জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় বাংলাদেশের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান
jugantor
জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় বাংলাদেশের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৭ অক্টোবর ২০২২, ০১:১২:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ একটি দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যায় আগামীতে দেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুতি হবে। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় (কপ সম্মেলন) বাংলাদেশের ভূমিকা যথেষ্ট দূর্বল। কপে বাংলাদেশ যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না।

বৃহস্পতিবার মাহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আসন্ন ২৭তম কপ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) এবং কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেমিনারের আয়োজন করে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ‘আমাদের জলবায়ু পরিস্থিতি নেগোশিয়েটর তথা আলাপ-আলোচনাকারীর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। আমরা এতবছরেও একটি দক্ষ নেগোশিয়েটর গ্রপ দাঁড় করাতে পারিনি। এ বিষয়ে সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর জলবায়ু সমঝোতা সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশের চমৎকার একটি প্যাভিলিয়ন থাকে। কিন্তু দেখা যায় প্যাভিলিয়নটি দিনের বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে। আমরা যদি সেই প্যাভিলিয়নটি সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারতাম, তাহলে বিশ্ব নেতাদের কাছে বাংলাদেশের সমস্যা ও সংকটগুলোকে আরও বেশি দৃষ্টিগোচর করানো যেত।’

তিনি আরও বলেন, কপ সম্মেলনটি ৯-১০ দিনব্যাপী হলেও প্রথম দুই-তিন দিন পরেই আমাদের সম্মেলন শেষ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী দেশে চলে আসলে সব তৎপরতায় ভাটা পড়ে যায়। অথচ জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের সামনে হাজারো সমস্যা নিয়ে হাজির হয়েছে। সরকারের উচিত সমস্যগুলোকে হাজারও কণ্ঠে হাজারভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করা। জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় বৈশ্বিকভাবে সমস্যা এবং সংকটগুলো তুলে ধরতে আমাদের কোন কর্মকৌশল নেই। এজন্য রাজনৈতিক কমিটমেন্ট জরুরি।

স্বাগত বক্তব্যে সিপিআরডি’র নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার করণীয় নির্ধারণে বৈশ্বিক সমঝোতা আলোচনা বা কপ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

সম্মেলনের টেকনিক্যাল সেশনগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিজ্ঞান, অভিঘাত, পলিসি, পলিটিক্স, বৈশ্বিক সমঝোতা সংলাপ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি, মানবাধিকার লংঘন, বাস্তুচ্যুতি, আসন্ন কপ-২৭ এর প্রধান ইস্যু এবং ক্ষতিগ্রস্থ কমিউনিটির প্রত্যাশাসহ নানা বিষয় উঠে আসে।

বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, সম্মেলনে বৈশ্বিক নাগরিক সমাজ ও পরিবেশ সচেতন মানুষের পরামর্শ ও গবেষণা ফলাফল তুলে ধরা হয়। কার্বন উদগিরণ হ্রাসকরণে রাষ্ট্রসমূহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে চাপ দেওয়া হয়। এবারের সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ এবং অঞ্চল সমূহের ক্ষতিপূরণ প্রদানের একটি আনুষ্ঠানিক মেকানিজম প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের মত অতিমাত্রায় বিপদাপন্ন রাষ্ট্রসমূহের জন্য কপ-২৭ অনেক বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে। সুযোগগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের তথ্য তুলে ধরতে হবে। এজন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ওয়াটার এইডে’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, ডিয়াকোনিয়া’র কান্ট্রি ডিরেক্টর খোদেজা সুলতানা লোপা।

টেকনিক্যাল সেশনগুলো পরিচালনা করেন ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের প্রধান ড. গোলাম রাব্বানি, পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহম্মেদ, সিপিআরডি’র নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা প্রমুখ।

জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় বাংলাদেশের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৭ অক্টোবর ২০২২, ০১:১২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ একটি দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যায় আগামীতে দেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুতি হবে। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় (কপ সম্মেলন) বাংলাদেশের ভূমিকা যথেষ্ট দূর্বল। কপে বাংলাদেশ যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না।

বৃহস্পতিবার মাহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আসন্ন ২৭তম কপ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। 

সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) এবং কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেমিনারের আয়োজন করে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ‘আমাদের জলবায়ু পরিস্থিতি নেগোশিয়েটর তথা আলাপ-আলোচনাকারীর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। আমরা এতবছরেও একটি দক্ষ নেগোশিয়েটর গ্রপ দাঁড় করাতে পারিনি। এ বিষয়ে সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর জলবায়ু সমঝোতা সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশের চমৎকার একটি প্যাভিলিয়ন থাকে। কিন্তু দেখা যায় প্যাভিলিয়নটি দিনের বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে। আমরা যদি সেই প্যাভিলিয়নটি সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারতাম, তাহলে বিশ্ব নেতাদের কাছে বাংলাদেশের সমস্যা ও সংকটগুলোকে আরও বেশি দৃষ্টিগোচর করানো যেত।’

তিনি আরও বলেন, কপ সম্মেলনটি ৯-১০ দিনব্যাপী হলেও প্রথম দুই-তিন দিন পরেই আমাদের সম্মেলন শেষ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী দেশে চলে আসলে সব তৎপরতায় ভাটা পড়ে যায়। অথচ জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের সামনে হাজারো সমস্যা নিয়ে হাজির হয়েছে। সরকারের উচিত সমস্যগুলোকে হাজারও কণ্ঠে হাজারভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করা। জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় বৈশ্বিকভাবে সমস্যা এবং সংকটগুলো তুলে ধরতে আমাদের কোন কর্মকৌশল নেই। এজন্য রাজনৈতিক কমিটমেন্ট জরুরি।

স্বাগত বক্তব্যে সিপিআরডি’র নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার করণীয় নির্ধারণে বৈশ্বিক সমঝোতা আলোচনা বা কপ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। 

সম্মেলনের টেকনিক্যাল সেশনগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিজ্ঞান, অভিঘাত, পলিসি, পলিটিক্স, বৈশ্বিক সমঝোতা সংলাপ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি, মানবাধিকার লংঘন, বাস্তুচ্যুতি, আসন্ন কপ-২৭ এর প্রধান ইস্যু এবং ক্ষতিগ্রস্থ কমিউনিটির প্রত্যাশাসহ নানা বিষয় উঠে আসে।

বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, সম্মেলনে বৈশ্বিক নাগরিক সমাজ ও পরিবেশ সচেতন মানুষের পরামর্শ ও গবেষণা ফলাফল তুলে ধরা হয়। কার্বন উদগিরণ হ্রাসকরণে রাষ্ট্রসমূহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে চাপ দেওয়া হয়। এবারের সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ এবং অঞ্চল সমূহের ক্ষতিপূরণ প্রদানের একটি আনুষ্ঠানিক মেকানিজম প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের মত অতিমাত্রায় বিপদাপন্ন রাষ্ট্রসমূহের জন্য কপ-২৭ অনেক বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে। সুযোগগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের তথ্য তুলে ধরতে হবে। এজন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ওয়াটার এইডে’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, ডিয়াকোনিয়া’র কান্ট্রি ডিরেক্টর খোদেজা সুলতানা লোপা। 

টেকনিক্যাল সেশনগুলো পরিচালনা করেন ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের প্রধান ড. গোলাম রাব্বানি, পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহম্মেদ, সিপিআরডি’র নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন