রিমান্ডে রাশেদ

কোটাসংস্করণ আন্দোলনের টাকা আসে বিকাশ-রকেটে

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৮, ২১:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

কোটাসংস্করণ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান। ফাইল ছবি

কোটাসংস্করণ আন্দোলনের টাকা আসত বিকাশ এবং রকেট অ্যাকাউন্টে। এই টাকা পাঠানো হতো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। এর মধ্যে ১৫টি বিকাশ এবং ৫টি রকেট অ্যাকাউন্ট। 

রিমান্ডে থাকা কোটাসংস্করণ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান রিমান্ডে এ তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেছে ডিবি পুলিশ। 

কোটাসংস্করণ আন্দোলনের এই নেতাকে শাহবাগ থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা একটি মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড নিয়েছে ডিবি। 

ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এ ২০টি অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা এসেছে এবং কোথায় থেকে এসেছে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিকাশ এবং রকেট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। 

মঙ্গলবার ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছে। 

নাজমুল ইসলাম জানান, রাশেদ খাঁনের কাছে ১৫টি বিকাশ এবং ৫টি রকেট অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। যেসব অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে। সেখানে আন্দোলন পরিচালনার জন্য টাকা আসত। ওই টাকা দিয়ে তারা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করত। 

ডিবির এ কর্মকর্তা আরও জানান, কোটাসংস্করণ আন্দোলনে শলাপরামর্শ হতো ফেসবুক গ্রুপে। গ্রুপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হতো। সে অনুযায়ী পরের দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা ঘোষণা করা হতো। আর গৃহীত এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যে টাকার প্রয়োজন তা বিকাশ এবং রকেট অ্যাকাউন্টে আসত।
 
সাইবার ক্রাইম ইউনিটির এডিসি নাজমুল ইসলাম আরও জানান, কর্মসূচি দেয়ার আগে তারা ফেসবুক গ্রুপ অ্যাম্বাসেডর, অ্যাকটিভিস্ট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামের তিনটি ফেসবুক গ্রুপে আলাপ-আলোচনা করত। গ্রুপের আলোচনা অনুযায়ী তারা কর্মসূচি ঘোষণা করত। 

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের এ ধরেনের প্রায় ২০টি গ্রুপ রয়েছে। যেখানে আন্দোলন সম্পর্কে আপডেট তথ্য সরবরাহ করা হতো। এই ২০টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে রাশেদ খাঁন ৫টির অ্যাডমিন ছিল। 

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, আন্দোলনের জন্য তারা সারা দেশ থেকে বাছাই করে ২০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। 

টাকা কোথায় থেকে আসত জানতে চাইলে এডিসি নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে টাকা পাঠানো হতো। তবে বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য আমরা বিকাশ এবং রকেট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি। তারা তথ্য দিলে আমরা জানাতে পারব টাকার প্রকৃত উৎস কোথায়।