বাজেট আলোচনায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

বাজেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো সুখবর নেই

  সংসদ রিপোর্টার ২৪ জুন ২০১৮, ২২:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

সাবেক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় বড় ভিশন-মিশন থাকলেও সবচেয়ে যেটি প্রয়োজন ছিল সেই বিনিয়োগের জন্য তেমন কোনো সুখবর নেই।আমি আরও আশাহত হয়েছি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা না পেয়ে। বিগত নয় বছরে শিল্পে গ্যাস সংযোগের অনুপস্থিতি অর্থনীতিকে চরমভাবে ভুগিয়েছে। আমি নিজে একজন শিল্পপতির সহধর্মিণী হওয়ায় আমার চেয়ে এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী আর কে হতে পারে।

তিনি বলেন, ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার কথা বলতে বলতে বিনিয়োগকারীরা রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছেন। যদিও আশার কথা, একেবারে শেষ সময়ে এসে নির্বাচনের ছয় মাস বাকি থাকতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। কিন্তু এ উদ্যোগ যদি সময় থাকতে, অন্তত আরও ৪-৫ বছর আগে নেয়া যেত তাহলে বিনিয়োগে কিছুটা গতি আসত। অনেকে প্রস্তুতি প্রকল্প দাঁড় করাতে পারতেন। দেশ এগিয়ে যেত। কর্মসংস্থান বাড়ত। কিন্তু তা হয়নি।

শনিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক ডাকাত’ কথাটি এখন একটা প্রচলিত শব্দে পরিণত হয়ে গেছে। শব্দ দুটি এখন আর কারও কাছে অপরিচিত নয়। আবার কারও কাছে গা-সওয়া মনে হতে পারে। কিন্তু কেন? এমন ব্যাংকিং সেক্টর তো আমরা কেউই চাইনি। সংসদের বাইরে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা ছাড়াও সংসদের ভেতরেও আমার বেশ কয়েক সহকর্মী ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তথ্যভিত্তিক জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। এজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ সত্য কথা সবাই সাহস করে বলতে পারেন না। যাই হোক, যেটি বলছিলাম এর প্রতিকার তো আমরা চাইতে পারি। কারা ঋণখেলাপি, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে দিচ্ছেন না কারা? ওদিকে ঋণ অবলোপন করেই যাচ্ছেন। আবার ঋণখেলাপির তালিকায় যাতে নাম না ওঠে সেজন্য অবলোপন কিংবা মামলা করে স্টে নেয়ার ব্যবস্থা করছেন। ইচ্ছামতো টাকা পাচার করছেন, কোনো মূলধনী যন্ত্রপাতি না এনে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছেন।

সালমা ইসলাম বলেন, পত্রিকায় খবর এসেছে, এ বছর নাকি সবচেয়ে বেশি টাকা এভাবে চলে গেছে। কিছুদিন আগে জানা গেল, ব্যাংকগুলোতে কোনো টাকাই নেই, চরম মাত্রায় তারল্য সংকট। ঋণ দেয়া তো দূরের কথা, কোনো কোনো ব্যাংক তাদের আমানতকারীর ৫-১০ লাখ টাকার চেক রিলিজ করতেও হিমশিম খাচ্ছিল। কী ভয়াবহ চিত্র! এটি ভাবা যায়? তা সত্ত্বেও ব্যাংক ডাকাতদের শাস্তির পরিবর্তে এবারের বাজেটে নানাভাবে প্রটেকশন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তিনি বলেন, প্রশ্ন হল, এরা কারা? এদের হাত কি সরকারের চেয়েও লম্বা? এরা কি অস্পর্শ? আমরা এত কিছু করতে পারছি, মাদক নির্মূলে শেষ পর্যন্ত ক্রসফায়ারের পথ বেছে নেয়া হল, কিন্তু ব্যাংক ডাকাতদের ন্যূনতম শাস্তি দিতে পারছি না কেন? কোথায় দুর্বলতা? নির্বাচনের বছরে মানুষ এখন এসব প্রশ্নের উত্তরই পেতে চায়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইতিমধ্যে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতিতে এ বিষয়টি সামনে এনেছেন। ব্যাংক ডাকাতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। এ অবস্থায় আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ব্যাংক ডাকাতদের চিহ্নিত করে জাতির সামনে হাজির করুন। কারা তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে একদিন না একদিন এদের বিচার জনগণের আদালতে হবে। আর যদি সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হয় সেটি কারও জন্য সুখকর হবে না।

বাজেট সম্পর্কে বলতে গিয়ে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, সরকারের ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করব, তেমনি আমার দল ও আমার বিবেচনায় যেসব কাজে সরকারের সফলতা আসেনি কিংবা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, দেশ ও দেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে অবশ্যই গঠনমূলক সমালোচনা করব। একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব। তাছাড়া এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।তিনি বলেন, প্রতিবছর বাজেটের আগে ও পরে অর্থনীতিবিদ কিংবা এ বিষয়ে পণ্ডিত ব্যক্তিরা নানাভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। আমি অবশ্য বাজেটকে সাদামাটা অঙ্কে ফেলে হিসাব মেলাতে চাই না। কারণ, রাষ্ট্রের জন্য শুধু বছরভিত্তিক একটি বাজেট প্রণয়ন করতে হয়, তা কিন্তু নয়। সংসার পরিচালনাসহ সব কাজের ক্ষেত্রে একটা বাজেট থাকে। আর বাজেটের সঙ্গে অর্থ এবং অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাষ্ট্রীয় বাজেটের ক্ষেত্রে জড়িত থাকে রাজনীতি। তাই এ বাজেট প্রণয়ন যথাযথ না হলে সংসার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিছুতেই কাক্সিক্ষত লক্ষ অর্জিত হবে না।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, সবার আগে দেশ। আমরা দেশের মর্যাদা সুরক্ষা ও প্রত্যাশিত অগ্রগতি নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বিগ্ন। যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তাদের অনেকে এখন বেঁচে আছেন। যুদ্ধে জয়ের মতো জীবন সংগ্রামে কঠিন লড়াই ও পরিশ্রম করে কেউ কেউ শিল্পপতি হয়েছেন। হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান করেছেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন। ব্যাংকের টাকা মারা তো দূরের কথা, ঋণখেলাপির কালিমা তাদের স্পর্শ করেনি। বিদেশে একটি টাকাও নিয়ে যাননি। শত শত ব্যাংক ডাকাতের ভিড়ে এমন দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ী শিল্পপতিও আমাদের দেশে আছেন। নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও এখনও তারা একের পর এক শিল্প গড়ে যাচ্ছেন। আমরা তাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ দেখতে চাই। যাতে আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আরও স্বনির্ভর হয়ে দেশকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পারে।

জাতীয় পার্টির এই নেত্রী বলেন, কিন্তু নানা ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট আমাদের দুর্ভাবনায় ফেলে দেয়। বিশেষ করে আর্থিক সেক্টরগুলো নাজুক হয়ে পড়ায় সবার মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। হয়তো অনেকে যা ভাবছেন তা নির্দ্বিধায় বলতে পারছেন না। এটিই বাস্তবতা। কিন্তু সাহস করে বলতেই হবে।

তিনি বলেন, আমি শুরুতেই বলেছি, সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। কিন্তু এক শ্রেণীর দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীর কারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে এগোতে পারছেন না। যার মধ্যে অন্যতম হল ব্যাংকসহ সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাত। যার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্পোন্নয়ন জড়িত। ষড়যন্ত্রকারীদের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, শিল্প বিপ্লব তো দূরের কথা, এ দেশ যাতে শিল্পে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। সে জন্য তাদের প্রথম কালো থাবা পড়ে আমাদের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাসের ওপর। নানা অন্তরায় সৃষ্টি করে এ চক্রটি শিল্পে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করা থেকে সরকারকে বিরত রাখে। এরপর যেভাবে সংযোগ দেয়ার পথ খোলা রাখা হয় সেটি হয়ে ওঠে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বড় আখড়া। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে সংশ্লিষ্ট উপদেশদাতারা নিজেরা লাভবান হয়েছেন বটে, কিন্তু বিপরীতে শিল্পকে ধ্বংস করাসহ শেখ হাসিনার সরকারকে ঠাণ্ডা মাথায় চরম ক্ষতি করে ফেলেছেন। মাটির নিচে প্রচুর গ্যাসসম্পদ থাকতেও আমরা তা যথাসময়ে যথাপরিমাণ যেমন তুলতেও পারছি না, তেমনি পদে পদে বাধা আর নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ এখন একটা বড় বাহানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সংযোগ অনুমোদন পেয়েও অনেকে বাস্তবে গ্যাসের দেখা পাননি। ঘুরছেন মাসের পর মাস। কারও বছর শেষ। নিজ খরচে লাইন নির্মাণের অনুমতিও মিলছে না। কারণ, বিশেষ কমিটির বিশেষ সভার দেখা পাওয়াই কঠিন। এই ডিজিটাল যুগে এসে এটি ভাবা যায়?

তিনি বলেন, আমরা একদিকে বলছি, উন্নয়ন আর উন্নয়ন। হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পও নেয়া হচ্ছে। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবকিছু পেছন দিকে টেনে ধরার এমন নেতিবাচক ক্রিয়াকলাপ নিয়ে কেউ কথা বলছেন না। অথচ আমরা এর মধ্যে মহাকাশ জয় করে ফেলেছি। এর আগে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে সমুদ্র জয় করলাম। কিন্তু কী পেলাম? মিয়ানমার একের পর এক সমুদ্রে গ্যাসকূপ অনুসন্ধান ও উত্তোলন করেই যাচ্ছে, আর আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে আছি।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি বলছি না যে দেশ মোটেই এগোয়নি। অবশ্যই আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। কোটি কোটি হাত ও বহু সফল মানুষের মেধা ও শ্রম দিনরাত কাজ করছে। পরিবার-পরিজন ফেলে বিদেশে আমাদের অনেক ভাইবোন কঠোর পরিশ্রম করে দেশে বিপুল অঙ্কের রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। দেশ এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বিরাট নিয়ামক। প্রশ্ন হল, আমরা যথাযথ নীতি সহায়তা কিংবা পলিসি দিয়ে দেশকে কতখানি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। সবাই এক বাক্যে স্বীকার করছি, দেশের অগ্রযাত্রার মূল চাবিকাঠি হল বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সব দরজা খুলে দেয়া। সে ক্ষেত্রে আমরা সব দরজা খুলে দিয়েছি, না দরজা বন্ধের পাশাপাশি জানালাও বন্ধ করে দিচ্ছি? খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সরকারি বিভিন্ন দফতরের চরম অসযোগিতার কারণে বহু শিল্পমালিক তাদের শিল্প দাঁড় করাতে কিভাবে বছরের পর বছর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কিভাবে তাদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। এসব খবরের পেছনের খবর।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, আমি মনে করি, এসব খবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হয় পৌঁছায়ই না, না হয় যাতে না পৌঁছায় তার জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ষড়যন্ত্রকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। যাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু দুর্নীতিপরায়ণ, নেতিবাচক মানসিকতার প্রতিহিংসাপরায়ণ আমলা। যে কারণে এদের সহযোগিতায় ষড়যন্ত্রকারীরা বাহাবা নিতে প্রধানমন্ত্রীর সামনে কাগুজে বিনিয়োগের ফিরিস্তি হাজির করেন। যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং বিনিয়োগের জন্য কাগজপত্রে যে বিপুল অংকের মূলধনী যন্ত্রপাতি আনার এলসি খোলার তথ্য দেয়া হচ্ছে তার বেশিরভাগ ভুয়া তথ্য। অর্থাৎ বিনিয়োগ করার জন্য নেয়া অনুমোদনপত্র বাস্তবে নয়। এ তথ্যকেই বিনিয়োগের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখানো হচ্ছে। উপরন্তু, মূলধনী যন্ত্রপাতি আনতে যেসব এলসি খোলা হচ্ছে তার বিপরীতে বাস্তবে তা দেশে আসছে না। এর বড় অংশের অর্থ সরাসরি বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। তাই জোর দাবি জানাচ্ছি, অন্তত এ একটি বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি করে তদন্ত করুন।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের নামে কারা কত টাকার এলসি খুলেছেন এবং ওইসব এলসির বিপরীতে যথাযথভাবে বাস্তবে সেসব যন্ত্রপাতি দেশে আনা হয়েছে কিনা। বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস ও স্থানীয় এজেন্টের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে। যা বের করা কঠিন কিছু নয়। অর্থ পাচারের নতুন এ পদ্ধতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা আগে কোনো কথা না বললেও তারাও এখন বিষয়টি সামনে আনছেন। কারণ, তারা গবেষণা করে কাগুজে বিনিয়োগের কুলকিনারা করতে পারছেন না।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করেছে। যে কারণে আজ আমাদের অনেক কিছু মেনে নিয়ে চলতে হচ্ছে। তবু প্রত্যাশা করব, এ ঘেরাটোপ থেকে আমরা যেন সহসা মুক্ত হতে পারি। প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনাসহ প্রত্যাশা করছি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন যেন বৃথা না যায়। আমাদের সোনার বাংলা সোনার মানুষে ভরে যাক। আর এখনও যারা দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে ষড়যন্ত্র করছে তারা নিপাত যাক। চিরতরে বন্ধ হোক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দরজা।

নিজ নির্বাচনী এলাকা দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা এবং এসব সমস্যা সমাধানে জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। তিনি বলেন, আমার অন্যতম একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা। গত কয়েক বছর ধরে আমি এ দাবিটি জোরালোভাবে জানিয়ে আসছি। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, রাজধানীর পাশের সংসদীয় আসন হলেও আমার এলাকার লোকজন প্রাপ্য এ অধিকার থেকে আজও বঞ্চিত। গত ৫ বছর ধরে এ বিষয়ে আমি জাতীয় সংসদসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন-নিবেদন জানিয়ে আসছি। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এ দাবিটি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে রাজধানীসংলগ্ন উপজেলা হয়েও আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ গ্যাস সুবিধা থেকে অন্যায্যভাবে বঞ্চিত। এ বিষয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম আলোচনার শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। তিনি বলেন, ইতিহাসের এ শ্রেষ্ঠ মানুষটির জন্ম না হলে আমরা অনেকেই এ মহান সংসদে আসতে পারতাম না। তাই জাতির পিতার প্রতি আমার আজীবনের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। একই সঙ্গে তাদের প্রতি জানাই আমার সশ্রদ্ধ সালাম, যাদের আত্মত্যাগে আমরা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি। পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, জাতীয় পার্টির প্রাণপুরুষ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামও আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। বিদ্যমান রাজনৈতিক অবস্থায় দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যার সুকঠিন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখতে দেশের কোটি কোটি মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধরে রাখতে এখন আমরা নিবেদিত কর্মীরাও কায়মনোবাক্যে তার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি। একই সঙ্গে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমাদের পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের প্রতিও গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে বিগত নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় তার কাছে আমি চিরঋণী। বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য হলেও তিনি আমাকে সবসময় ছোট বোনের মতো স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। তার অনেক উদ্যোগ আমাকে অনুপ্রেরণা জোগায়।

তিনি বলেন, আমার সঙ্গে নিশ্চয়ই আপনারাও একমত হবেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে জাতির সামনে বিশাল সম্ভাবনার রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছেন। রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে তাকে প্রতিটি পা সামনে বাড়াতে হচ্ছে। কিন্তু তার মূলমন্ত্র হল, যা ধরেন তা ধরার মতো করে ধরেন। সেখান থেকে তিনি পিছ-পা হন না। তাই দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনাসহ তিনি যেসব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছেন। সেজন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই।

এ সময় নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১ আসনের দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা আমাকে নির্বাচিত করে এ মহান সংসদে তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য পাঠিয়েছেন, সর্বোপরি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter