কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদের ফের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ১৬:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। ফেসবুক থেকে নেয়া ছবি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-আইসিটি আইনের মামলায় গ্রেফতার কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের এসআই সজীবুজ্জামান এ আবেদন করেন। 

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে গত ২ জুলাই রাশেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন ঢাকার সিএমএম আদালত।

গত ১ জুলাই দুপুরে মিরপুর-১৪ নম্বরের ভাষানটেক বাজার এলাকার মজুমদার রোডের ১২ নম্বর বাসা থেকে রাশেদকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।

পরে শাহবাগ থানায় করা আইসিটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। মামলাটি দায়ের করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়।

মামলার নথিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন, যা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়াধীন। এরপরও গত ২৭ জুন রাশেদ খান ‘কোটা সংস্কার চাই’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে ভিডিও লাইভে এসে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর বক্তব্য ও মিথ্যা তথ্য দেন।

উল্লেখ্য, চাকরিতে কোটাপ্রথা বাতিল করে সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়ন না করায় গত ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ সাত শিক্ষার্থী আহত হন।

হামলার প্রতিবাদে ২ জুলাই বিক্ষোভ মিছিল করতে এসেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আবার হামলার শিকার হন তারা। এ ছাড়া অনেকেই গ্রেফতার হন।

তবে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাশেদসহ অন্যদের মুক্তির দাবিতে জানিয়ে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

আজ রোববারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাশেদ খানের মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলকারীদের বিচার ও আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।