রাজধানীসহ সারা দেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১২

প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৮, ০৮:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

রাজধানীসহ সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযানকালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১২জন নিহত হয়েছেন।

রোববার  রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে  রাজধানীর মিরপুরে একজন, কুমিল্লায় দুজন, পিরোজপুরে দুজন, সাতক্ষীরায় দুজন, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে একজন, ঝিনাইদহে একজন, মুন্সিগঞ্জে একজন, নাটোরে একজন ও পাবনায় একজন নিহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-  

রাজধানী : মিরপুরে ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত পরিচয়ে (৫০) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।  পুলিশ  বলছে, নিহত ওই ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী।

রূপনগর থানার এসআই মিজানুর জানান, রূপনগরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে-এমন খবর পেয়ে ডিবি (পশ্চিম) বিভাগের একটি দল দিবাগত রাত ৩টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়।
মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়।  ডিবিও পাল্টা গুলি চালালে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়। 

পরে ঘটনাস্থলে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।  তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।  ঘটনাস্থল থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

কুমিল্লা : কুমিল্লায় পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এনামুল হক (দোলন) ভূঁইয়া (৩৫) ও  নুরু নামের (৫৫) দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। 

পুলিশের দাবি, নিহত দুজন মাদক ব্যবসায়ী। 

রোববার দিবাগত রাতে জেলার দেবিদ্বার উপজেলা পশ্চিম ভিংলাবাড়ি এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা এলাকায় এ দুটি ঘটনা ঘটে। 

দেবিদ্বারে নিহত দোলন উপজেলার ভিংলাবাড়ি (মির্জানগর) গ্রামের মৃত আবদুল্লাহ ভূঁইয়ার ছেলে এবং সদর দক্ষিণে নিহত নুরু উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে। 

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধার করতে পুলিশের একটি দল উপজেলার পশ্চিম ভিংলাবাড়ি এলাকায় গোমতী বাঁধে অবস্থান নেয়। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী দোলনসহ তার সহযোগীরা পৌঁছলে তাদের আটকের চেষ্টা করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী দোলনসহ তার ওপর সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষায় ২৩ রাউন্ড শটগানের গুলি চালায়। এতে দোলন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে দোলনের মৃত্যু হয়। 

ওই অভিযানে এসআই যুবরাজ বিশ্বাস, পুলিশ সদস্য গনেশ, মনির ও রাজ্জাক আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পাইপগান, ১০ কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা। নিহত দোলনের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার ও মুরাদনগর থানায় ১২টি মাদকের মামলা রয়েছে। 

অন্যদিকে সদর দক্ষিণ থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, মাদকবিরোধী অভিযানকালে উপজেলার সীমান্তবর্তী গলিয়ারা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী নুরু ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও গুলি চালালে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয় নুরু। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধারের পর কুমেক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক নুরুকে মৃত ঘোষণা করেন।  এ সময় ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে।  নিহত নুরু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে ১১টি মাদক ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি। 

পিরোজপুর: পিরোজপুরে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’  ওহিদুজ্জামান (৩৫) ও মিজানুর রহমান (৩৪) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। 

নিহত মাদক ব্যবসায়ী ওহিদুজ্জামান নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ কৌরিখাড়া গ্রামের মৃত আ. রহমানের ছেলে । 

পিরোজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ জানান, রোববার দুপুরে পিরোজপুর পৌরসভার উত্তর কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে ওহিদুজ্জামানকে পিরোজপুর ডিবি পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী রাত পৌনে ১টার দিকে সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের টোনা ব্রিজসংলগ্ন কৈবর্তখালী গ্রামে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে গেলে ওহিদুজ্জামানের সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এ সময় ওহিদুজ্জামানকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে তারা। 

পরে ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী ওহিদুজ্জামান পালাতে গেলে গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় ডিবি পুলিশের এএসআই আল-আমিন ও ডিবি পুলিশ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান আহত হন।  ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, ৫ রাউন্ড গুলি, দুটি বগি দা, ১৭৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০ গ্রাম গাঁজা, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। 

তার বিরুদ্ধে মাদক, সন্ত্রাসী, অস্ত্র মামলাসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে। 

মঠবাড়িয়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান, রোববার দিবাগত রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ি এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।  রাত পৌনে ২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর ডাকাতেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দুই পক্ষের গোলাগুলিতে মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। 

এ সময় মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল আমিন, উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম, তসলিমুর রহমান ও নূর আমিন, সহকারী উপপরিদর্শক ইয়ার আলী ও আবুল হাসান আহত হন।  আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেড় কেজি গাঁজা, ৫৫ পিস ইয়াবা ও চারটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকের ছয়টি মামলা রয়েছে।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার বাঁকালে অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পুলিশের দাবি তারা মাদক ব্যবসায়ী।  মাদক ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করে নিহত হয়েছে ওই দুজন। 

সোমবার ভোরে সাতক্ষীরা ভোমরা সড়কের বাঁকালের আগুনপুর গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে ওই লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।
 
সদর থানার উপপরিদর্শক  প্রবীর কুমার দাস জানান, ভোরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।  লাশ দুটির দেহে একটি করে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাদের পরনে ছিল  লুঙ্গি ও গেঞ্জি। মাত্র ১০ গজের ব্যবধানে পড়ে থাকা লাশ দুটির পরিচয় জানাতে পারেনি কেউ। 

তিনি বলেন, পাশেই পাওয়া গেছে একটি ওয়ান শুটারগান ও ১০৫ বোতল ফেনসিডিল। এ ছাড়া মদের খালি বোতলও পাওয়া গেছে। 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির একপর্যায়ে দুজন নিহত হন।  ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পিচ্চি হান্নানের সহযোগী  ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বাদশা ওরফে লাল বাদশা (৪৫) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। 

সোমবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার  গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে বৈচাতরী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। 

বাদশা একই উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ ছৈয়ালের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় ৭টি, চাঁদপুর সদরে ২টি, চট্টগ্রামে ১টিসহ ১০টি মাদক মামলা রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি শাহ্ আলম জানান, রাত ১০টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাল বাদশাকে তার বাড়ির সামনে থেকে মাদক বিক্রির সময় ১১১ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ।  

পরে তাকে নিয়ে পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়। গুপ্টি ইউনিয়নের  চাঁদপুর সেচ প্রকল্প বাঁধেরর বৈচাতরী  এলাকায় গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয় আবু সাঈদ ওরফে লাল বাদশা। আহত অবস্থায় তাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদশাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ নিহতের কাছ থেকে ১১১ পিস ইয়াবা  এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, ৩টি ককটেল, ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। ঘটনার সময় পুলিশের এএসআই বাবুল, সুমন, সুমন চৌধুরী, কনস্টেবল আশরাফ ও দেলোয়ার আহত হন। 

ঝিনাইদহ:  ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন।

রোববার রাত সোয়া ১টার দিকে উপজেলার জাড়গ্রামের শ্মশান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ব্যক্তি জেলা শহরের পাগলাকানাই সড়কের মৃত মোহম্মদ আলীর ছেলে ফারুক আহম্মেদ বলে দাবি করেছে  তার ছোট ভাই ফরিদ আহম্মেদ।

মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে নিহতের এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ।

তিনি বলেছেন, রাতে গোলাগুলির খবর পেয়ে টহল পুলিশের একটি দল সেখানে যায় এবং রাতেই নিহত ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।  

তিনি দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি একজন মাদক ব্যবসায়ী।  ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল,ম্যাগজিনসহ ২ রাউন্ড গুলি, আধা কেজি গাঁজা ও ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভায় মাদক ব্যবসায়ীদের দুপক্ষের গোলাগুলিতে সুমন বিশ্বাস (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন জানান, রোববার রাত ২টার দিকে মীরকাদিম পৌরসভার মুড়মা এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে সুমন বিশ্বাস ওরফে কানা সুমন নিহত হন।

সুমনের বিরুদ্ধে মাদকসহ ২৫টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সিংড়া (নাটোর) : নাটোরের সিংড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আবদুল খালেক (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

নিহত আবদুল খালেক চৌগ্রাম ইউনিয়নের বড় চৌগ্রাম গ্রামের আজাহার আলী প্রামাণিকের ছেলে।

নাটোর ক্যাম্প র‌্যাব-৫ কোম্পানির অধিনায়ক মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, রাত সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ভাগনাগরকান্দি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের অবস্থান রয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় সেখানে থাকা একদল মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ সময় র‌্যাবের দুজন সদস্যও আহত হন। আহত র‌্যাব সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৮৫৩ পিস ইয়াবা, একটি লোহার তৈরি বিদেশি রিভলভার, ২ রাউন্ড গুলি, গুলির একটি খালি খোসা, দুটি চার্জার টর্চলাইট, দুটি গ্যাসলাইট, পাঁচটি স্যান্ডেল, এক প্যাকেট ডার্বি সিগারেট ও নগদ এক হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক, চোরাচালান, অপহরণসহ ২০টি মামলা রয়েছে।

পাবনা : পাবনার বেড়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইজ্জত আলী প্রামাণিক (২৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, ইজ্জত আলী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৪টি মামলা রয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, রাত ১টার দিকে বেড়া থানা পুলিশের একটি দল টহল দিচ্ছিল। এ সময় তারা পৌর এলাকার তেঘরী মহল্লার গিয়ে দেখতে পায় একটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে কাঠের গুড়ি ফেলে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছে। এসময় পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। কিছু সময় বন্দুকযুদ্ধ চলার একপর্যায়ে ডাকাত দল পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে ইজ্জত আলীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে বেড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ওই হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।