৯০ শতাংশ মানুষ এখন সরকারের বিরুদ্ধে: অলি
jugantor
৯০ শতাংশ মানুষ এখন সরকারের বিরুদ্ধে: অলি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ নভেম্বর ২০২২, ২২:৩২:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বলেছেন, ছয় মাস আগেও ধৈর্য ধরে এবং ভয়ে মানুষ চুপচাপ ঘরে বসে ছিল। কিন্তু গত দুই মাসে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অমানবিক কষ্ট সহ্য করে, ভয়কে জয় করে, নিজের পয়সা খরচ করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষ বিএনপির গণসমাবেশগুলোয় যোগ দিচ্ছে। এটা অকল্পনীয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এফডিসি সংলগ্ন এলডিপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামূল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, অ্যাডভোকেট এসএম মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির পাঠান প্রমুখ।

অলি আহমদ বলেন, বিরোধী দলগুলো গণতান্ত্রিক পন্থায়ও সরকারের অনুমতি ছাড়া জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে না। অথচ আওয়ামী লীগ পুলিশি পাহারায় যখন ইচ্ছা যত্রতত্র জনসভা ও সমাবেশ করছে। সরকার বিভিন্ন উপায়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে, পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে দলীয় অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করে বিরোধীদলীয় কর্মকাণ্ডকে বানচাল করার চেষ্টায় লিপ্ত।

তিনি অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলায় বিএনপির ৭-৮ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকশ নতুন মিথ্যা মামলা দিয়েছে। হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে হয়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।
এলডিপি প্রেসিডেন্ট বলেন, পুলিশের নির্যাতনের কারণে অনেকে নিজ গৃহে ঘুমাতে পারে না। কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ এবং তাদের নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য অবৈধ সরকারকে অবৈধ কর্মকাণ্ডে নগ্নভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। সরাসরি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’

তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, খুব দ্রুত অর্থনৈতিক ধ্বংস এবং সংঘাতের দিকে জাতি এগিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে। তাদের পক্ষে বর্তমান অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং অন্যদিকে রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হবে কি না জানি না।

অলি আহমদ বলেন, দুর্নীতি এবং টাকা পাচারের কারণে সমাজের অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং রিজার্ভ দ্রুত কমে যাচ্ছে। দেশ-বিদেশের কেউ এই সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। সুতরাং কোনো অবস্থায়ই বর্তমান সরকারের পক্ষে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, সীমাহীন অদক্ষতা, লাগামহীন দুর্নীতি, জবাবদিহি ও সুশাসনের অভাব, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সর্বত্র দলীয়করণ, বিচারহীনতা, একদলীয় শাসন, খুন-গুমসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের খড়্গ নামিয়েছে বর্তমান নিশিরাতের বিনা ভোটের সরকার। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে এবং নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি এবং সর্বোপরি বেকার সমস্যার কারণে সরকার ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে।

৯০ শতাংশ মানুষ এখন সরকারের বিরুদ্ধে: অলি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
অলি
ছবি-যুগান্তর

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বলেছেন, ছয় মাস আগেও ধৈর্য ধরে এবং ভয়ে মানুষ চুপচাপ ঘরে বসে ছিল। কিন্তু গত দুই মাসে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অমানবিক কষ্ট সহ্য করে, ভয়কে জয় করে, নিজের পয়সা খরচ করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষ বিএনপির গণসমাবেশগুলোয় যোগ দিচ্ছে। এটা অকল্পনীয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এফডিসি সংলগ্ন এলডিপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামূল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, অ্যাডভোকেট এসএম মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির পাঠান প্রমুখ। 

অলি আহমদ বলেন, বিরোধী দলগুলো গণতান্ত্রিক পন্থায়ও সরকারের অনুমতি ছাড়া জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে না। অথচ আওয়ামী লীগ পুলিশি পাহারায় যখন ইচ্ছা যত্রতত্র জনসভা ও সমাবেশ করছে। সরকার বিভিন্ন উপায়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে, পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে দলীয় অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করে বিরোধীদলীয় কর্মকাণ্ডকে বানচাল করার চেষ্টায় লিপ্ত।

তিনি অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলায় বিএনপির ৭-৮ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকশ নতুন মিথ্যা মামলা দিয়েছে। হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে হয়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।
এলডিপি প্রেসিডেন্ট বলেন, পুলিশের নির্যাতনের কারণে অনেকে নিজ গৃহে ঘুমাতে পারে না। কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ এবং তাদের নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য অবৈধ সরকারকে অবৈধ কর্মকাণ্ডে নগ্নভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। সরাসরি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’

তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, খুব দ্রুত অর্থনৈতিক ধ্বংস এবং সংঘাতের দিকে জাতি এগিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে। তাদের পক্ষে বর্তমান অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং অন্যদিকে রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হবে কি না জানি না।

অলি আহমদ বলেন, দুর্নীতি এবং টাকা পাচারের কারণে সমাজের অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং রিজার্ভ দ্রুত কমে যাচ্ছে। দেশ-বিদেশের কেউ এই সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। সুতরাং কোনো অবস্থায়ই বর্তমান সরকারের পক্ষে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে না। 

তিনি আরও বলেন, সীমাহীন অদক্ষতা, লাগামহীন দুর্নীতি, জবাবদিহি ও সুশাসনের অভাব, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সর্বত্র দলীয়করণ, বিচারহীনতা, একদলীয় শাসন, খুন-গুমসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের খড়্গ নামিয়েছে বর্তমান নিশিরাতের বিনা ভোটের সরকার। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে এবং নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি এবং সর্বোপরি বেকার সমস্যার কারণে সরকার ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন