ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন আর নেই

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৭:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন
ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

বায়ান্নর ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন আর নেই। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন।

৮৬ বছর বয়সী এই ভাষাসৈনিক হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, রক্তদূষণের মতো নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার দুপুরে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের পর তাকে প্রথমে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে এই হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ফাতেমা বেগমের অধীনে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান সাগুফা আনোয়ার জানান, ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন হাসপাতালের প্রধান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মমিনুজ্জামানের অধীনে ভর্তি ছিলেন।

হালিমা খাতুনের নাতনি অন্তরা বিনতে আরিফ (প্রপা) সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার প্রথমে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্লাডের সেপটিকসেমিয়া, আর ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হওয়ায় স্যালাইন আর ব্লাড দেয়া শুরু করেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার রাত থেকে তার ইউরিন কমতে থাকে। শনিবার সকালে তার রক্তবমি হয়। গণস্বাস্থ্যের সিসিইউ তেমন মানসম্মত না হওয়ায় তাকে আমরা ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে আসি।

ভাষা সৈনিক হালিমা খাতুন ১৯৩৩ সালের ২৫ আগস্ট বাগেরহাট জেলার বাদেকাড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলবী আবদুর রহিম শেখ এবং মা দৌলতুন নেসা। হালিমা খাতুনের একমাত্র মেয়ে আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী। তিনি এখন মায়ের পাশেই রয়েছেন।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনমোহিনী গার্লস স্কুল, বাগেরহাট প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে লেখাপড়া শেষে হালিমা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন।

১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্দান কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর পিএইচডি করেন। ১৯৫৩ সালে খুলনা করোনেশন স্কুল এবং আরকে গার্লস কলেজে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবনের সূচনা। কিছুদিন রাজশাহী গার্লস কলেজে অধ্যাপনার পর যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে। এখান থেকেই ১৯৯৭ সালে অবসর নেন তিনি। এছাড়াও জাতিসংঘের উপদেষ্টা হিসেবেও দুই বছর দায়িত্বপালন করেন তিনি।

ভাষা আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা এবং সাহিত্যে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক ভাষাসৈনিক সম্মাননা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সময় প্রায় ৩৪টি পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৬ জুলাই থেকে হালিমা খাতুন গণবিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বপালন করেন। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে হালিমা খাতুন জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। বাংলা ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামেও তিনি জড়িয়ে পড়েন তখন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরের আমতলায় সমাবেশে তিনি জড়ো করেন ছাত্রীদের। মুসলিম গার্লস স্কুল ও বাংলা বাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের আমতলায় নিয়ে এসেছিলেন তিনি।

১৪৪ ধারা ভেঙে প্রথম বের হওয়া মিছিলে মেয়েদের দলে জুলেখা, নূরী, সেতারার সঙ্গে সারিতে ছিলেন হালিমা খাতুন। মিছিলে গুলি চালায় পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। সেখানে ছাত্ররা হতাহতদের ছবি যে তুলে রেখেছিলেন সেগুলো তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরে সে ছবিটা বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন তারা।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter