সংবাদ সম্মেলনে রেডক্রস প্রেসিডেন্ট

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন

  কূটনৈতিক রিপোর্টার ০৩ জুলাই ২০১৮, ২১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

রেডক্রস প্রেসিডেন্ট
রেডক্রস প্রেসিডেন্ট। ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কিছু অগ্রগতি আছে বলে মনে করেন ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রস’ (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা।

তিনি বলেন, মিয়ানমার এই সংকটকে স্বীকার করে নিয়েছে। স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি নিজেই এটা যে গভীর সংকট তা স্বীকার করেছেন। সংকট নিরসনে তাদের অঙ্গীকারও আছে। এই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

মাউরা মঙ্গলবার ঢাকায় আইসিআরসি অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শনিবার প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসেন। তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছেন।

আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে রাজনৈতিক নেতাদের কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানোর জন্যে অনেক কিছু করার এখনও বাকি আছে। কারণ রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে যেতে আগ্রহী নন। রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সংহতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এটা রাজনৈতিকভাবে করতে হবে। মানবিক সংস্থা হিসাবে আইসিআরসির এই কাজের ম্যান্ডেট নেই।

আইসিআরসি একমাত্র আন্তর্জাতিক সংস্থা যাদের রাখাইন রাজ্যে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে মিয়ানমার।

তিনি বলেন, আমরা রাখাইনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে একত্র করার চেষ্টা করছি। তবে সংহতি প্রতিষ্ঠার কাজ মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের। জাতিসংঘ রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ফোকাস করছে। জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবার বাংলাদেশ সফর করে ব্যাপক ও বিস্তৃত সাড়া দিয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে এখন কতজন রোহিঙ্গা অবশিষ্ট আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই সংখ্যা জানা নেই। তবে আইসিআরসি রাখাইনে এ পর্যন্ত দুই লাখ ৫০ হাজার মানুষকে সহায়তা দিয়েছে। তারা সবাই রোহিঙ্গা নয়। তাদের মধ্যে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকও আছেন।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্যে বর্তমানে যে পরিমাণ সাহায্য আসছে তা যথেষ্ট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাহায্য পর্যাপ্ত নয়। রোহিঙ্গাদের জন্যে আইসিআরসি খাদ্য, পানিয় ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। তবে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দিয়ে বেশি দিন চালানো সম্ভবও নয়। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকল্প ও জীবিকায়নের প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি।

আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ অপরাপর নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উত্তর রাখাইন-সংক্রান্ত ইস্যু এবং আইসিআরসির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

রাখাইনের সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি সবার জন্যেই ক্ষতিকর। সেখানে গ্রাম ধ্বংস হয়েছে। বসতি ধ্বংস হয়েছে। কক্সবাজার অঞ্চল একটি ঘনবসতি অঞ্চল। বিপুল রোহিঙ্গার কারণে সেখানে নানা সমস্যা হচ্ছে।

তিনি জানান, আইসিআরসির এটা বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তম ত্রাণ অপারেশন। অনেক রোহিঙ্গা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের ত্রাণের অভিযানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

পিটার মাউরা বলেন, জরুরি ত্রাণ সেবা খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উচিত নয়, সম্ভবও নয়। রোহিঙ্গাদের উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োজিত করতে হবে। এটা না করা হলে বাংলাদেশ কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেউই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উপায়ে এই অভিযান পরিচালনা করতে পারবে না। এটাই হলো এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter