চাল আমদানিতে শুল্ক পুনর্বহাল

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৮, ১৯:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রির্পোট

ফাইল ছবি

কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার চাল আমদানিতে ধার্যকৃত ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করেছে। 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট (২০১৮-১৯) বক্তৃতায় এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। 

অবশ্য এর আগে গত ৪ জুন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর থেকেই শুল্ক পুনর্বহালের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর ফলে কৃষকের স্বার্থরক্ষা হবে। তারা আবারও দেশে বাম্পার ফলনে উদ্বুদ্ধ হবে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ধান-চালের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করে সর্বোচ্চ আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ পুনঃআরোপ করা হয়েছে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গম, ভুট্টা, আলু, কাসাভা থেকে উৎপাদিত স্টার্চের শুল্কহার যৌক্তিকীকরণ করে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি ১০ শতাংশ হারে নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। আপৎকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রাখা। দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা বর্তমানে ২১ দশমিক ২ লাখ টন। ২০২০ সালের মধ্যে এই ক্ষমতা ২৭ লাখ টনে উন্নীত করা হবে। দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিশ্চিত করতে দেশের ৮টি স্থানে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার ৮টি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে। 

তিনি বলেন, খাদ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প ও তাদের জন্য টেস্টিং ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ রয়েছে।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রয়েছে উল্লেখ করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যে খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারকে শুভেচ্ছামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হচ্ছে।

চাল আমদানি শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ডিউটি (শুল্ক) কমানো যায় যেমন, তেমন বাড়ানোও যায়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এটা হয়। গত বছর আগাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা জেনেছি ১০ লাখ টন চাল উৎপাদন কম হয়েছিল। 

তিনি বলেন, এ অবস্থায় ঘাটতে পূরণ ও বাজার সহনীয় রাখতে সরকার ধাপে ধাপে চালের ওপর আরোপিত ২৮ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে। আমরা আবার তা বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার বোরোতে বাম্পার ফলন হয়েছে। ‘অস্বাভাবিক’ ভালো ফলন হয়েছে। আমদানিও হয়েছে ঘাটতির চেয়ে ৮-১০ গুণ বেশি। তাই কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে চাল আমদানিতে আবারও শুল্ক বসানো হচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দরকার মতো আবার কমানো হবে। এটা সবাই করে। ভারতও তাদের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাটপণ্যে শুল্ক বসিয়েছে। 

দেশে এবার যেহেতু চালের চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ মজুদ বেশি, ফলনও বেশি হয়েছে, তাই শুল্ক বাড়ানোয় বাজারে এর প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন মন্ত্রী জানান।