সব হত্যার তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ মে ২০১৮, ২০:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি

মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হকসহ দেশব্যাপী মাদক অভিযানে সব হত্যার তদন্ত হবে।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে বৈঠক করে এই উদ্বেগের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট। বৈঠক শেষে তারা সংবাদিকদের উল্লিখিত তথ্য জানান।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কার্যকর পন্থা নয়। অভিযানে মৃতের সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। নিয়ম মেনে সবার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।’

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান শুরুর পর গত কিছুদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ীরা নিহত হচ্ছেন। এই অভিযানে বুধবার পর্যন্ত শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করে আসছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের ওপর আক্রমণের পর পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আক্রমণ করায় মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। যত দিন না মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে, তত দিন পর্যন্ত সর্বাত্মক এই অভিযান চলবে বলেও ইতিমধ্যে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এইদিকে কক্সবাজারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার ঘটনাটি তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে নিরপরাধ বলছেন। নাম বিভ্রাটের কারণে ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা একরামকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

এই ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু একরাম কেন? (মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে) যে কয়টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে সবগুলোর বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদন্ত হবে। সেই তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিচার হবে। যেখানে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে, সেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করে দেখবেন গান ফায়ারটি সঠিক ছিল কিনা। এই দেশে সেই ব্যবস্থা রয়েছে। যদি অন্যায়ভাবে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত অনুযায়ী সেই ব্যবস্থাও হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সেটা সম্পর্কে তিনি (রাষ্ট্রদূত) বলেছেন ঠিকই আছে, তিনিও প্রশংসা করেছেন। তিনি তার উদ্বেগের কথা বলেছেন যে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মানুষ মারা যাচ্ছে, নিহত হচ্ছেন। সে বিষয়ে তিনি কথাবার্তা বলেছেন। আমরা জানিয়েছি, এদেশ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস আমরা কন্ট্রোল করেছি এদেশের জনগণকে নিয়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন মাদক যেভাবে বিস্তার লাভ করছে, সেটা যদি আমরা বন্ধ করতে না পারি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ হারিয়ে যাবে। তিনি সবই স্বীকার করেছেন।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন, আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি- মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রথমে আমাদের গোয়েন্দারা লিস্ট তৈরি করেছে- কারা কারা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কারা কারা মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত। কারা সহযোগিতা করছেন। আমরা একটি নয়, পাঁচটি সংস্থার মাধ্যমে এই তালিকাটি তৈরি করেছি, তালিকায় যেসব নামগুলো কমন সেই নামগুলো নিয়ে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। পাশাপাশি আমাদের এনজিওরা, জনপ্রতিনিধিরা, শিক্ষক-ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী সবাই এই যুদ্ধে শরিক হয়েছেন। প্রচার-প্রচারণাও আমরা চালাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘মাদক বন্ধে ভারত আমাদের সহযোগিতা করছে কিন্তু ইয়াবা প্রতিরোধের জন্য মিয়ানমার আমাদের কোনো সহযোগিতা করছে না সেটাও আমরা জানিয়েছি। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, কোনো ক্রসফায়ার বা হত্যাকাণ্ড আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী করে না। তারা যা করছে- লিস্ট নিয়ে, কমন লিস্টে যাদের নাম আছে তাদের বাড়িতে গিয়ে বা তাদের ধরে আইনের আওতায় আনার জন্য খুঁজে বেরাচ্ছে। যারা সারেন্ডার করছে তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কিংবা রেগুলার কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যারা নির্দোষ তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। যারা সারেন্ডার করতে অস্বীকার করছে যারা চ্যালেঞ্জ করছে, যারা ফায়ার ওপেন করছে, আত্মরক্ষার্থে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীও গান ফায়ার করছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) জানতে চেয়েছেন কত মানুষ অভিযুক্ত হয়েছে। আমরা তাকে পুরো পিকচার দিয়েছি। আমরা কি করছি তা জানিয়েছি। তিনি সবকিছু অ্যাপ্রিসিয়েট করেছেন। বলেছেন, মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হবে। যারা নিহত হচ্ছেন তাদের বিষয়ে আরেকটু সতর্ক হওয়া যায় কিনা তিনি (বার্নিকাট) বলেছেন। এই অবৈধ ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র- সেখানে কেউ খালি হাতে গেলে ভালোভাবে ফিরে আসবে না, এটাই স্বাভাবিক। এজন্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তৈরি হয়ে যায়। সে জন্যই বন্দুকযুদ্ধ হয়। হত্যা করার কোন উদ্দেশ্য আমাদের নেই। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য এসব প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

অনেককে আগে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলছি, আমরা একজনকেও পিক করিনি। যারা বলেছে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেগুলোর একটার প্রমাণও পাওয়া যায়নি।’

অভিযান কত দিন চলবে জানতে চাইলে মন্ত্রী আবারও বলেন, ‘এই যুদ্ধ তত দিন পর্যন্ত চলবে যত দিন পর্যন্ত আমরা এগুলো কন্ট্রোলে আনতে না পারব।’

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter