফাদার’ আখতার কামালের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের দুগ্রুপের মধ্যে 'বন্দুকযুদ্ধে' আখতার নিহত হয়েছেন।

তিনি উখিয়া-টেকনাফের সরকারদলীয় এমপি আব্দুর রহমান বদির বড় বোন শামসুন্নাহারের দেবর ও সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।

শুক্রবার ভোরে মেরিনড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর ২ নম্বর ব্রিজ এলাকা থেকে নিহত আখতার কামালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সেখানে লাশের পাশ থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা, একটি বন্দুক ও ৪ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম।

ফেনী

ফেনীর ফুলগাজীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর-জামুড়া সড়কে মাদক এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মজনু মিঞা ওরফে মনির ও শাহামিরান শামীম।

ফুলগাজী থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান ‘নিহতদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক ও অস্ত্রের ১০টি করে মামলা রয়েছে।

নিহত শামীমের মা মনোয়ার বেগম জানান ২৩ তারিখ দুপুরে তার ছেলেকে বাড়ির পাশে মাঠে গরুর খড় সংগ্রহ করার সময় ফুলগাজী থানার এসআই সফিক তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে ২ লাখ টাকা নিয়ে দেখা করার প্রস্তাব পাঠায়।

মা আনোয়ার বেগম ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে রাতে থানায় হাজির হন। ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ভোররাতে সংবাদ পান মাদক উদ্ধারে ক্রসফায়ারে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মায়ের দাবি, তার ছেলে গাড়িচালক। বিভিন্ন সময় মাদকসেবন করত। তবে কখনো বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল না।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জুয়েল মিয়া (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় তার কাছে থেকে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

শুক্রবার ভোরে গাইবান্ধা শহরসংলগ্ন ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পুলবন্দি ফলিয়া ব্রিজ এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড মিস্ত্রিপাড়া এলাকার মৃত নছিম উদ্দিনের ছেলে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এএসআই আব্দুর রহিম, এএসআই মশিউর রহমান ও কনস্টেবল আব্দুর রাজ্জাক। তারা বর্তমানে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত জুয়েলের বিরুদ্ধে গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় এক ডজন মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

কলারোয়া (সাতক্ষীরা)

কলারোয়ায় মাদক চোরাকারবারিদের দুগ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে মাদক চোরাকারবারি ইউনুস আলী দালাল(৪৫) নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ান শ্যুটার গান,২ রাউন্ড গুলি ও ৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত ২টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়ালী ও রামকৃষ্ণপুরের ফাঁকা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইউনুস আলী দালাল উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল্লাহ দালালের ছেলে। কলারোয়া থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহতের বিরুদ্ধে মাদকসহ কমপক্ষে ৭টি নিয়মিত মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ শহরের পুরোহিতপাড়ায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২টার দিকে ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. রাজন (২৪) নিহত হয়েছে।

এ সময় ডিবির ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নিহত রাজন শহরের পুরোহিতপাড়া এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে এবং মাদক সম্রাট আলালের ভাতিজা। ডিবির ওসি আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রাজনের বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য আইনে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৮-৯টি মামলা রয়েছে।

শেরপুর

শেরপুরের চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আজাদ ওরফে কালু ডাকাত নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কালু শেরপুর সদর উপজেলার মরাকান্দি খাসপাড়া গ্রামের মুন্তাজ আলীর ছেলে।

এ সময় শেরপুর সদর থানার এক এসআইসহ তিন পুলিশ আহত হয়েছে। আহতরা হচ্ছে, এসআই আব্দুল ওয়াদুদ, পুলিশ কন্সটেবল গোলাম মোস্তফা ও সাইফুল ইসলাম। আহতদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেরপুর সদর সার্কেলের দায়িত্বরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ।

নিহতের স্ত্রী শিউলি ও তার বোন চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মমতাজ বেগমসহ স্বজনরা ভোর ৫টার দিকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্বজনদের অভিযোগ পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামি হিসেবে কালুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো হদিস পাচ্ছিল না।

ভোরে তারা খবর জানতে পারেন কালুকে পুলিশ ব্রহ্মপুত্র সেতুর কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তেজগাঁও (ঢাকা)

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কামরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা সূত্রে জানা যায়, র‌্যাব-২ এর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কামরুল মারা গেছে।

বন্দুকযুদ্ধের পর আহত অবস্থায় কামরুলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া ১টার দিকে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। লাশ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের বাবার নাম মানিক মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, মহাখালীর দক্ষিণপাড়ায় তার বাসা।

কুমিল্লা

কুমিল্লায় পুলিশের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান চলাকালে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিব্ধ হয়ে কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল (৫১) নামে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের মহিষমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কামাল হোসেন জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রাজমঙ্গলপুর গ্রামের হিরন মিয়ার ছেলে।

ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযানে অংশ নেয়া কুমিল্লা ডিবি পুলিশের এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম।

ওই অভিযানের সময় ডিবির এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার, এএসআই সাহাবুল হোসেন ও সুমন মিয়া নামে এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।

বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ রাউন্ড কার্তুজসহ একটি পাইপগান ও ৫০ কেজি গাঁজা। নিহত ওই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বুড়িচং ও কোতোয়ালি মডেল থানায় ১২টির অধিক মাদকের মামলা রয়েছে বলেও ওসি জানিয়েছেন।

কালীগঞ্জে (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আড়পাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শামীম সরদার (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

এ সময় পুলিশের ৪ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। তারা হলেন- এসআই শামীম, এএসআই অমিত, কনস্টেবল নাজিম ও রতন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের মাঠে ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, ১৭ পিচ ফেনসিডিল ও ৪৮০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বলে দাবি পুলিশের।

নিহত শামীম সরদার উপজেলার শিবনগর গ্রামের মোমিন সরদারের ছেলে।

তবে নিহত শামীমের স্ত্রী শামছুন্নাহারের দাবি, গত মঙ্গলবার বিকালে একটি মাইক্রোবাসে করে আড়পাড়া বিহারি মোড়ের একটি দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় তার স্বামীকে। সেদিন থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান খান বিষয় নিশ্চিত করেন। নিহত শামীমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে।

কক্সবাজার

কক্সবাজারের মহেশখালীতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ অস্ত্র ও গুলি।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ খবর পায় বড় মহেশখালীর পাহাড়তলী এলাকায় দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বন্দুকযুদ্ধ চলছে।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি ইউনিট নিয়ে তিনি দ্রুত ওই এলাকায় পৌঁছান। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। আধাঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের পর সন্ত্রাসীরা পিছু হটে।

এ সময় পুলিশ এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তার নাম মোস্তাক আহমদ (৩৫)। তিনি বড় মহেশখালী পাহাড়তলী এলাকার আনোয়ার পাশার ছেলে বলে এলাকাবাসী শনাক্ত করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৩০ রাউন্ড গুলির খোসা, ৪টি বন্দুক, ৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ওসি জানান, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ উল্লাহ ও আরিফ উল্লাহর মধ্যে মাদক ব্যবসার বিরোধের জের ধরে ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.