কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ কারাগারে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ জুলাই ২০১৮, ২১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ। ফাইল ছবি

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ রাশেদ খানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর আসামির জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

অপরদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অপর নেতা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল ইসলামকে কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. গোলাম নবী এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৮ জুলাই কোটা সংস্কার নিয়ে ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ৫ দিন এবং আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসায় ভাঙচুরের অপর মামলায় রাশেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ড শেষে এদিন রাশেদকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপরদিকে রাশেদের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়।

জামিন শুনানিতে রাশেদের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম, নূর উদ্দিন, জাইদুর রহমান আদালতকে বলেন, রাশেদকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য হলেও তার জামিন জরুরি। রাশেদ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, জামিন দিলে সে পলাতক হবে না। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রাশেদের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

অপরদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অপর নেতা মো. সোহেল ইসলামকে কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবী জাইদুর রহমান।

শুনানিতে তিনি বলেন, গত ১১ জুলাই গ্রেফতার হয়ে সোহেল কারাগারে রয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তার দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ হয়েছে, যা ১৫ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলমান থাকবে। শুনানি শেষে আদালত কারাবিধি অনুসারে সোহেলকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সোহেল।

সূত্র আরও জানায়, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শতাধিক মুখোশধারীরা উপাচার্যের বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র লোহার রড, পাইপ, হেমার, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে উপাচার্যের বাড়ির ওয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।

দুষ্কৃতকারীরা ঐতিহ্যবাহী ভবনে সংরক্ষিত মূল্যবান জিনিসপত্র, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ সকল মালামাল ভাঙচুর করে। ভবনে রক্ষিত দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ভবনে রক্ষিত সিটি ক্যামেরা ভাঙচুর করে ও আলামত নষ্টের জন্য কম্পিউটারে রক্ষিত ডিভিআর পুড়িয়ে দেয়।

এতে কমপক্ষে দেড়কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ১০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অফিসার এসএম কামরুল আহসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের মামলা করেন। এ ছাড়া একই সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাস্তা বন্ধ করে টায়ার ও আসবাবপত্র জ্বালানোসহ নাশকতা সৃষ্টি এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় আরও তিনটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

তবে কোনো মামলার এজাহারেই আসামির নাম উল্লেখ নেই। অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলাই রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়।

এছাড়া কোটা সংস্কার নিয়ে ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে রাশেদের বিরুদ্ধে চলতি মাসের ১ জুলাই তথ্যপ্রযুক্তি আইনে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter