আগামী বাজেটে নতুন করারোপ হচ্ছে না: অর্থমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ জুন ২০১৮, ১৭:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

অর্থমন্ত্রী
ফাইল ছবি

আগামী বাজেটে ঢালাওভাবে কর্পোরেট কর কমানো হচ্ছে না। তবে মাঝামাঝি স্তরে কর্পোরেট কর হার কিছুটা কমানো হবে। আর নিম্ন ও উচ্চ স্লাবের (২৫, ৪২ দশমিক ৫ ও ৪৫ শতাংশ) কর্পোরেট কর অপরিবর্তিত থাকছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সোমবার সচিবালয়ে বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ইঙ্গিত দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় সুখবর হচ্ছে নতুন করে কোনো কর আরোপ হচ্ছে না। ব্যক্তিশ্রেণীর আয়ের কর সীমা বাড়ছে না। আগামী বাজেটে ভ্যাটের স্তর ৯টি থেকে নামিয়ে ৫টি করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ৩টি স্তর রাখাই হবে আমাদের মূল্য লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো হবে। এটি আজ রাত (সোমবার) বা আগামীকাল চূড়ান্ত হবে।

বিদ্যমান কর কাঠামো অনুযায়ী, কর্পোরেট করের ৮টি স্তর আছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২৫ শতাংশ; তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিকে ৩৫ শতাংশ; পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া নতুন ব্যাংককে ৪০ শতাংশ; তালিকাবহির্ভূত ব্যাংককে ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ; মার্চেন্ট ব্যাংককে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ; সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে ৪৫ শতাংশ; তালিকাভুক্ত মোবাইল কোম্পানিকে ৪০ শতাংশ ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিকে ৪৫ শতাংশ এবং কোম্পানির লভ্যাংশ আয়ের ওপর ২০ শতাংশ কর্পোরেটর কর দিতে হয়। এর বাইরে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানকে ১০ ও ১২ শতাংশ এবং সমবায় প্রতিষ্ঠানকে ১৫ শতাংশ হারে কর্পোরেট ট্যাক্স দিতে হয়।

করারোপ না হলে রাজস্ব আয় বাড়বে কীভাবে - এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, করদাতার সংখ্যা বাড়ছে। যদিও অনুমান ছিল এ সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ লাখ হবে। কিন্তু ৩৩ লাখ ছাড়িয়েছে। এছাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে হয়রানি কমছে। স্বচ্ছতা বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) কর্মকর্তাদের মানুষিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এ জন্য এনবিআরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া আইনের জটিলতা কমানোর পাশাপাশি ২শ’ উপজেলায় ট্যাক্স অফিস স্থাপন করা হয়েছে। যে কারণে আয়কর বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সকল উপজেলায় ট্যাক্স অফিস স্থাপন করতে আরও ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগবে। এটি করা হবে।

আয়কর সীমার কোনো পরিবর্তন না করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে ট্যাক্স দেয়ার সর্বনিম্ন হার হচ্ছে মাথাপিছু আয়ের ১০ শতাংশের সমান। আমাদের হচ্ছে ২০ শতাংশ। ফলে এক্ষেত্রে বারবার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, মোট আয়ের প্রথম উৎস হচ্ছে ভ্যাট এবং দ্বিতীয়টি হলো আয়কর। ৩৪ থেকে ৩৫ শতাংশ আয় আসছে আয়কর থেকে। আগামী ২ থেকে ৩ বছরে এটি ৫০ শতাংশে নেয়ার লক্ষ্য বেঁধে দেয়া হয়েছে। বাজেটে অবহেলিত প্রতিবন্ধী আছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বছরে ৫০ হাজার টাকা আয়কে করমুক্ত করা হচ্ছে। কর্পোরেট ট্যাক্সে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সারচার্জ আগের মতোই রয়েছে।

কর্পোরেট কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় কয়েকটি ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে। বর্তমান কর্পোরেট ট্যাক্স ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ হচ্ছে সর্বোচ্চ। মোবাইল কোম্পানি ও ব্যাংকসহ কিছু ব্যতিক্রম কোম্পানি ছাড়া। কিন্তু দুটি কর্পোরেট কর রেট রাখা হয়েছে। তা হচ্ছে ৪২.৫ ও ৪৫ শতাংশ। মোবাইল ও তামাক কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ থাকবে। কর্পোরেট কর ৩৭.৫ শতাংশের নিচেরগুলোতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

সিগারেট প্রসঙ্গে বলেন, নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ কর স্তর হওয়া উচিত। এ স্তরগুলো একটি মূল্য নির্ধারণ করে নিতে চায়। এ লক্ষ্যমাত্রা আমি দিয়েছি। যদিও এবার তা কার্যকর হবে না। সিগারেটের কর হার আগের মতোই থাকছে। তবে তামাক খাত থেকে গত বছরের তুলনায় কর বেশি আহরণ করা হবে।

কাস্টমস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আয়ের সবচেয়ে কম আসে কাস্টমস থেকে। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সেখানে অনেকগুলো রেট পরিবর্তন করা হয়েছে। ফেসবুকের ওপর করারোপ করা হয়েছে।

ভ্যাট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাটের হার নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ হার করা হচ্ছে মূল্য লক্ষ্য। যদিও এবার তা হবে না। উচ্চ স্তরে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে। নিম্নস্তর এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে আসন্ন বাজেটে ৫ স্তরের ভ্যাট থাকছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি হচ্ছে ভ্যাটের ক্ষেত্রে আধা (দশমিক ৫ শতাংশ) রাখতে চাই না। যেমন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। একটি পুরো ডিজিট করা হবে। বর্তমান ৯টি ভ্যাট স্তর থেকে এখন ৫টি করা হচ্ছে।

কালো টাকার কোনো সুযোগ প্রসঙ্গে বলেন এটি গতবার এবং তার আগের বার দেইনি। আইনমতো যেটি আছে সেটি থাকবে। কয়েকবার এ সুবিধার ঘোষণা দেয়া হলেও কাজ হয়নি। প্রথমবার এ সুযোগ দেয়ায় কিছু কাজ হয়েছিল।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জুনেই ব্যাংকিং কমিশন ঘোষণা হবে। টার্মস অব রেফারেন্স তৈরি হয়েছে। কমিশনে কর্মরতদের তালিকা হলেই ঘোষণা দেয়া হবে। ২০০৪ সালে শেষ ব্যাংক কমিশন হয়েছে। এরপর আর হয়নি। ব্যাংকিং খাত নিয়ে সিপিডির গত রোববারের মূল্যায়ন জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন ‘জাস্ট ননসেন্স। নাথিং মোর’।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হবে। এ নিয়ে বাজেটের পরবর্তী পর্যালোচনা করা হবে। বর্তমান সঞ্চয়পত্রের সুদের হার অনেক বেশি। এটি অব্যাহত থাকলে বাজারে সমস্যা সৃষ্টি হবে।

নগরায়ণের কারণে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে কোনো বাজেট দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমি এ সংস্থাকে বিলুপ্ত করার পক্ষে। সর্বজনীন পেনশন প্রথার ঘোষণা থাকবে আসন্ন বাজেটে। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে। বর্তমান ৮ থেকে ৯ লাখ পরিবার পেনশন পাচ্ছে।

বিগত সময়ে কয়েকবার বলেছেন, এটি নির্বাচনীয় বাজেট। সুবিধা দেয়া হবে। কিন্তু আজকের মতবিনিময়ে দেখা যাচ্ছে কিছুই নেই। তাহলে ভোট কীভাবে পাবেন। প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন ‘নো নো খুশির ব্যাপারটি হলো যে, দেয়ার ইজ ভ্যারি লিমিটেড ইনক্রিজ ইন ট্যাক্স রেট। এটি জনগণের জন্য সুখবর। দ্যাটস অল’। তাহলে রাজস্ব আয় হবে কীভাবে। আমি বলছি, আদায় প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হচ্ছে, হয়রানি কমছে। এ জন্য আয় বাড়ছে।

ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণে কত টাকা রাখা হয়েছে। এটি সঠিক বলতে পারব না। আগের মতোই রাখা হয়েছে। এ রাখা নির্ভর করছে অর্থের ওপর। মোস্টলি যা বরাদ্দ রাখা হয় তার চেয়ে বেশি দেয়া হয়। এর কিছু ভালো ফলও আছে। যেমন জনতা ব্যাংককে এখন আরও কোনো মুলধন দিতে হয় না। এটি ভালো দিক। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ব্ড় ব্যাংক নিয়ে। এখন ইসলামি ব্যাংক হচ্ছে বড় ব্যাংক। দেশের ইতিহাসে এত দিন সোনালী ব্যাংক ছিল।

রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাজেটে ৪০০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ থাকবে। আপনি এবার ১২তম বাজেট দিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সমান হবেন। এরপর ১৩ বা ১৪তম বাজেট দেয়ার ইচ্ছা আছে কিনা জবাবে অর্থন্ত্রী বলেন, আমার চিন্তা হচ্ছে আবসরে যাব। তবে আমি সব সময় বলি। যদি পার্টি চায় আমি থাকব।

সরকারি চাকরিজীবীদের অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নেই। প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেট বাস্তবায়ন হার ভালো। বাস্তবায়ন হার হবে ৯২ শতাংশ। আমি ১২টি বাজেটের মধ্যে প্রথম বাজেট ৯২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। বাস্তবায়ন হার ৯২ থেকে ৯৩ শতাংশ হচ্ছে অত্যান্ত ভালো। আগামী বাজেটের ৯২ শতাংশের ওপরে বাস্তবায়ন হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter