সাংবাদিকদের কানাডার বিশেষ দূত

রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে দেখতে হবে

  কূটনৈতিক রিপোর্টার ০৯ জুলাই ২০১৮, ২০:২২ | অনলাইন সংস্করণ

বব রে
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বব রে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। এই সংকটে আন্তর্জাতিক উপাদান রয়েছে।

এটা স্বীকার করতে হবে যে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই সংকটকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের আলোকে দেখা প্রয়োজন। রোহিঙ্গা সংকট সুরাহায় কাজ করা বাংলাদেশের একার দায়িত্ব নয়।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিধায় তাদের নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে সেখানে ফেরত পাঠানোই সংকটের সমাধান। এ জন্যে প্রয়োজন রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সোমবার ঢাকায় কানাডা ক্লাবে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এই অভিমত ব্যক্ত করেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গত বছরের ২৩ অক্টোবর বব রে’কে কানাডার মিয়ানমার-সংক্রান্ত বিশেষ দূতের দায়িত্ব প্রদান করেন।

তারপর তিনি বিভিন্ন সময়ে এই অঞ্চলে সফর করেন। তার ভিত্তিতে তিনি একটি প্রতিবেদনও কানাডার সরকারের কাছে দিয়েছেন। তিনি রোববার তিন দিনের বাংলাদেশ সফরকালে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে অধিক নিরাপত্তা যাতে পেতে পারেন, সব আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সেদিকে মনোযোগী হতে হবে। রাখাইনে এখন যেসব রোহিঙ্গা আছেন, তারাও বেশ খারাপ অবস্থায় আছেন।

আমার আশা, রোহিঙ্গা তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। তবে তাদের এই ফিরে যাওয়া হতে হবে মর্যাদার সঙ্গে। মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক অধিকার স্বীকার করতে হবে’।

কানাডার বিশেষ দূত বব রে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন থেকে এসেছেন। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছি, আপনাদের বাড়ি কোথায় ?

তারা বলেছেন, রাখাইন। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছি, আপনারা কি বাংলাদেশের বাসিন্দা? তারা বলেছেন, না না আমরা রাখাইনের বাসিন্দা’।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা এভাবে পড়ে থাকলে একসময় জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যেতে পারেন। ফলে তাদের শিক্ষা ও জীবিকায়নে কাজে লাগাতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে তিনি কয়েকটি সুপারিশ করেছেন যার মধ্যে আছে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য শোনা, অপরাপর জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপ, মানবিক পরিস্থিতি প্রভৃতি।

জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করায় বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেছে। জাতিসংঘের আওতায় মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে চীন ও রাশিয়া রাজি নয়।

এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বাইরে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা জানতে চাইলে বব রে বলেন, বর্বরতার সঙ্গে জড়িত সেনাদের ওপর কানাডা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

আমরা মিয়ানমারের কাছে কোনও সমরাস্ত্র বিক্রি করব না বলে দিয়েছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একই রকমের অ্যাকশন নিয়েছে।

তার চেয়েও কঠোর পদক্ষেপ হতে পারে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ। কিন্তু মুশকিল হলো, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে চীন, রাশিয়াসহ কিছু কিছু আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের কারণে তা সফল হবে না।

তিনি বলেন, মিয়ানমারকে জবাবদিহির মধ্যে আনা জরুরি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে জবাবদিহি করা যায়। তবে এই কাজটি সহজ নয় আবার অসম্ভবও নয়।

আইসিসি যে কারও বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে পারে। সেটা গেরিলা গ্রুপ হোক, সশস্ত্র বাহিনী হোক কিংবা রাষ্ট্র হোক সবাইকে জবাবদিহি করা সম্ভব।

কানাডার বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গারা বিশ্বে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রহীন জাতি। তাদের মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। রাখাইনকে তাদের বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তোলতে হবে।

সেখানে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির আগে আমরা কাউকে সেখানে পাঠাতে পারি না। তাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তাসহ সব অধিকার না দিয়ে পাঠালে একই পরিস্থিতি বারবার সৃষ্টি হবে। আবার তারা ফিরে আসবে। তাই রাখাইনে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.