কন্যা শিশুদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান
jugantor
কন্যা শিশুদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:১৩:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে কন্যাশিশুদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে ‘জানুয়ারি-আগস্ট-২০২২ কন্যাশিশু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন’ উপস্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বক্তারা।

এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ২৪টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং অনলাইন পত্রিকার সংবাদ বিশ্লেষণ করে কন্যাশিশু ও নারী নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন সংগঠনের সম্পাদক নাছিমা আক্তার ডলি।

অনু্ষ্ঠানে জানানো হয় কন্যাা শিশু ও নারীরা পথে ঘাটে, গণপরিবহনে, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমনকি বাড়িতে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চলতি বছরের প্রথম আটমাসে ৭৬ জন কন্যাা শিশু যৌন হয়ারানি ও নির্যাতেনের শিকার হয়েছেন।

মাঠ পর্যায়ে কন্যা৬ শিশুদের সঙ্গে ফোকাস গ্রুপে আলোচনা করে জানা গেছে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন এবং মাসে ৯০০ থেকে এক হাজার কন্যাে শিশু সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

যাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন গনমাধম্যের তথ্যামতে চলতি বছরের প্রথম আটমাসে ১৫ জন শিশু পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন।

এছাড়া অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ৩ জন কন্যা শিশু, অপহরণ ও মানব পাচারের শিকার হয়েছেন ১৩৬ জন, যাদের মধ্যে ৭৪ জনকে জোরপূর্বক যৌনপেশায় নিয়োজিত করা হয়েছে। গত আট মাসে ২৮টি জেলারর বিভিন্ন উপজেলায় ২ হাজার ৩০১ জন শিশুর বাল্য বিবাহ হয়েছে। এই সংখ্যাগড়ে ২৮৮ জন। এছাড়া গত আট মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩ জন কন্যাছ শিশু, যাদের মধ্যে ৫ জনকে হত্যাে করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ মানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাই কন্যাশিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের ভবিষ্যৎও অন্ধকার।

তিনি আরও বলেন, পরিবারে একটি কন্যাশিশু যখন জন্ম নেয়, তখন থেকেই তার প্রতি বৈষম্য শুরু হয়। এর অবসান ঘটাতে হলে পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

বাংলাদেশ ওয়াইডব্লিউসিএর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনিষা সরকার বলেন, শুধু আইন করে এ ধরনের নির্যাতন প্রতিকার করা যাবে না। এর জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি নৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। নৈতিকতার জায়গায় নাড়া দিতে পারলেই এই অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।

এডুকো বাংলাদেশের চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কন্যাশিশু ও নারীদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তাতে প্রায় শতভাগ নির্যাতনকারীই হলো পুরুষ। তাই এ ক্ষেত্রে পুরুষের মানসিকতায় উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ ধরনের নির্যাতন বন্ধে প্রান্তিক পর্যায়ের তথ্য তুলে আনতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

কন্যা শিশুদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে কন্যাশিশুদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।  শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে ‘জানুয়ারি-আগস্ট-২০২২ কন্যাশিশু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন’ উপস্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বক্তারা।

এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।  এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ২৪টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং অনলাইন পত্রিকার সংবাদ বিশ্লেষণ করে কন্যাশিশু ও নারী নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন সংগঠনের সম্পাদক নাছিমা আক্তার ডলি।

অনু্ষ্ঠানে জানানো হয় কন্যাা শিশু ও নারীরা পথে ঘাটে, গণপরিবহনে, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমনকি বাড়িতে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।  চলতি বছরের প্রথম আটমাসে ৭৬ জন কন্যাা শিশু যৌন হয়ারানি ও নির্যাতেনের শিকার হয়েছেন।  

মাঠ পর্যায়ে কন্যা৬ শিশুদের সঙ্গে ফোকাস গ্রুপে আলোচনা করে জানা গেছে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন এবং মাসে  ৯০০ থেকে এক হাজার কন্যাে শিশু সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

যাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন গনমাধম্যের তথ্যামতে চলতি বছরের প্রথম আটমাসে ১৫ জন শিশু পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন।

এছাড়া অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ৩ জন কন্যা  শিশু, অপহরণ ও মানব পাচারের শিকার হয়েছেন ১৩৬ জন, যাদের মধ্যে ৭৪ জনকে জোরপূর্বক যৌনপেশায় নিয়োজিত করা হয়েছে।  গত আট মাসে ২৮টি জেলারর বিভিন্ন উপজেলায় ২ হাজার ৩০১ জন শিশুর বাল্য বিবাহ হয়েছে। এই সংখ্যা গড়ে ২৮৮ জন। এছাড়া গত আট মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩ জন কন্যাছ শিশু, যাদের মধ্যে ৫ জনকে হত্যাে করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ মানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাই কন্যাশিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের ভবিষ্যৎও অন্ধকার।

তিনি আরও বলেন, পরিবারে একটি কন্যাশিশু যখন জন্ম নেয়, তখন থেকেই তার প্রতি বৈষম্য শুরু হয়।  এর অবসান ঘটাতে হলে পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

বাংলাদেশ ওয়াইডব্লিউসিএর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনিষা সরকার বলেন, শুধু আইন করে এ ধরনের নির্যাতন প্রতিকার করা যাবে না। এর জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি নৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। নৈতিকতার জায়গায় নাড়া দিতে পারলেই এই অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।

এডুকো বাংলাদেশের চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কন্যাশিশু ও নারীদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তাতে প্রায় শতভাগ নির্যাতনকারীই হলো পুরুষ। তাই এ ক্ষেত্রে পুরুষের মানসিকতায় উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ ধরনের নির্যাতন বন্ধে প্রান্তিক পর্যায়ের তথ্য তুলে আনতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন