জনশুমারি ও গৃহগণনা: প্রতিবন্ধীদের তথ্য যেন সঠিকভাবে আসে
jugantor
জনশুমারি ও গৃহগণনা: প্রতিবন্ধীদের তথ্য যেন সঠিকভাবে আসে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুন ২০২২, ২১:৫১:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ডিজ্যাবিলিটি রাইটস ফান্ড, এনসিডিডাব্লিউ, সীতাকুন্ড ফেডারেশন, টার্নিং পয়েন্ট ও ডাব্লিউডিডিএফ-এর যৌথ আয়োজনে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের ওপর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লার সভাপতিত্বে সংস্থার চেয়ারপারসন মহুয়া পাল স্বাগত বক্তব্য দেন।

আলবার্ট মোল্লা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের মধ্যেও রয়েছে অসামঞ্জস্য। যেমন- জনশুমারি ২০১১: ১ দশমিক ৪১ শতাংশ খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০১০: ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০১৬: ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ন্যাশনাল সার্ভে অন পারসনস উইথ ডিজ্যাবিলিটিজ (এনএসপিডি) ২ দশমিক ৮ শতাংশ, প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৯ জন (২১ জুন ২০২২ পর্যন্ত)। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী সদ্য সমাপ্ত জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা পাওয়া যাবে না এই শঙ্কা রয়ে গেল। কারণ তথ্য সংগ্রহকারীরা সঠিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করেনি। আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ ছিল এই গণনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিকভাবে গণনায় আনা। তাহলে নির্ভরযোগ্য তথ্যের যে অভাব ছিল তা দূরীভূত হতো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প তৈরি ও বাজেট বরাদ্দ করা যেত।

তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে ১৪৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। যার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাদ পড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে এ শুমারিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তার জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

ডাব্লিউডিডিএফের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর অধিকাংশ তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক প্রশ্ন করেনি, বাসায় কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন করেনি। এমনকি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও তারা প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক কোনো প্রশ্ন করেনি, কোনো কোনো তথ্য সংগ্রহকারী মৌলিক কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সম্পূর্ণ প্রশ্নাবলী শেষ না করেই চলে গেছেন। দেখা গেছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি উল্লেখ করার পরও তথ্য সংগ্রহকারীরা সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করেনি। তথ্য সংগ্রহকারীরা সব বাড়িতে যায়নি। ঢাকা শহরের কোনো কোনো অ্যাপার্টমেন্টের দারোয়ানকে গিয়ে কতটি ফ্ল্যাট ও একেকটি ফ্ল্যাটে কতজন করে মানুষ থাকে জিজ্ঞাসা করে চলে গেছেন। কেউ কেউ প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি যোগ করতে চাইলেও বলেছেন অপশন নেই।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তথ্য যুক্ত করতে চাইলে তথ্য সংগ্রহকারীরা বলেছেন, তিনি নিজেই যুক্ত করে দিয়েছেন। পরে জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, প্রতিবন্ধিতার ভুল ধরন যুক্ত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীর কাছে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক প্রশ্নটি কেন করা হচ্ছে না জানতে চাইলে বলেছেন, কেউ যদি কষ্ট পায় এজন্য প্রশ্নটি করা হয়নি। কোনো কোনো তথ্য সংগ্রহকারী বলেছেন, এই প্রশ্ন করলে তো আপনি রেগে যাবেন। কেউ কেউ প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক প্রশ্ন না করে জিজ্ঞেস করেছেন, আপনার কোনো সমস্যা আছে কিনা? কোনো কোনো তথ্য সংগ্রহকারী বলেছেন এটা ঐচ্ছিক বিষয় না দিলেও চলবে। কোথাও কোথাও পরিবারের সদস্য সংখ্যা তা জিজ্ঞেস করেই চলে গেছেন।

সভায় বক্তারা এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান, জনশুমারি ও গৃহগণনা শেষ হলেও বাদ পড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য যাতে সঠিকভাবে গণনায় আসে সেজন্য কিছুদিন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু রাখা। নির্দেশনা প্রদান করা যাতে বাদ পড়া ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেসরকারি সংস্থা, সাংবাদিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সুশীল সমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের প্রতিনিধি।

জনশুমারি ও গৃহগণনা: প্রতিবন্ধীদের তথ্য যেন সঠিকভাবে আসে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুন ২০২২, ০৯:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ডিজ্যাবিলিটি রাইটস ফান্ড, এনসিডিডাব্লিউ, সীতাকুন্ড ফেডারেশন, টার্নিং পয়েন্ট ও ডাব্লিউডিডিএফ-এর যৌথ আয়োজনে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের ওপর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। 

অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লার সভাপতিত্বে সংস্থার চেয়ারপারসন মহুয়া পাল স্বাগত বক্তব্য দেন। 

আলবার্ট মোল্লা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের মধ্যেও রয়েছে অসামঞ্জস্য। যেমন- জনশুমারি ২০১১: ১ দশমিক ৪১ শতাংশ খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০১০: ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০১৬: ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ন্যাশনাল সার্ভে অন পারসনস উইথ ডিজ্যাবিলিটিজ (এনএসপিডি) ২ দশমিক ৮ শতাংশ, প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৯ জন (২১ জুন ২০২২ পর্যন্ত)। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী সদ্য সমাপ্ত জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা পাওয়া যাবে না এই শঙ্কা রয়ে গেল। কারণ তথ্য সংগ্রহকারীরা সঠিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করেনি। আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ ছিল এই গণনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিকভাবে গণনায় আনা। তাহলে নির্ভরযোগ্য তথ্যের যে অভাব ছিল তা দূরীভূত হতো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প তৈরি ও বাজেট বরাদ্দ করা যেত। 

তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে ১৪৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। যার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাদ পড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে এ শুমারিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তার জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

ডাব্লিউডিডিএফের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর অধিকাংশ তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক প্রশ্ন করেনি, বাসায় কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন করেনি। এমনকি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও তারা প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক কোনো প্রশ্ন করেনি, কোনো কোনো তথ্য সংগ্রহকারী মৌলিক কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সম্পূর্ণ প্রশ্নাবলী শেষ না করেই চলে গেছেন। দেখা গেছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি উল্লেখ করার পরও তথ্য সংগ্রহকারীরা সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করেনি। তথ্য সংগ্রহকারীরা সব বাড়িতে যায়নি। ঢাকা শহরের কোনো কোনো অ্যাপার্টমেন্টের দারোয়ানকে গিয়ে কতটি ফ্ল্যাট ও একেকটি ফ্ল্যাটে কতজন করে মানুষ থাকে জিজ্ঞাসা করে চলে গেছেন। কেউ কেউ প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি যোগ করতে চাইলেও বলেছেন অপশন নেই।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তথ্য যুক্ত করতে চাইলে তথ্য সংগ্রহকারীরা বলেছেন, তিনি নিজেই যুক্ত করে দিয়েছেন। পরে জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, প্রতিবন্ধিতার ভুল ধরন যুক্ত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীর কাছে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক প্রশ্নটি কেন করা হচ্ছে না জানতে চাইলে বলেছেন, কেউ যদি কষ্ট পায় এজন্য প্রশ্নটি করা হয়নি। কোনো কোনো তথ্য সংগ্রহকারী বলেছেন, এই প্রশ্ন করলে তো আপনি রেগে যাবেন। কেউ কেউ প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক প্রশ্ন না করে জিজ্ঞেস করেছেন, আপনার কোনো সমস্যা আছে কিনা? কোনো কোনো তথ্য সংগ্রহকারী বলেছেন এটা ঐচ্ছিক বিষয় না দিলেও চলবে। কোথাও কোথাও পরিবারের সদস্য সংখ্যা তা জিজ্ঞেস করেই চলে গেছেন। 

সভায় বক্তারা এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান, জনশুমারি ও গৃহগণনা শেষ হলেও বাদ পড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য যাতে সঠিকভাবে গণনায় আসে সেজন্য কিছুদিন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু রাখা। নির্দেশনা প্রদান করা যাতে বাদ পড়া ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেসরকারি সংস্থা, সাংবাদিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সুশীল সমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের প্রতিনিধি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন