হলি আর্টিজান হামলা : অবশেষে অপবাদমুক্ত নিহত বাবুর্চি সাইফুল চৌকিদার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ জুলাই ২০১৮, ২১:২২ | অনলাইন সংস্করণ

হলি আর্টিজান হাম, ছবি সংগৃহীত
হলি আর্টিজান হাম, ছবি সংগৃহীত

অবশেষে জঙ্গির অপবাদমুক্ত হলেন হলি আর্টিজান বেকারির নিহত বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। ওই রেস্টুরেন্টটিতে হামলায় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা সাইফুলের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দুই বছর পর হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও তদন্ত শেষে এ কথা জানিয়েছে পুলিশের সন্ত্রাস দমন ইউনিটি সিটিটিসি।

সোমবার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসে হলি আর্টিজান বেকারিতের হামলায় সাইফুল চৌকিদারের সম্পৃক্ততা না পাওয়ার কথা জানান সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম।

২০১৬ সালের ১ জুলাই আর্টিসানে জঙ্গিদের হামলায় ১৭ বিদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন মারা যান।

এরপর হামলায় নিহত পাঁচ জনের লাশের ছবি প্রকাশ করে পুলিশ জানায় তারা হামলাকারী।

এর মধ্যে হলি আর্টিজানের বাবুর্চি সাইফুল চৌকিদারের ছবিও ছিল। নিহত হওয়ার আগে তিনি দেড় বছর হলি আর্টিজানে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করছিলেন। মৃতদেহের গায়ে বাবুর্চির পোশাক পরা ছিল।

পাঁচ নিহতদের মধ্যে সাইফুলের পোশাকের এ ভিন্নতার কারণে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই হামলায় তার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এদিকে জঙ্গি সংগঠন আইএস গুলশানে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করার পর ইন্টারনেটে হামলাকারী হিসেবে যে পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করা হয় তার সঙ্গে পুলিশের সরবরাহ করা সব ছবি মিল পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পাঠানো ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা ব্যক্তিকে সাইফুল বলে শনাক্ত করেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় থাকা তার পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, সাইফুল নড়িয়ার উপজেলার কলুকাঠি গ্রামের মৃত আবুল হাসেম চৌকিদারের ৫ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তার ছোট ভাই বিল্লাল মালয়েশিয়ায় থাকেন। তিন বোনের সবাই শ্বশুরবাড়িতে থাকেন।

দীর্ঘ ১০ বছর সাইফুল জার্মানি থাকার পরে দেশে ফিরে আসেন। এরপর তিনি দেড় বছর ধরে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে পিৎজা তৈরির কুক হিসেবে কাজে যোগদান করেন।

তবে সাইফুলকে জঙ্গি নয় দাবি করে তার মরদেহ স্বজনরা গ্রামের বাড়ি নিয়ে দাফন করতে চাইলেও পুলিশ তাতে সাড়া দেয়নি।

পরে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গির নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মুবাশীর, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, খায়রুল ওরফে খায়রুজ্জামান ও শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ওরফে বিকাশের লাশের সঙ্গে সাইফুলকেও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তবে ঘটনার দুই বছর পর পুলিশের সন্ত্রাস দমন ইউনিট সিটিটিসির তদন্ত প্রতিবেদনেই হলি আর্টিজানের বাবুর্চি সাইফুল চৌকিদারের জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter