প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা

জঙ্গী ও জঙ্গীদের পৃষ্টপোষকদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে

  সংসদ রিপোর্টার ২৪ জুন ২০১৮, ২৩:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

বাজেট
ছবি: যুগান্তর

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ সালের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, সরকারের মেয়াদ শেষে সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। আর সেই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির বিজয়ের মাধ্যমে জঙ্গী ও জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে।

রোববার জাতীয় সংসদে এই আলোচনা চলাকালে সভাপতিত্ব করেন প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

আলোচনায় অংশ নেন জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সুবিদ আলী ভূঁইয়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ, মো. আব্দুল লতিফ, গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন, মাহফুজুর রহমান, সিমিন হোসেন রিমি, শফিকুল ইসলাম শিমুল, ডা. হাবিবে মিল্লাত ও মো. মনিরুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াছিন আলী, বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, নাসরিন জাহান রত্মা ও রওশন আরা মান্নান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়ার কোন সক্ষমতা ছিল না, স্বপ্নও ছিল না। শুধুই ছিল ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সক্ষমতা, স্বপ্ন ও ভিশন আছে বলেই দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সর্বত্র। দেশের মানুষের হাতে হাতে এখন মোবাইল, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট। গ্রামের মানুষের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

হাসানুল হক ইনুর ভাষ্য, বর্তমান সরকার খালেদা জিয়ার মতো হাওয়া ভবন বানায় না, দুর্নীতি করে না, বিদেশের ব্যাংকে লুটের টাকা ভরে না। বিএনপি-জামায়াত হচ্ছে অন্ধকারের অশান্তির শক্তি। অন্যদিকে শেখ হাসিনা হচ্ছে উন্নয়ন ও শান্তির দূত।

এখন দেশের জনগণকেই ঠিক করতে হবে তারা কোন শক্তির সঙ্গে থাকতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার জঙ্গীদের যেমন কোন ছাড় দিচ্ছে না, তেমনি দুর্নীতিবাজ-লুটেরাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে দমন করতে হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, কারো জন্য অপেক্ষা নয়, যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। আর নির্বাচনী ফলাফলে জঙ্গীদের সঙ্গীকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মানুষ অগ্নি সন্ত্রাস-জঙ্গী সন্ত্রাস পছন্দ করে না। সরকার তা রুখে দিয়েছে। এই সরকার নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলো। এক্ষেত্রে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছেছি। এভারেস্ট জয় করেছে বাংলাদেশের নারীরা।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখন উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে মানবতার এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। আর এজন্য সকল প্রশংসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি ইতোমধ্যে মাদার অব হিউম্যানিটি খেতাব পেয়েছেন। তেমনিভাবে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে সক্ষমতার জানান দিয়েছে।

উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, একাত্তরের ঘাতকরা জিয়া-মোশতাকের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্বাধীনতার মূল্যবোধকেই ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে দেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে এনেছি।

তার মতে, দেশ যখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি মহল নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত করার চক্রান্ত চলছে।

রাজনৈতিক নয়, চুরি অর্থাৎ এতিমের টাকা আত্মসাত করায় খালেদা জিয়া জেলে রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের অগ্নিসন্ত্রাসের চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দেয়া হবে।

বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বর্জনের নামে সারাদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমার দল বিএনএফ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এ কারণে দেশ সাংবিধানিক সংকট থেকে রক্ষা পেয়েছে, দেশের এতো উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে প্রয়োজন পড়বে তাকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াছিন আলী বলেন, বাজেটে এমপিওভুক্তি নিয়ে বরাদ্দ পর্যাপ্ত না থাকায় আমরা সবাই হতাশ। বেসরকারি শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। চাহিদা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত করা না গেলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে।

জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, আর্থীকখাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করলে এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যাংক লুট ও পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির কোনো কথা বাজেটে নেই।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter