তাদের জীবন গড়ার স্বপ্ন ভাঙল রেলপথে
jugantor
তাদের জীবন গড়ার স্বপ্ন ভাঙল রেলপথে

  মো. আবু তালেব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)  

৩০ জুলাই ২০২২, ০৫:৩২:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

জীবন গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন ১১ তরুণ-যুবক। তাদের কেউ এসএসসি পরীক্ষার্থী, কেউ শিক্ষক। কেউ দরিদ্র পিতার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরতে পড়াশুনার পাশাপাশি করতেন শিক্ষকতা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আনন্দ যাত্রায় তাদের তাদের জীবন গড়ার সব স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেল রেলপথে।

তাদের একজন জিয়াউল হক সজীব; বয়স ২২ বছর। চট্টগ্রামের ওমরগণি এমইএস কলেজে গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার হতদরিদ্র পিতা অন্যের দোকানে মাসিক বেতন চাকরি করে কোনো রকমে তাদের ছয় সদস্যের পরিবারটাকে চালিয়ে নিচ্ছিলেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরতে পড়াশুনার পাশাপাশি এলাকার বন্ধুদের নিয়ে চালু করেছিলেন আর এন্ড জে কোচিং সেন্টার। এভাবে পিতার অল্প আয় ও তার কোচিং সেন্টার থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে চলছিল তাদের কষ্টের সংসার।

শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া রেলস্টেশনের এক কিলোমিটার এলাকায় ট্রেন ধাক্কায় মাইক্রোবাসের থাকা সজীব ঘটনাস্থলে মারা যান। আর এন্ড জে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক সজীব চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের আমানবাজার পূর্ব পাশে খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাট এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুল হাকিম মিয়াজি বাড়ির মো. আব্দুল হামিদের পুত্র।

শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহাজারি করছিলেন সজীবের বাবা মো. আব্দুল হামিদ। তার পাশে বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন সজীবের ছোট ভাই তৌসিফ। সজীবের বাবা বলছিলেন, টাকা ধার করে বন্ধুদের নিয়ে ‘আর অ্যান্ড জে প্রাইভেট কেয়ার’ নামের কোচিং সেন্টার দিয়েছিল সজীব। লেখাপড়ার পাশাপাশি সেই কোচিংয়েই ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন বুনছিল। তার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল রেলপথে।

সজীবের মা বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, সকাল ৭টায় তার ছেলে মিরসরাইয়ে ঝরনা দেখতে কোচিং সেন্টারের সবার সঙ্গে যান। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তাকে সুন্দর লাগছে কি না। পরনে প্যান্ট, গেঞ্জি ও কেডস ছিল জিয়াউলের। মা বলেছিলেন, অনেক সুন্দর লাগছে। এসব কথা বলতে না–বলতে আবার নিজের বুক চাপড়াতে থাকেন শাহনাজ আক্তার।

তিনি বলছিলেন, ‘আমার মাস্টার সজীব কই? মাস্টার সজীব কই?’ উপস্থিত স্বজনদের কারও মুখে উত্তর নেই। সবার চোখ থেকে ঝরছে পানি।

ওই দুর্ঘটনায় আরও ১০ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে উপজেলার মধ্যম মাদার্শা এলাকার মাদারিপুল এলাকায় আব্দুল মাবুদ এর পুত্র ইকবাল হোসেন মারুফ (১৭) নিহত হয়েছেন। যদিও মারুফ আর মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন তার নানার বাড়ি উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাট এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াদুদ মাস্টার বাড়িতে। বিগত ১০-১২ বছর আগে মারুফ পিতা আরেকটি বিয়ে করাই তার মাকে তাদের ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। বহু কষ্টে দুই পুত্র ও এক কন্যাকে নিয়ে মারুফের মা কামরুন নাহার করছিল।

নিহত মারুফ পার্শ্ববর্তী শিকারপুর ইউনিয়নের কেএস নজু মিয়া হাই স্কুল থেকে চলতি বছরে ব্যবসায়ী শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম জানান, নিহতের বেশির ভাগই তার স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র। এতগুলো মেধাবী ছেলেকে একসঙ্গে হারানোর শোক কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন, তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, আমি শুনেছি আজ সকালে যুগিরহাট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারের এর চার শিক্ষকসহ ১০-১২ জন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিরসরাই উপজেলার পর্যটন স্পট খৈয়াছড়া ঝরনা দেখতে গিয়েছিল।
ঝরনা থেকে গোসল করে ফেরার পথে নাকি তারা ওই উপজেলার বড়তাকিয়া রেলস্টেশনের এক কিলোমিটার এলাকায় ট্রেন ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা চার শিক্ষকসহ আমার কয়েকজন ছাত্র নিহত হয়েছে।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কোচিং সেন্টারের নিহত আরেক শিক্ষক বন্ধকীয়া গ্রামের মেম্বর বাড়ির জানে আলমের পুত্র ওয়াহিদুল আলম জিসানের বাড়িতে গেলে দেখা যায় তার পরিবার ও বিলাপ চলছে। ওয়াহিদুল চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক সম্মান পাস করেন। পাশাপাশি ওই কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন। তার বোন জেসি আক্তারও কলেজছাত্রী। তিনিও সেখানে পড়ান।

এ সময় কথা হয় জিসানের ছোট বোন ওই কোচিং সেন্টারের শিক্ষিকা জেসি আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারটি ২০২২ সালের এসএসসির শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনায় বেড়াতে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে রাকিব, সজিব, রিদোয়ান ও জিসান নামের চার শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া প্রতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ উচ্চমাধ্যমিকের কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিল।

কেএস নজু মিয়া হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী মুসহাব আহমেদ হিসামের কানাডা যাওয়া হলো না। শুক্রবার সেও উক্ত দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। হিসামের মা কানাডায় অবস্থান করাই তাকে দেখভাল করছিল তার চাচারা। হিসাম খন্দকী এলাকার বজল আহমেদ কনটাকটার বাড়ীর মৃত মোজাফফর আহমেদ এর পুত্র।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ছুটে যান হিসামের চাচা মো. মানিক। তিনি চমেক হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনে জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর তার কানাডা চলে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার জন্য সকল রকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা না পেছালে সে এতদিনে কানাডায় তার মায়ের কাছে থাকতো।

এদিকে মিরসরাই এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১৬ আরোহীর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাটহাজারীর খন্দকিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবারের সদস্য, তাদের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকায় আবাল বৃদ্ধ বনিতার আহাজারিতে খন্দকিয়া গ্রামের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাসান জামান বাচ্চু বলেন, মিরসরাই উপজেলার পর্যটন স্পট খৈয়াছড়া ঝরনা দেখে পথে ট্রেনের ধাক্কায় আমার এলাকার ১১ জন নিহত হয়েছে। করতে আমি দ্রুত চমেক হাসপাতালে ছুটে আসি। এদের মধ্যে ৫-৬ জনকে জরুরি বিভাগে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুত্ব।

তাদের জীবন গড়ার স্বপ্ন ভাঙল রেলপথে

 মো. আবু তালেব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) 
৩০ জুলাই ২০২২, ০৫:৩২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জীবন গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন ১১ তরুণ-যুবক। তাদের কেউ এসএসসি পরীক্ষার্থী, কেউ শিক্ষক। কেউ দরিদ্র পিতার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরতে পড়াশুনার পাশাপাশি করতেন শিক্ষকতা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আনন্দ যাত্রায় তাদের তাদের জীবন গড়ার সব স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেল রেলপথে।

তাদের একজন জিয়াউল হক সজীব; বয়স ২২ বছর। চট্টগ্রামের ওমরগণি এমইএস কলেজে গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার হতদরিদ্র পিতা অন্যের দোকানে মাসিক বেতন চাকরি করে কোনো রকমে তাদের ছয় সদস্যের পরিবারটাকে চালিয়ে নিচ্ছিলেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরতে পড়াশুনার পাশাপাশি এলাকার বন্ধুদের নিয়ে চালু করেছিলেন আর এন্ড জে কোচিং সেন্টার। এভাবে পিতার অল্প আয় ও তার কোচিং সেন্টার থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে চলছিল তাদের কষ্টের সংসার।

শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া রেলস্টেশনের এক কিলোমিটার এলাকায় ট্রেন ধাক্কায় মাইক্রোবাসের থাকা সজীব ঘটনাস্থলে মারা যান। আর এন্ড জে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক সজীব চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের আমানবাজার পূর্ব পাশে খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাট এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুল হাকিম মিয়াজি বাড়ির মো. আব্দুল হামিদের পুত্র।

শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহাজারি করছিলেন সজীবের বাবা মো. আব্দুল হামিদ। তার পাশে বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন সজীবের ছোট ভাই তৌসিফ। সজীবের বাবা বলছিলেন, টাকা ধার করে বন্ধুদের নিয়ে ‘আর অ্যান্ড জে প্রাইভেট কেয়ার’ নামের কোচিং সেন্টার দিয়েছিল সজীব। লেখাপড়ার পাশাপাশি সেই কোচিংয়েই ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন বুনছিল। তার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল রেলপথে।

সজীবের মা বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, সকাল ৭টায় তার ছেলে মিরসরাইয়ে ঝরনা দেখতে কোচিং সেন্টারের সবার সঙ্গে যান। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তাকে সুন্দর লাগছে কি না। পরনে প্যান্ট, গেঞ্জি ও কেডস ছিল জিয়াউলের। মা বলেছিলেন, অনেক সুন্দর লাগছে। এসব কথা বলতে না–বলতে আবার নিজের বুক চাপড়াতে থাকেন শাহনাজ আক্তার।

তিনি বলছিলেন, ‘আমার মাস্টার সজীব কই? মাস্টার সজীব কই?’ উপস্থিত স্বজনদের কারও মুখে উত্তর নেই। সবার চোখ থেকে ঝরছে পানি।

ওই দুর্ঘটনায় আরও ১০ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে উপজেলার মধ্যম মাদার্শা এলাকার মাদারিপুল এলাকায় আব্দুল মাবুদ এর পুত্র ইকবাল হোসেন মারুফ (১৭) নিহত হয়েছেন। যদিও মারুফ আর মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন তার নানার বাড়ি উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাট এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াদুদ মাস্টার বাড়িতে। বিগত ১০-১২ বছর আগে মারুফ পিতা আরেকটি বিয়ে করাই তার মাকে তাদের ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। বহু কষ্টে দুই পুত্র ও এক কন্যাকে নিয়ে মারুফের মা কামরুন নাহার করছিল। 

নিহত মারুফ পার্শ্ববর্তী শিকারপুর ইউনিয়নের কেএস নজু মিয়া হাই স্কুল থেকে চলতি বছরে ব্যবসায়ী শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম জানান, নিহতের বেশির ভাগই তার স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র। এতগুলো মেধাবী ছেলেকে একসঙ্গে হারানোর শোক কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন, তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, আমি শুনেছি আজ সকালে যুগিরহাট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারের এর চার শিক্ষকসহ ১০-১২ জন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিরসরাই উপজেলার পর্যটন স্পট খৈয়াছড়া ঝরনা দেখতে গিয়েছিল।
ঝরনা থেকে গোসল করে ফেরার পথে নাকি তারা ওই উপজেলার বড়তাকিয়া রেলস্টেশনের এক কিলোমিটার এলাকায় ট্রেন ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা চার শিক্ষকসহ আমার কয়েকজন ছাত্র নিহত হয়েছে। 

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কোচিং সেন্টারের নিহত আরেক শিক্ষক বন্ধকীয়া গ্রামের মেম্বর বাড়ির জানে আলমের পুত্র ওয়াহিদুল আলম জিসানের বাড়িতে গেলে দেখা যায় তার পরিবার ও বিলাপ চলছে। ওয়াহিদুল চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক সম্মান পাস করেন। পাশাপাশি ওই কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন। তার বোন জেসি আক্তারও কলেজছাত্রী। তিনিও সেখানে পড়ান।

এ সময় কথা হয় জিসানের ছোট বোন ওই কোচিং সেন্টারের শিক্ষিকা জেসি আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারটি ২০২২ সালের এসএসসির শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনায় বেড়াতে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে রাকিব, সজিব, রিদোয়ান ও জিসান নামের চার শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া প্রতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ উচ্চমাধ্যমিকের কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিল।

কেএস নজু মিয়া হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী মুসহাব আহমেদ হিসামের কানাডা যাওয়া হলো না। শুক্রবার সেও উক্ত দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। হিসামের মা কানাডায় অবস্থান করাই তাকে দেখভাল করছিল তার চাচারা। হিসাম খন্দকী এলাকার বজল আহমেদ কনটাকটার বাড়ীর মৃত মোজাফফর আহমেদ এর পুত্র।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ছুটে যান হিসামের চাচা মো. মানিক। তিনি চমেক হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনে জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর তার কানাডা চলে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার জন্য সকল রকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা না পেছালে সে এতদিনে কানাডায় তার মায়ের কাছে থাকতো।

এদিকে মিরসরাই এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১৬ আরোহীর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাটহাজারীর খন্দকিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবারের সদস্য, তাদের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকায় আবাল বৃদ্ধ বনিতার আহাজারিতে খন্দকিয়া গ্রামের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। 

চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাসান জামান বাচ্চু বলেন, মিরসরাই উপজেলার পর্যটন স্পট খৈয়াছড়া ঝরনা দেখে পথে ট্রেনের ধাক্কায় আমার এলাকার ১১ জন নিহত হয়েছে। করতে আমি দ্রুত চমেক হাসপাতালে ছুটে আসি। এদের মধ্যে ৫-৬ জনকে জরুরি বিভাগে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুত্ব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর