একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক বাড়ছে রোহিঙ্গা শিবিরে

  যুগান্তর ডেস্ক ০৫ জুলাই ২০১৮, ১৪:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা
ছবি: রয়টার্স

কয়েক দফা অজ্ঞাত হত্যাকাণ্ডের পর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কয়েক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডে দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের জন্ম নিয়েছে।

কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বছরের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে তারা গাদাগাদি করে বসবাস করছেন।

এখন পর্যন্ত ১৯ রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। যাদের অধিকাংশই ছিলেন সম্প্রদায়টির নেতা।

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য অস্পষ্টই থেকে যাচ্ছে।

অন্ধকার নেমে আসার পর হঠাৎ করে পিস্তল, ছোরা ও লাঠি হাতে কয়েকজন ব্যক্তি এসে হামলা চালিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। এতে আশ্রয় শিবিরের রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক ধরনের শীতল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, দিনেরবেলায় আশ্রয় শিবিরগুলোতে সেনাবাহিনী পাহারা দেয়। কিন্তু রাত নামলে সেখানে অল্প কয়েকজন পুলিশ থাকে।

কক্সবাজারের পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট একেএম ইকবার হোসেইন বলেন, শরণার্থীদের নিরাপত্তায় ২ হাজার ৪০০ লোকের একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুপারিনটেনডেন্ট আফরুজুল হক টুটুল বলেন, পুলিশের সংখ্যা ইতিমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। ১০ লাখ লোকের জন্য এক হাজার পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। বিষয়টি আপনি কল্পনা করতে পারেন।

আগস্টের অভিযান শুরু হওয়ার আগেও কক্সবাজারে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিলেন। এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও দ্রুত বর্ধমান শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার।

আগস্টের আগেও সেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সাহায্য কর্মীরা বলেন, আশ্রয় শিবিরের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্যই ওই সহিংসতা।

বালুখালী আশ্রয় শিবিরের বাইরে একটি ব্যস্ত সড়কে গত মাসে ৩৫ বছর বয়সী আরিফুল্লাহ নিহত হয়েছেন। সেখানে তিনি কয়েক হাজার রোহিঙ্গাদের নেতা ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ জুন সন্ধ্যায় একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে ২৫ বার ছুরিকাঘাত করেছে। পর দিন সকালেও সেখানে জমাট বাঁধা রক্ত দেখা গেছে। রোহিঙ্গাদের ওই রক্ত ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

আরিফুল্লাহর হত্যার ঘটনায় তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত আরিফুল্লাহ ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। মিয়ানমারের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হয়ে তিনি কাজ করেছেন। আশ্রয় শিবিরে পরিদর্শনে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি কথা বলতেন।

নাম প্রকাশ ও নিজের অবস্থান না জানিয়েই তার স্ত্রী বলেন, তিনি হামলার ভয়ে আছেন। আরিফুল্লাহ রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সমালোচক ছিলেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে লড়াই করার দাবি করে আসছে আরসা।

পুলিশ বলছে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে। এতে আরসা জড়িত বলে কোনো তথ্য তারা পাননি।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে আরসার মুখপাত্র রয়টার্সকে তাদের ৩১ জানুয়ারির বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন। সেখানে বলা আছে, আশ্রয় শিবিরে তৎপরতার জন্য অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দায়ী। সুনাম নষ্ট করতেই তারা আরসার নাম ব্যবহার করছে।

আরসা জানায়, তারা বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা চালায় না। আশ্রয় শিবিরের কোনো হত্যাকাণ্ডে তারা জড়িত নয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ।

ইউসুফ নামে ইংরেজি ভাষায় কথা বলা আরেক রোহিঙ্গা নেতাও হত্যার শিকার হয়েছেন।

আশ্রয় শিবিরের সামনে কাদামাটির মেঝেতে বসে তার স্ত্রী জামিলা বলেন, টিয়াখালী আশ্রয় শিবিরে দুই সন্তানকে নিয়ে তার স্বামী মোবাইল ফোনে ফুটবল খেলা দেখছিলেন। এ সময়ে ১০-১২ জন লোক ছোরা ও অস্ত্র নিয়ে ঝড়ো গতিতে তাদের আশ্রয় শিবিরে ঢুকে পড়ে এবং তাকে দুবার গুলি করে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, সন্দেহজনক হত্যাকারীদের নাম দিয়ে পুলিশ তাকে মামলা করতে বলেছে। কিন্তু তিনি মামলা করতে যাননি। প্রতিশোধের ভয়ে তিনি আশ্রয় শিবির থেকে বের হয়ে আদালতে যেতে চাননি।

তিনি বলেন, আমি সন্তানদের নিয়ে ভয়ে ছিলাম। ইউসুফের হত্যা ঘটনাটির বিস্তারিত নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট টুটুল।

তিনি বলেন, শরণার্থীরা নাম বলতে চাচ্ছেন না। সে জন্য তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আগস্টে রোহিঙ্গা ঢল নামার পর হত্যা, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৩০০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে।

বালুখালী ও টিয়াখালীর ক্যাম্প নেতারা বলেন, রাতে পাহারা দিতে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু কোনো বিনিময় না পাওয়ায় তারা কাজ করছেন না।

বিদেশি কর্মকর্তারা বলেন, আশ্রয় শিবিরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা হতাশাজনক। রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মুর বলেন, এ পর্যন্ত সহকর্মীদের কাছ থেকে যা শুনেছি, তা সত্যিই উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, যখন আপনার কাছে বিপুলসংখ্যক দরিদ্র লোক থাকছে, তখন তা সত্যিকার অর্থে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.