তিন দশকে হাওড়ে জলাধার কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ
jugantor
তিন দশকে হাওড়ে জলাধার কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুন ২০২২, ২১:৩৮:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড়ের আয়তন অনেক কমে এসেছে। গত তিন দশকে হাওড়ের প্রকৃতি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই ধরনের ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন বেশি দেখা গেছে।

১৯৮৮ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে জলাধারের পরিবর্তন প্রবণতা রীতিমতো আশঙ্কাজনক। এ সময় হাওড় এলাকা তার মূল জলাধারের প্রায় ৪০ শতাংশ হারিয়ে ফেলে। আর ২০২০ সালের মধ্যে হারিয়ে যায় ৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নাগরিক স্থাপনা নির্মাণ এলাকা বেড়েছে প্রায় ২২০ শতাংশ। এটি প্রাথমিক অবস্থার তুলনায় ৩৮৫ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ের (বুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর করা এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসছে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর ‘হাওড় এলাকার ভূমি ব্যবহারের কয়েক দশকের পরিবর্তন ও এবারের বন্যার ব্যাপকতা’ শীর্ষক আলোচনায় এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী ইনজামাম-উল-হক রিফাত ও মারিয়া মেহরিন গবেষণাকর্মটি ২০২১ সালের মার্চ মাসে শুরু করে ২০২২ সালের জুনে শেষ করেন।

গবেষক ইনজামাম-উল-হক রিফাত বলেন, হাওড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ জলাভূমির অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেছে। সেখানে আর জলাভূমি নেই। ৩২ বছরে হাওড়ের আয়তনকমে দশ ভাগের এক ভাগ হয়ে গেছে। জলাভূমির জায়গা ভরাট করে সেখানে রাস্তা, বসতঘর, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য বলছে, ১৯৯৮ সালে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার,হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওড়ে জলাধার ছিল ৩ হাজার ২৬ বর্গকিলোমিটার, যা ২০২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৯৯ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে জলাধারে গড়ে উঠেছে অবকাঠামো। ১৯৯৮ সালে হাওড় অবকাঠামো আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৯৮৮ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৪০ বর্গকিলোমিটার। এসব হাওড় এলাকায় ১৯৯৮ সালে বনাঞ্চল ছিলচার বর্গকিলোমিটার এবং ২০২০ সালে তা কমে হয়েছে দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার।

সভায় গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান।

তিন দশকে হাওড়ে জলাধার কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুন ২০২২, ০৯:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড়ের আয়তন অনেক কমে এসেছে। গত তিন দশকে হাওড়ের প্রকৃতি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই ধরনের ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন বেশি দেখা গেছে। 

১৯৮৮ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে জলাধারের পরিবর্তন প্রবণতা রীতিমতো আশঙ্কাজনক। এ সময় হাওড় এলাকা তার মূল জলাধারের প্রায় ৪০ শতাংশ হারিয়ে ফেলে। আর ২০২০ সালের মধ্যে হারিয়ে যায় ৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নাগরিক স্থাপনা নির্মাণ এলাকা বেড়েছে প্রায় ২২০ শতাংশ। এটি প্রাথমিক অবস্থার তুলনায় ৩৮৫ শতাংশ বেশি। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ের (বুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর করা এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসছে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট  (আইপিডি) এর ‘হাওড় এলাকার ভূমি ব্যবহারের কয়েক দশকের পরিবর্তন ও এবারের বন্যার ব্যাপকতা’ শীর্ষক আলোচনায় এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী ইনজামাম-উল-হক রিফাত ও মারিয়া মেহরিন গবেষণাকর্মটি ২০২১ সালের মার্চ মাসে শুরু করে ২০২২ সালের জুনে শেষ করেন। 

গবেষক ইনজামাম-উল-হক রিফাত বলেন, হাওড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ জলাভূমির অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেছে। সেখানে আর জলাভূমি নেই। ৩২ বছরে হাওড়ের আয়তন কমে দশ ভাগের এক ভাগ হয়ে গেছে। জলাভূমির জায়গা ভরাট করে সেখানে রাস্তা, বসতঘর, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। 

গবেষণার তথ্য বলছে, ১৯৯৮ সালে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওড়ে জলাধার ছিল ৩ হাজার ২৬ বর্গকিলোমিটার, যা ২০২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৯৯ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে জলাধারে গড়ে উঠেছে অবকাঠামো। ১৯৯৮ সালে হাওড় অবকাঠামো আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৯৮৮ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৪০ বর্গকিলোমিটার। এসব হাওড় এলাকায় ১৯৯৮ সালে বনাঞ্চল ছিল চার বর্গকিলোমিটার এবং ২০২০ সালে তা কমে হয়েছে দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার।

সভায় গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর