মিয়ানমারের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে জাতিসংঘ

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ জুলাই ২০১৮, ২১:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

টিআইবি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমার সরকার এবং জাতিসংঘের ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআরের মধ্যে সম্পাদিত গোপন সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অবিলম্বে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ) শেখ মনজুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্যমতে উল্লিখিত সমঝোতা স্মারক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাচল ও ‘মিয়ানমারের স্বাধীন নাগরিক’ হিসেবে তাদের অধিকার লাভের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এ ধরনের চুক্তি বাস্তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে পদদলিত করে তাদের চিরতরে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই গোপন সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করায় প্রত্যাবাসনসহ সার্বিকভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতন বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, যা মিয়ানমারে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং লির সাম্প্রতিক সময়ে বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।

ড. জামান বলেন, সম্পাদিত এই গোপন সমঝোতা স্মারক এবং তা প্রকাশে লুকোছাপা ও গড়িমসি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সফরে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও পরস্পরবিরোধী; যেখানে তিনি ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের আদি নিবাসী’ উল্লেখ করে অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে তাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নেয়ার এবং সংঘটিত অপরাধের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এই ধরনের স্ববিরোধী ও নীতিবিবর্জিত গোপন সমঝোতা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে জাতিসংঘের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘের আন্তরিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বেশ আগেই তাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যা সংঘটিত হতে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে আগাম একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন জাতিসংঘের মিয়ানমার মিশন কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধামাচাপা দেয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মতো জাতিগত নিধনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ থেকে বরং বাস্তবে নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে পুঁজি করে অর্থ সহায়তার সুবিধা অন্বেষণ জাতিসংঘের উদ্দেশ্য কী না এ প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের উচিত এসব প্রশ্নের উত্তরসহ মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও ইতিপূর্বে গোপনকৃত বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রকাশ করা।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter