মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৮, ১০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

মাদকবিরোধী অভিযানকালে এগারো জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাতে ও রোববার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, চাঁদপুরের মতলব, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি, মেহেরপুরের গাংনী, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়ায়, বাগেরহাট, খুলনা, চট্টগ্রাম এবং ঠাকুরগাঁওয়ে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব ও পুলিশের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের নামে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

টেকনাফ (কক্সবাজার) : টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক (৪৬) নিহত হয়েছেন।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন জানান, রাতে নোয়াখালীপাড়া এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী একরামুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড গুলি ও ৫টি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকের অসংখ্য মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি পৌরসভার কায়ুকখালীপাড়া এলাকার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে।

ঝিনাইদহ : শৈলকুপায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নামপরিচয় জানা যায়নি।

শৈলকুপা থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের বড়দা জামালপুর নামক স্থানে রাত সোয়া ১টার দিকে দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় অজ্ঞাত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, ১০ বোতল ফেনসিডিল, ৫০০ পিস ইয়াবা এবং পিস্তলের দুটি ও বন্দুকের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সেলিম প্রধান (৩৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। শনিবার দিনগত রাত পৌনে ৩টায় মতলব দক্ষিণ উপজেলার হাজীর ডোন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মাদক ব্যবসায়ী সেলিম মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী ইউনিয়নের সালামত উল্যাহর ছেলে।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি কুতুবউদ্দিন জানান, থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল মতলব সড়কের হাজীর ডোন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সাত মাদক মামলার আসামি সেলিমকে আটক করা হয়। সেলিমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি ও হামলা চালায়। 

পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে সেলিম গুলিবিদ্ধ হন। আহতাবস্থায় তাকে মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ৪ পুলিশ আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪ রাউন্ড গুলি, ৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় ৭টি মাদক মামলা রয়েছে।

নোয়াখালী : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. হাছান প্রকাশ ইয়াবা হাসান (৩৫) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার বগাদিয়া ইজতেমা মাঠে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসান সোনাইমুড়ি পৌরসভার বগাদিয়া মিয়াবাড়ীর হানিফ মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন- পুলিশ কনেস্টবল সোহাগ, জহির মজুমদার ও গোলাম সামদানি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে সোনাইমুড়ি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা হাসানকে আটক করা হয়। পরে রাতে হাসানের দেয়া তথ্য মতে তাকে নিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারের জন্য বগাদিয়া ইজতেমা মাঠ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।

এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা হাসানের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়।

একপর্যায়ে ইয়াবা হাসান গুলিবিদ্ধ ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসানকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, সাতটি কার্টুজ, একটি রামদা, তিনটি লম্বা ছেনি, একটি দা ও ১২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাদক ব্যবসায়ী হাসানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ৩টিসহ থানায় মোট ২১টি মামলা রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

মেহেরপুর : গাংনীতে দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হাফিজুল ইসলাম ওরফে হাফি (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

নিহত হাফিজুল ইসলাম গাংনী ডিগ্রি কলেজপাড়া এলাকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হারেজ উদ্দীনের ছেলে।

শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার কাথুলি ইউনিয়নের গাঁড়াবাড়িয়া বাথান মাঠ এলাকার জনৈক আমজাদ হোসেনের কচুক্ষেতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি পিস্তল ও ১১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গাংনী থানার ওসি হরেন্দনাথ সরকার জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের বাথান মাঠ এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ হাফিজুল ইসলামকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাফিজুল ইসলাম এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গাংনী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় পু‌লি‌শের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী হা‌লিম মণ্ডল (৩৫) নিহত হয়ে‌ছেন।

শ‌নিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহ‌রের হাউ‌সিং 'ডি' ব্লক মা‌ঠে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

কু‌ষ্টিয়া ম‌ডেল থানার ওসি না‌সির উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশে একদল মাদক ব্যবসায়ী শহ‌রের হাউজিং 'ডি' ব্লক মা‌ঠে অবস্থান করছে- এমন গোপন সংবাদ পে‌য়ে ম‌ডেল থানা পু‌লি‌শের একটি টহল দল ঘটনাস্থ‌লে অভিযান চালায়।

পু‌লি‌শের উপ‌স্থি‌তি টের পে‌য়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পু‌লিশ‌কে লক্ষ্য করে গুলি ছো‌ড়ে। পু‌লিশও পাল্টা গুলি চালালে বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলিবিদ্ধ হন।

পরে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনা‌রেল হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পু‌লি‌শের দাবি, এ ঘটনায় তাদর চার সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থে‌কে পু‌লিশ অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে‌ছে।

এ ঘটনায় চার পু‌লিশ সদস্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়ে‌ছে।

ঘটনাস্থল থে‌কে একটি সাটারগান, একটি পাইপগান, ৩ রাউন্ড গুলি ও ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়ে‌ছে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর মরাখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কনস্টেবল হুমায়ুন ও কনস্টেবল আমির হামজা মারাত্মক আহত হন। তাদের স্থানীয় পুলিশলাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. আশিকুর রহমান জানান, এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদক ভাগাভাগি করছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

উভয়ের মধ্যে গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকা তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ এক মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের পরিচয় জানা যায়নি।

ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, চারটি গুলির খোসা, দুটি রামদা ও ১০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি।

বাগেরহাট : বাগেরহাটের চিতলমারীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মিটুল বিশ্বাস (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে উপজেলার চিংগুড়ি মোচন্দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিটুল মোচন্দপুর  এলাকার খোকা বিশ্বাসের ছেলে। 

চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল বিশ্বাস জানান, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে উপজেলার কুনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রাতে মিটুল বিশ্বাসকে আটক করা হয়। এ সময় তার দেয়া তথ্যমতে মাদক উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় চিংগুড়ি লুৎফর মিলিটারিবাড়ির বাগানে ওঁৎ পেতে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় মিটুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে মাদক বিক্রেতা মিটুল নিহত হন।

ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি শাটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। নিহত মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে ৯টি মাদক মামলা, হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলাসহ মোট ২২টি মামলা রয়েছে।

খুলনা : খুলনায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবুল কালাম (৪০) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জেলার দীঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর সিদ্দিকপাশা খেয়াঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালাম যশোরের অভয়নগরের ইছামতি গ্রামের মো. কাইয়ুম মোল্লা ছেলে।

রোববার সকালে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম শফিউল্লাহ জানান, নিহত কালামের কাছে ১০০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। তিনি মাদকের পাইকারি বিক্রেতা ছিলেন। 

আবুল কালামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫টি মামলা রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রফিকুল ইসলাম ওরফে তালেবান (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

নিহত রফিকুল মাদক বিক্রেতা বলে দাবি করেছে পুলিশ। রফিকুলের বাড়ি উপজেলার ভৌরনিয়া গ্রামে। 

রোববার ভোরে রানীশংকৈল উপজেলার ভৌরনিয়া মীরডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

রানীশংকৈল থানার ওসি আবদুল মান্নান জানান, ভোরে পুলিশ ভৌরনিয়া মীরডাঙ্গী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে রফিকুল ও তার লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে রফিকুল নিহত হন এবং বাকিরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।রফিকুলের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।

চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ডে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তি ইয়াবা ব্যবসায়ী। এ সময় আহত হয়েছেন ৫ পুলিশ সদস্যও। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরও তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।

শনিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সাগর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। 

নিহত মাদক ব্যবসায়ীর নাম রেহান উদ্দিন (২৮)।  তিনি উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া গ্রামের মৃত মালিউল হকের ছেলে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, রাত ১টার সময় পুলিশ গোপন সংবাদে জানতে পারে যে মাদক ব্যবসায়ী রেহান এবং তার সহযোগীরা মাদক ও অস্ত্র নিয়ে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ো হচ্ছে। এর ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ঘেরাও করে ফেললে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান ইয়াবা ব্যবসায়ী রেহান উদ্দিন। 

ঘটনাস্থল থেকে দুটি এলজি, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, একটি রাম দা ও একটি ছুরিসহ ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।